খুঁজুন
সোমবার, ২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে উদ্যোগ, দুই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী নূর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৭ পূর্বাহ্ণ
দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে উদ্যোগ, দুই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী নূর

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দুই দেশের শ্রমবাজারে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে সিউলে পৃথক দুটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিত বৈঠক দুটিতে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, এমপি, দেশটির ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া (NESA) এবং কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া (CAK)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, কোরীয় ভাষায় ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নির্মাণশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

EPS-এর আওতায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান

NESA-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (EPS) আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি নিয়মিত কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মৌসুমি কর্মসংস্থান, কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন, কোরীয় ভাষা শিক্ষা এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মতো নতুন ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে যৌথ সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পায়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সাফল্যের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোরিয়ার শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ, যোগ্য ও প্রশিক্ষিত কর্মী গড়ে তুলতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

বৈঠকে NESA-এর প্রতিনিধিরা কোরীয় ভাষা শিক্ষা, পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতায় বাংলাদেশি কর্মীদের অবদান ও সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরেন। কর্মীদের বিদেশযাত্রার আগে ব্যবহারিক কোরীয় ভাষা শিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যথাযথ ভাষাগত ও পেশাগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশি কর্মীরা দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মপরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবেন এবং কর্মক্ষেত্রে তাঁদের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়বে।

নির্মাণশিল্পে বাংলাদেশি কর্মীদের যুক্ত করার উদ্যোগ

এদিকে কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া (CAK)-এর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাণশিল্পে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশটির নির্মাণপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কিং বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মীদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি, পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানে বাংলাদেশ সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

বৈঠকে CAK ও দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় নির্মাণপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা নির্মাণ খাতে কর্মীদের নিরাপত্তা, কার্যকর যোগাযোগ এবং সুনির্দিষ্ট কারিগরি জ্ঞানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁদের মতে, ব্যবহারিক কোরীয় ভাষায় দক্ষতা ও নির্মাণসংক্রান্ত কারিগরি যোগ্যতা রয়েছে—এমন বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির নির্মাণশিল্পে কাজের সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষতা উন্নয়ন ও নিরাপদ কর্মসংস্থানে যৌথ উদ্যোগ

বৈঠক দুটিতে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, কর্মীদের প্রাক-বহির্গমন প্রস্তুতি নিশ্চিত করা এবং নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র অনুসন্ধানে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার অভিন্ন আগ্রহ প্রতিফলিত হয়।

আলোচনায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে দক্ষিণ কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং সিউলে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি তাঁদের পেশাগত দক্ষতা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে দুই দেশের শ্রমবাজারভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন শুরু আজ, ফি ৮-১০ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ
ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন শুরু আজ, ফি ৮-১০ হাজার টাকা

ঢাকাসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় আজ সোমবার থেকে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার রিকশার (ই-রিকশা) নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এতে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আট থেকে ১০ হাজার টাকা। তবে বর্তমানে রাস্তায় চলাচলরত রিকশা এখনই বন্ধ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

রবিবার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপাতত চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগবে না। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে আটটি জোন করা হবে। প্রতিটি জোনের রিকশার জন্য থাকবে আলাদা রঙ। ফলে এক জোনের রিকশা অন্য জোনে চলতে পারবে না।

নতুন বিধিমালা প্রকাশের পর ই-রিকশার চালকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে নিবন্ধন দেওয়া হবে। বৈধ বা অবৈধ রিকশাগুলো আপাতত চলবে। অবৈধ রিকশা অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের কিছুটা সময় দিতে হবে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচলে বিধিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি থেকে পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন করা যাবে।

মীর শাহে আলম বলেন, জোনভিত্তিক রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে এক এলাকার রিকশা অন্য এলাকায় যেতে না পারে। কোন জোনে কতগুলো রিকশা চললে যানজট তৈরি হবে না, তা ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে নির্ধারণ করবে।

বিধিমালা অনুযায়ী যেসব সড়কে বাস চলাচল করে, সেসব সড়কে ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

বিধিমালা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার টাকা। এক বছর পর ফিটনেস যাচাই করে নবায়নের জন্য দিতে হবে চার হাজার টাকা। অন্যদিকে চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা। এক বছর পর ফিটনেস যাচাই করে নবায়নের জন্য ফি দিতে হবে পাঁচ হাজার টাকা। এভাবে সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত এসব ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে।

ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে জোনভিত্তিক চলাচল, রুট নির্ধারণ এবং ই-রিকশার নির্দিষ্ট রঙ চূড়ান্ত করা হবে। ই-রিকশার নিবন্ধন নম্বর, মালিকের তথ্য, সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং কোন জোনে রিকশাটি চলাচল করতে পারবে, তা কিউআর কোডে থাকবে। চালকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে আপাতত পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা রাখা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপাতত চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। নিবন্ধন কার্যক্রম কিছুটা এগিয়ে গেলে এ বিষয়ে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। পর্যায়ক্রমে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।

