খুঁজুন
সোমবার, ২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেবে না জনগণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৩ অপরাহ্ণ
আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেবে না জনগণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল। আমরা মনে করি, তারা কোনো দিন রাজনৈতিক দল ছিল না। তাদের ডিএনএর মধ্যে গণতন্ত্রের বীজ ছিল না। তারা স্বৈরতান্ত্রিক একটি মাফিয়া শক্তি ছিল। আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরতে চাইলেও দেশের জনগণ তা গ্রহণ করবে না

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট এসআই-২০২৬ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মুখে দলটির নেতারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, দলটির শাসনামলে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এ সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। এত মানুষের প্রাণহানির পরও দলটি ক্ষমা চায়নি বা দুঃখ প্রকাশ করেনি।

এর আগে সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে নবনিযুক্ত পুলিশ সার্জেন্ট ও সাব-ইন্সপেক্টরদের (এসআই) নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ভয়ভীতি ও পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে থেকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আইনি সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের পাশে থেকে সেবা দিয়ে নিজেদের সত্যিকারের জনগণের পুলিশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালো দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুলিশ বাহিনীর মনোবল ফিরিয়ে আনা, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, জনবল বৃদ্ধি এবং যানবাহনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বাড়ানোর কাজ চলছে। পুলিশে এসপি, সাব-ইন্সপেক্টর, অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর ও কনস্টেবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে।

তিনি আরও বলেন, অপরাধ সংঘটিত হলে তা শনাক্ত করা, আসামি গ্রেপ্তার, তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে পুলিশ কাজ করছে। দুয়েকটি ব্যতিক্রম থাকতে পারে। পুলিশ সদস্যদের ভালো কাজের জন্য পুরস্কার এবং অপরাধ বা শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা চালু রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন ও নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বোমা হামলা কিংবা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে আরও অনেক দূর যেতে হবে।

পাহাড়ে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা

পার্বত্য অঞ্চলের পরিস্থিতি সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সেখানে সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রয়েছে। মাঝেমধ্যে কিছু ঘটনা ঘটলেও সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনী শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।

ছাত্রদল নেতা হত্যায় ছাড় নয়

নাটোরে ছাত্রদলের এক নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। সংসদ সদস্যের সন্তান হলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। অপরাধের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য, কুচকাওয়াজে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচের ৮৪ জন এবং ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের ১৬২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং প্রশিক্ষণে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী আটজনকে পুরস্কার দেন।

প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষানবিশ সার্জেন্টরা নিজ নিজ ইউনিটে যোগ দেবেন। আর ক্যাডেট এসআই ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীরা শিক্ষানবিশ এসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত হবেন।

ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন শুরু আজ, ফি ৮-১০ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ
ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন শুরু আজ, ফি ৮-১০ হাজার টাকা

ঢাকাসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় আজ সোমবার থেকে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার রিকশার (ই-রিকশা) নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এতে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আট থেকে ১০ হাজার টাকা। তবে বর্তমানে রাস্তায় চলাচলরত রিকশা এখনই বন্ধ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

রবিবার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপাতত চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগবে না। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে আটটি জোন করা হবে। প্রতিটি জোনের রিকশার জন্য থাকবে আলাদা রঙ। ফলে এক জোনের রিকশা অন্য জোনে চলতে পারবে না।

নতুন বিধিমালা প্রকাশের পর ই-রিকশার চালকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে নিবন্ধন দেওয়া হবে। বৈধ বা অবৈধ রিকশাগুলো আপাতত চলবে। অবৈধ রিকশা অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের কিছুটা সময় দিতে হবে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচলে বিধিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি থেকে পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন করা যাবে।

মীর শাহে আলম বলেন, জোনভিত্তিক রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে এক এলাকার রিকশা অন্য এলাকায় যেতে না পারে। কোন জোনে কতগুলো রিকশা চললে যানজট তৈরি হবে না, তা ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে নির্ধারণ করবে।

বিধিমালা অনুযায়ী যেসব সড়কে বাস চলাচল করে, সেসব সড়কে ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

বিধিমালা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার টাকা। এক বছর পর ফিটনেস যাচাই করে নবায়নের জন্য দিতে হবে চার হাজার টাকা। অন্যদিকে চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা। এক বছর পর ফিটনেস যাচাই করে নবায়নের জন্য ফি দিতে হবে পাঁচ হাজার টাকা। এভাবে সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত এসব ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে।

ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে জোনভিত্তিক চলাচল, রুট নির্ধারণ এবং ই-রিকশার নির্দিষ্ট রঙ চূড়ান্ত করা হবে। ই-রিকশার নিবন্ধন নম্বর, মালিকের তথ্য, সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং কোন জোনে রিকশাটি চলাচল করতে পারবে, তা কিউআর কোডে থাকবে। চালকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে আপাতত পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা রাখা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপাতত চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। নিবন্ধন কার্যক্রম কিছুটা এগিয়ে গেলে এ বিষয়ে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। পর্যায়ক্রমে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।

