কলাম
বিএনপি-জিওপি বনাম জামায়াত-এনসিপি: জোটের রাজনীতিতে ‘হালাল-হারাম’ মানদণ্ড
বিএনপির সঙ্গে জোট বা আসন সমঝোতা করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর যদি নিজের দলীয় প্রতীক ‘ট্রাক’ নিয়ে নির্বাচন করে, সেটাকে যদি কেউ ‘চাটাচাটি’ বা আপসের রাজনীতি বলে, তাহলে বিএনপির সঙ্গে অতীতে জোট করা এবং নির্বাচনী সমঝোতার অংশ হওয়া জামায়াতে ইসলামীকে তখন কী বলা হবে?
জামায়াত বিগত সময়ে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করেছে, ২০০১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা বিএনপি জোটে ছিল। তাদের রাজনৈতিক বেড়ে ওঠাই জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকেন্দ্রিক। তাই তারা অন্যের রাজনৈতিক জোট নিয়ে কুৎসা রটনা করতে পারেন না।
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত ১১ দলীয় জোট করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির, ‘ওয়ান বক্স পলিসি’র রূপকার, শেষ মুহূর্তে তাঁকেই তাঁর গড়া জোট থেকে বের করে দিয়েছে।
যুদ্ধ, বিদ্রোহ, প্রেম-ভালোবাসার ক্ষেত্রেও শত্রুর সঙ্গে ন্যূনতম বিশ্বাস থাকে, শত্রু যুদ্ধে মাঠে যুদ্ধনীতি ভঙ্গ করবে না। জামায়াতের বড় রোগ এখন মহামারি আকার ধারণ করছে। রাজনৈতিক মাঠে আলোচিত জামায়াত কখন কী করবে, তা বোঝা মুশকিল।
জামায়াত রাজনৈতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভিকটিম রোল প্লে করে। আর রাজনৈতিক হাঙ্গামায় জিতলে নিজেদের বীর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এমন দ্বিমুখী আচরণ সমাজ ও রাজনৈতিক জীবনে মোনাফেকি ছাড়া আর কিছু নয়।
রাজনীতিতে জোট, সমঝোতা ও আসনভিত্তিক কৌশল যদি এক পক্ষের ক্ষেত্রে বৈধ হয়, তাহলে অন্য পক্ষের ক্ষেত্রেও একই মানদণ্ড প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
শুধু জামায়াতের সঙ্গে জিওপির রাজনৈতিক প্রেম হয়নি বলে জামায়াতের বট বাহিনী অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও অহেতুক ভিত্তিহীন গুজব রটাবে, এটি কোনোভাবেই রাজনৈতিক শিষ্টাচার হতে পারে না।
জামাত তাঁর রাজনৈতিক বয়ানে বোঝায় “বিএনপি জিওপি জোট হারাম আর জামাত এনসিপি জোট হালাল”, এমন! এটা এক ধরনের মুনাফেকি আলাপ ছাড়া ভিন্ন কিছুই দেখি না।
জামায়াতের ভাই ও বোনদের কাছে অনুরোধ, আপনারা সুন্দর ও গঠনমূলকভাবে বিএনপি জোট সরকারের সমালোচনা করুন। অহেতুক অনুমানভিত্তিক কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। বিরোধী দল হিসেবে আপনারা সরকারের সমালোচনা করবেন, তবে তারও একটি ন্যূনতম ভাষাজ্ঞান ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার থাকা অত্যাবশ্যক বলে মনে করি।
লেখক: কলামিস্ট, রাজনীতিক ও সাবেক সহ-অর্থ সম্পাদক, ফরিদপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)

আপনার মতামত লিখুন