নারী অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মনোনীত হলেন রাজশাহীর হাবিবা খাতুন
বাংলাদেশ নারী অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন রাজশাহীর লড়াকু সংগঠক হাবিবা খাতুন।
গত ২৮ অক্টোবর গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) সভাপতি ও নারী অধিকার পরিষদের উপদেষ্টা নুরুল হক নুর এবং জিওপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও নারী অধিকার পরিষদের উপদেষ্টা হাসান আল মামুনের যৌথ স্বাক্ষরে ছয় মাস মেয়াদি এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
শিক্ষাজীবন ও শিক্ষাগত যোগ্যতা:
হাবিবা খাতুনের শিক্ষাজীবন শুরু হয় বশিরাবাদ দাওয়াতুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী কলেজ থেকে সমাজকর্ম (Social Work) বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা তাঁকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে আরও দক্ষ ভূমিকা পালনে সহায়তা করেছে।
রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচিতি:
হাবিবা খাতুন ছাত্রজীবন থেকেই অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সক্রিয়। তিনি বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, রাজশাহী মহানগরের সাবেক অর্থ সম্পাদক (২০২০), রাজশাহী জেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক (২০২১) এবং সিনিয়র সভাপতি (২০২৩) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন গণ-আন্দোলনেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে ২০২০ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, ২০২২ সালের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহীর রাজপথে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা থেকে হাবিবা খাতুন মনে করেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা কেবল সামাজিক বিষয় নয়; বরং এটি নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। নারীদের নেতৃত্বের বিকাশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে সমান অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করতে চান তিনি।
তিনি মনে করেন, নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হলে নারীদের শিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে তুলতে হবে। বিশেষ করে তরুণীদের নেতৃত্বে এগিয়ে আসার সুযোগ সৃষ্টি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নারীর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
নারী অধিকার পরিষদের নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর নেতৃত্ব বিকাশ এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে নারীর অধিকার, নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নের প্রশ্নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে চান রাজশাহীর এই সংগঠক।

আপনার মতামত লিখুন