খুঁজুন
বুধবার, ৪ঠা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলাম

দক্ষ আইনজীবী পেতে আইন শিক্ষার মানোন্নয়নে এখনই গোড়ায় হাত দিতে হবে

এস এম নুরে এরশাদ সিদ্দিকী
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
দক্ষ আইনজীবী পেতে আইন শিক্ষার মানোন্নয়নে এখনই গোড়ায় হাত দিতে হবে

দক্ষ আইনজীবী পেতে হলে আইন শিক্ষার মানোন্নয়নে হাত দিতে হবে। ল’ কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে জাতীয়ভাবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করতে হবে এবং সকল আইনের শিক্ষার্থীর জন্য ৪ বছর মেয়াদী এলএল.বি (অনার্স) কোর্স বাধ্যতামূলক করতে হবে। ল’ কলেজগুলোকে “স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের” অধিভুক্ত করার মতো উচ্চতর চিন্তা করতে হবে। কেউ ৩ বছর মেয়াদী, কেউ ৪ বছর মেয়াদী ল’ পড়বে; কেউ কোচিং সেন্টারের মতো ক্লাস করেই আইন পাশ এসব বন্ধ করতে হবে। ল’ কলেজগুলোতে স্থায়ীভাবে আইনের শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। ল’ কলেজে যারা ক্লাস নেয় কত টাকা বেতন পায় তারা, একবার ভেবেছি কেউ?

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের শিক্ষকদের কোর্ট প্রাকটিসের অভিজ্ঞতা নেই। ডাক্তারদের বেলায় দেখুন যারাই অধ্যাপক তারাই ডাক্তার। ক্লিনিক্যাল লিগ্যাল এডুকেশনে জোর দিতে হবে।

সঠিক পদ্ধতিতে পাশ করা একজন আইনের শিক্ষার্থী আইনজীবী হওয়ার জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে যেখানে প্রতি বছর কতজন শিক্ষার্থী আইনজীবী হবেন সেটা নির্দিষ্ট থাকতে হবে। উচ্চ আদালতে আইনজীবী পরীক্ষার ক্ষেত্রেও উত্তীর্ণদের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট থাকতে হবে। সম্প্রতি আইনজীবী হওয়ার ক্ষেত্রে অনেকে বয়স নির্ধারণের কথাও বলেছেন। এছাড়াও বার কাউন্সিল পরীক্ষায় বাংলাদেশ সংবিধানসহ যুগোপযোগী আইনগুলো সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। বার কাউন্সিল যেন কেবল ভোটার তৈরির কারখানা না হয়!

সর্বোপরি, সব পেশায় যেমন ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা আছে; তদ্রুপ আইনজীবীদের দেশে ও বিদেশে ট্রেইনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। আইন শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক আইনজীবী বাছাই ও পেশাগত ট্রেইনিং এই ৩ টির সমন্বয় ঘটলেই কেবল দক্ষ আইনজীবী পাওয়া সম্ভব। এজন্য গোড়ায় হাত দিতে হবে; এখনই।

লেখক: সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী ও স্পেশাল প্রসিকিউটর (ডেপুটি এটর্নি জেনারেল)

প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা, পদ হারালেন সেই সরকারি কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা, পদ হারালেন সেই সরকারি কর্মকর্তা

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব জেতী প্রু। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করেন মোহাম্মদ মসিউর রহমান। গত ১ নভেম্বর ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ উদ্যোগের আওতায় ঢাকার ছয়টি রুটে পরীক্ষামূলক বাস চলাচলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে মসিউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্লোগানটিকে হাদিস বললে অনেকে মনে করতে পারেন, পরবর্তী পোস্টিংয়ের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে তেল মারছেন। তবে তার মতে, এটি একটি শাশ্বত বাণী।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার আগে আমরা, সবার আগে দেশ—এ কথা কে অস্বীকার করতে পারবেন? স্বার্থপর, যার দেশপ্রেম নেই, সেই বলতে পারে, না, আমি মানি না। আমাকে বাদ দিয়ে আমরা সবাই মিলে থাকব, আর সবার আগে থাকবে দেশ। তারপরে “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এটা হাদিস, হাদিস। এটা শাশ্বত বাণী।’

মসিউর রহমান আরও বলেন, ‘এটা হুজুররা বললে হাদিস হয়ে যেত। তো ওনার মুখে দাড়ি নেই, টুপি পরেন না, এজন্য হাদিস হয়নি! এটা হাদিস।’

রাজনৈতিক স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা করে দেওয়া তার বক্তব্যের ভিডিও ও মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

‘নিজ স্ত্রীর সঙ্গে’ ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল, জামায়াত নেতার পদ স্থগিত

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
‘নিজ স্ত্রীর সঙ্গে’ ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল, জামায়াত নেতার পদ স্থগিত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মো. শহীদুল্লাহ্ (৪৬) নামের এক নেতার রুকনিয়াত সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

সোমবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জরুরি সভা ডেকে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে দলটির ময়মনসিংহ মহানগর শাখা।

মো. শহীদুল্লাহ্ নগরের নতুন বাজার থানা জামায়াতের রুকন পদে ছিলেন। দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় নওমহল এলাকার আল আরাবিয়া দাখিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত।

দলীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকাল থেকেই মো. শহীদুল্লাহ্‌র একটি আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমালোচনার জন্ম দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মহানগর জামায়াত জরুরি সভায় বসে এ সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মো. শহীদুল্লাহ্‌র দাবি, ছড়িয়ে পড়া দৃশ্যটি তার স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা সম্পূর্ণ পারিবারিক ও একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের। শত্রুতাবশত অজ্ঞাতপরিচয় কেউ তার মুঠোফোন থেকে ভিডিওটি হাতিয়ে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আগে থেকেই তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল এবং মোটা অঙ্কের অর্থও দাবি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসান বলেন, ভিডিওটি তার ব্যক্তিগত এবং স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা। বিষয়টি নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে আপাতত তার রুকনিয়ত স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছেন শহীদুল্লাহ। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম রব্বানী বলেন, ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে এক শিক্ষার্থীর বিষয়ে অভিযোগকারী তথ্য দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত ভিডিও অনুমতি ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি কে বা কারা ছড়িয়েছে এবং এর পেছনে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এমপিওভুক্ত কলেজে সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ণ
এমপিওভুক্ত কলেজে সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি এবং অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হওয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা পরিবর্তন করা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে সভাপতি হতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। স্নাতক ডিগ্রি থাকলেই এ পদে দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা অর্জন করা যাবে।

রবিবার (১ নভেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গভর্নিং বডি বা অ্যাডহক কমিটির সভাপতি এবং বিদ্যোৎসাহী সদস্য মনোনয়নের ক্ষেত্রে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১১ মার্চ জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পরিবর্তে স্নাতক ডিগ্রি করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, একজন ব্যক্তি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত দুটির বেশি কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি কিংবা বিদ্যোৎসাহী সদস্য মনোনীত হতে পারবেন না—এ শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

ব্রেকিং নিউজ