ই-রিকশা নিবন্ধনের আগে বিদ্যমান যানবাহনগুলোকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী সংশোধন করতে হবে। এরপরই নিবন্ধন দেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বর্তমানে চলাচলকারী ই-রিকশাগুলোকে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে। উৎপাদনকারীদেরও অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করে যানবাহন তৈরি করতে হবে।

বিধিমালায় নির্দিষ্ট স্থানে এসব রিকশার জন্য চার্জিং স্টেশন স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জের ব্যবস্থা করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ই-রিকশা নিবন্ধন কত দিনের মধ্যে শেষ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর এক মাস পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আবার বসে অগ্রগতি জানানো হবে। ওই সময়ে কতগুলো রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে এবং অবৈধ রিকশা নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা তুলে ধরা হবে।

ভাড়া নির্ধারণের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালিকপক্ষ, ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে আলোচনা করে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করবে। তবে ভাড়া সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হবে।

স্পেনের মাদ্রিদে মসজিদ-মাদ্রাসার ভবন ক্রয়ে ১০ হাজার ইউরো অনুদান দিলেন ফরিদপুরের সরোয়ার হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
স্পেনের মাদ্রিদে মসজিদ-মাদ্রাসার ভবন ক্রয়ে ১০ হাজার ইউরো অনুদান দিলেন ফরিদপুরের সরোয়ার হোসেন

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে বায়তুল মোকাররম মসজিদের মাদ্রাসা ভবন ক্রয়ের জন্য ১০ হাজার ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ লাখ টাকা) নগদ অনুদান দিয়েছেন ফরিদপুরের কৃতী সন্তান ও স্পেনের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সরোয়ার হোসেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) তিনি এ অনুদান প্রদান করেন। স্পেনের মাটিতে ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসার এবং মাদ্রাসার ভবন ক্রয়ের উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় তাঁর এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্পেন বিএনপির সহ-সভাপতি ইউনুস আলী প্রামাণিকসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।

এ বিষয়ে একই গ্রামের বাসিন্দা জলিল মাতুব্বর বলেন, সরোয়ার হোসেন দেশে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে দান-অনুদানের পাশাপাশি স্পেনেও মানবিক ও সামাজিক কাজে সহযোগিতা করে থাকেন। এ ছাড়া তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছেন।

সরোয়ার হোসেনের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের ৩২ নম্বর কোলপার মাতুব্বর বাড়ি (শেখবাড়ী) এলাকায়।

তাঁর এ মহতী উদ্যোগের জন্য স্থানীয় ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাঁকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। মহান আল্লাহ তাঁর এই দান কবুল করুন এবং উত্তম প্রতিদান দান করুন—এমন প্রত্যাশা সবার।

নারী অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মনোনীত হলেন রাজশাহীর হাবিবা খাতুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
নারী অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মনোনীত হলেন রাজশাহীর হাবিবা খাতুন

বাংলাদেশ নারী অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন রাজশাহীর লড়াকু সংগঠক হাবিবা খাতুন।

গত ২৮ অক্টোবর গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) সভাপতি ও নারী অধিকার পরিষদের উপদেষ্টা নুরুল হক নুর এবং জিওপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও নারী অধিকার পরিষদের উপদেষ্টা হাসান আল মামুনের যৌথ স্বাক্ষরে ছয় মাস মেয়াদি এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

শিক্ষাজীবন ও শিক্ষাগত যোগ্যতা:

হাবিবা খাতুনের শিক্ষাজীবন শুরু হয় বশিরাবাদ দাওয়াতুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী কলেজ থেকে সমাজকর্ম (Social Work) বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা তাঁকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে আরও দক্ষ ভূমিকা পালনে সহায়তা করেছে।

রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচিতি:

হাবিবা খাতুন ছাত্রজীবন থেকেই অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সক্রিয়। তিনি বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, রাজশাহী মহানগরের সাবেক অর্থ সম্পাদক (২০২০), রাজশাহী জেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক (২০২১) এবং সিনিয়র সভাপতি (২০২৩) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন গণ-আন্দোলনেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে ২০২০ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, ২০২২ সালের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহীর রাজপথে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা থেকে হাবিবা খাতুন মনে করেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা কেবল সামাজিক বিষয় নয়; বরং এটি নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। নারীদের নেতৃত্বের বিকাশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে সমান অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করতে চান তিনি।

তিনি মনে করেন, নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হলে নারীদের শিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে তুলতে হবে। বিশেষ করে তরুণীদের নেতৃত্বে এগিয়ে আসার সুযোগ সৃষ্টি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নারীর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

নারী অধিকার পরিষদের নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর নেতৃত্ব বিকাশ এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে নারীর অধিকার, নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নের প্রশ্নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে চান রাজশাহীর এই সংগঠক।

ব্রেকিং নিউজ