কলাম
ইলিয়াসের অপপ্রচার ও ডলির চরিত্রহনন: অভিযোগের আগে প্রমাণ কোথায়?
ধরেন, আপনি সারাদেশের একটি পরিচিত মুখ। আপনি খুন না করেও কিংবা কোনোরকম সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই খুনের মামলার আসামি হলেন, পত্রপত্রিকায় শিরোনাম হলো, খুনের মামলায় আপনি গ্রেপ্তার। মানুষের মধ্যে একটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে। আপনার বিরোধীমতের লোকজনের অধিকাংশ বুঝে হোক না বুঝে হোক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করবে— আপনি খুন করেছেন, মানে আপনি একটা খুনি।
আবার আপনি যদি কোনো রাজনৈতিক দলের লোক হোন, এই দলে আপনার যারা বিরোধী তারাও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করবে কিংবা বলে বেড়াবে — আপনি খুন করেছেন এবং সমাজের কিছু বুদ্ধিজীবী প্রচলিত একটি কথা সামনে আনবে তা হলো— যা রটে তার কিছু তো বটে।
পুলিশ, এডভোকেট, বিচারক, রাষ্ট্রের আইন কেউ কিন্তু আপনাকে খুনি হিসেবে ট্রিট করবে না, জাস্ট একজন আসামি হিসেবে ট্রিট করবে, কারণ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আপনি খুনি নন আইনের দৃষ্টিতে। নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আপনি কারাগারে, আইনে তখনো আপনি একজন জাস্ট আসামি।
আপনি খুনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ঠিক, কিন্তু আপনি জানেন আপনি খুন করেন নি এবং এর সাথে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। অথচ আপনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে মুক্তিপ্রাপ্তি পর্যন্ত মানুষের কত মিশ্র প্রতিক্রিয়া!
সঠিক ও কমন প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত ছিলো এরকম — তিনি খুনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন, আপাতত তিনি জাস্ট একজন আসামি, প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাকে খুনি বলতে পারি না, সবার এই কথার সাথে একমত হওয়া উচিত ছিলো। কিন্তু সকলের জানাশোনা সমান না থাকার কারণে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
গত রাতে সাংবাদিক ইলিয়াস তার ভিডিওতে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেত্রী কামরুন্নাহার ডলির বিরুদ্ধে কিছু কথা উপস্থাপন করেছেন এবং একজনের বক্তব্য শুনিয়েছেন। ঐ ব্যক্তির বক্তব্য শুনেই অনেকেই ঘটনা সত্য বলে ধরে নিয়ে নুরুল হক নুরকে গালমন্দ করছেন। প্রশ্ন হলো — ঐ ব্যক্তিকে কি আপনারা চিনেন?
ইলিয়াস ভিডিও বানালো, একজনের বক্তব্য নিলো, ভিপি নুরকে অপছন্দ হওয়ায় ঘটনা সত্যি বলে মনে করে গালমন্দ শুরু করে দিলেন — নুরের সাথে ডলির সত্য কোনো আপত্তিকর ভিডিও/ছবি আপনারা দেখেছেন? দেখেন নি।
ঐ লোকটা কে? তার নাম আবুল বাশার, বাড়ি চট্টগ্রামে, ডলির এলাকায়। দুজনের রাজনৈতিক দল একই, বর্তমানে তিনি দলে নেই। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ডলির সাহসী নেতৃত্বের জন্য ডলি চট্টগ্রাম মহানগরে যুব সংগঠনের দায়িত্ব পান, ডলি তুলনামূলক স্বল্পশিক্ষিত হওয়ায় আবুল বাশার ডলির নেতৃত্ব মেনে নিতো না, দল একই তবে রাজনৈতিক বিরোধ বিদ্যমান ছিলো তাদের মধ্যে।
আবুল বাশার দেশে অনিরাপদ ফিল করায় ওয়েস্টার্ন কোনো কান্ট্রিতে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, সেই দেশে যাতে পলিটিক্যাল এসাইলাম হিসেবে থাকতে পারে তার জন্য নুরের কাছে আসে একটি পেপারে তার স্বাক্ষর নিতে, নুর যেকোনো কারণবশত সেটা দেয় নি। এই হলো তার ক্ষোভের জায়গা। আর ইলিয়াস এই লোককে পিক করছে।
ডলিকে ৬-৭ বছর ধরে চিনি, ফ্যাসিবাদি শাসনামলে গণঅধিকার পরিষদের প্রতিটি প্রোগ্রামে চট্টগ্রাম থেকে চলে আসতো হয় ছেলেকে নিয়ে না হয় স্বামী ও ছেলেকে নিয়ে আসতো কখনো একা আসতো না।তার মধ্যে কখনো খারাপ কোনো কিছু লক্ষ্য করিনি। রাজপথের সহযোদ্ধা হিসেবে আমাদের সবার মধ্যেই একটি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিলো, এখনো আছে।
ইলিয়াস কদিন আগে এক ভিডিও বার্তায় বলেছে, নুরকে সে শান্তিতে থাকতে দিবে না, যতদিন জীবিত আছে নুরের পেছনে লেগে থাকবে। অর্থাৎ ইলিয়াসও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই একটি বানোয়াট তথ্য অপপ্রচার করে ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশনের চেষ্টা করছে।
লেখক: সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক,গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)

আপনার মতামত লিখুন