ই-রিকশা নিবন্ধনের আগে বিদ্যমান যানবাহনগুলোকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী সংশোধন করতে হবে। এরপরই নিবন্ধন দেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বর্তমানে চলাচলকারী ই-রিকশাগুলোকে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে। উৎপাদনকারীদেরও অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করে যানবাহন তৈরি করতে হবে।

বিধিমালায় নির্দিষ্ট স্থানে এসব রিকশার জন্য চার্জিং স্টেশন স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জের ব্যবস্থা করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ই-রিকশা নিবন্ধন কত দিনের মধ্যে শেষ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর এক মাস পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আবার বসে অগ্রগতি জানানো হবে। ওই সময়ে কতগুলো রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে এবং অবৈধ রিকশা নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা তুলে ধরা হবে।

ভাড়া নির্ধারণের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালিকপক্ষ, ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে আলোচনা করে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করবে। তবে ভাড়া সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হবে।

স্পেনের মাদ্রিদে মসজিদ-মাদ্রাসার ভবন ক্রয়ে ১০ হাজার ইউরো অনুদান দিলেন ফরিদপুরের সরোয়ার হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
স্পেনের মাদ্রিদে মসজিদ-মাদ্রাসার ভবন ক্রয়ে ১০ হাজার ইউরো অনুদান দিলেন ফরিদপুরের সরোয়ার হোসেন

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে বায়তুল মোকাররম মসজিদের মাদ্রাসা ভবন ক্রয়ের জন্য ১০ হাজার ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ লাখ টাকা) নগদ অনুদান দিয়েছেন ফরিদপুরের কৃতী সন্তান ও স্পেনের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সরোয়ার হোসেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) তিনি এ অনুদান প্রদান করেন। স্পেনের মাটিতে ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসার এবং মাদ্রাসার ভবন ক্রয়ের উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় তাঁর এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্পেন বিএনপির সহ-সভাপতি ইউনুস আলী প্রামাণিকসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।

এ বিষয়ে একই গ্রামের বাসিন্দা জলিল মাতুব্বর বলেন, সরোয়ার হোসেন দেশে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে দান-অনুদানের পাশাপাশি স্পেনেও মানবিক ও সামাজিক কাজে সহযোগিতা করে থাকেন। এ ছাড়া তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছেন।

সরোয়ার হোসেনের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের ৩২ নম্বর কোলপার মাতুব্বর বাড়ি (শেখবাড়ী) এলাকায়।

তাঁর এ মহতী উদ্যোগের জন্য স্থানীয় ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাঁকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। মহান আল্লাহ তাঁর এই দান কবুল করুন এবং উত্তম প্রতিদান দান করুন—এমন প্রত্যাশা সবার।

নারী অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মনোনীত হলেন রাজশাহীর হাবিবা খাতুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
নারী অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মনোনীত হলেন রাজশাহীর হাবিবা খাতুন

বাংলাদেশ নারী অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন রাজশাহীর লড়াকু সংগঠক হাবিবা খাতুন।

গত ২৮ অক্টোবর গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) সভাপতি ও নারী অধিকার পরিষদের উপদেষ্টা নুরুল হক নুর এবং জিওপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও নারী অধিকার পরিষদের উপদেষ্টা হাসান আল মামুনের যৌথ স্বাক্ষরে ছয় মাস মেয়াদি এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

শিক্ষাজীবন ও শিক্ষাগত যোগ্যতা:

হাবিবা খাতুনের শিক্ষাজীবন শুরু হয় বশিরাবাদ দাওয়াতুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী কলেজ থেকে সমাজকর্ম (Social Work) বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা তাঁকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে আরও দক্ষ ভূমিকা পালনে সহায়তা করেছে।

রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচিতি:

হাবিবা খাতুন ছাত্রজীবন থেকেই অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সক্রিয়। তিনি বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, রাজশাহী মহানগরের সাবেক অর্থ সম্পাদক (২০২০), রাজশাহী জেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক (২০২১) এবং সিনিয়র সভাপতি (২০২৩) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন গণ-আন্দোলনেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে ২০২০ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, ২০২২ সালের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহীর রাজপথে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা থেকে হাবিবা খাতুন মনে করেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা কেবল সামাজিক বিষয় নয়; বরং এটি নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। নারীদের নেতৃত্বের বিকাশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে সমান অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করতে চান তিনি।

তিনি মনে করেন, নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হলে নারীদের শিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে তুলতে হবে। বিশেষ করে তরুণীদের নেতৃত্বে এগিয়ে আসার সুযোগ সৃষ্টি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নারীর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

নারী অধিকার পরিষদের নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর নেতৃত্ব বিকাশ এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে নারীর অধিকার, নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নের প্রশ্নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে চান রাজশাহীর এই সংগঠক।

ব্রেকিং নিউজ