দক্ষ আইনজীবী পেতে হলে আইন শিক্ষার মানোন্নয়নে হাত দিতে হবে। ল’ কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে জাতীয়ভাবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করতে হবে এবং সকল আইনের শিক্ষার্থীর জন্য ৪ বছর মেয়াদী এলএল.বি (অনার্স) কোর্স বাধ্যতামূলক করতে হবে। ল’ কলেজগুলোকে “স্বতন্ত্র আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের” অধিভুক্ত করার মতো উচ্চতর চিন্তা করতে হবে। কেউ ৩ বছর মেয়াদী, কেউ ৪ বছর মেয়াদী ল’ পড়বে; কেউ কোচিং সেন্টারের মতো ক্লাস করেই আইন পাশ এসব বন্ধ করতে হবে। ল’ কলেজগুলোতে স্থায়ীভাবে আইনের শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। ল’ কলেজে যারা ক্লাস নেয় কত টাকা বেতন পায় তারা, একবার ভেবেছি কেউ?
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের শিক্ষকদের কোর্ট প্রাকটিসের অভিজ্ঞতা নেই। ডাক্তারদের বেলায় দেখুন যারাই অধ্যাপক তারাই ডাক্তার। ক্লিনিক্যাল লিগ্যাল এডুকেশনে জোর দিতে হবে।
সঠিক পদ্ধতিতে পাশ করা একজন আইনের শিক্ষার্থী আইনজীবী হওয়ার জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে যেখানে প্রতি বছর কতজন শিক্ষার্থী আইনজীবী হবেন সেটা নির্দিষ্ট থাকতে হবে। উচ্চ আদালতে আইনজীবী পরীক্ষার ক্ষেত্রেও উত্তীর্ণদের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট থাকতে হবে। সম্প্রতি আইনজীবী হওয়ার ক্ষেত্রে অনেকে বয়স নির্ধারণের কথাও বলেছেন। এছাড়াও বার কাউন্সিল পরীক্ষায় বাংলাদেশ সংবিধানসহ যুগোপযোগী আইনগুলো সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। বার কাউন্সিল যেন কেবল ভোটার তৈরির কারখানা না হয়!
সর্বোপরি, সব পেশায় যেমন ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা আছে; তদ্রুপ আইনজীবীদের দেশে ও বিদেশে ট্রেইনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। আইন শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক আইনজীবী বাছাই ও পেশাগত ট্রেইনিং এই ৩ টির সমন্বয় ঘটলেই কেবল দক্ষ আইনজীবী পাওয়া সম্ভব। এজন্য গোড়ায় হাত দিতে হবে; এখনই।
লেখক: সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী ও স্পেশাল প্রসিকিউটর (ডেপুটি এটর্নি জেনারেল)

এস এম নুরে এরশাদ সিদ্দিকী
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬ । ১১:৩৩ অপরাহ্ণ