‘নিজ স্ত্রীর সঙ্গে’ ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল, জামায়াত নেতার পদ স্থগিত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মো. শহীদুল্লাহ্ (৪৬) নামের এক নেতার রুকনিয়াত সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সোমবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জরুরি সভা ডেকে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে দলটির ময়মনসিংহ মহানগর শাখা।
মো. শহীদুল্লাহ্ নগরের নতুন বাজার থানা জামায়াতের রুকন পদে ছিলেন। দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় নওমহল এলাকার আল আরাবিয়া দাখিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত।
দলীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকাল থেকেই মো. শহীদুল্লাহ্র একটি আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমালোচনার জন্ম দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মহানগর জামায়াত জরুরি সভায় বসে এ সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মো. শহীদুল্লাহ্র দাবি, ছড়িয়ে পড়া দৃশ্যটি তার স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা সম্পূর্ণ পারিবারিক ও একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের। শত্রুতাবশত অজ্ঞাতপরিচয় কেউ তার মুঠোফোন থেকে ভিডিওটি হাতিয়ে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আগে থেকেই তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল এবং মোটা অঙ্কের অর্থও দাবি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসান বলেন, ভিডিওটি তার ব্যক্তিগত এবং স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা। বিষয়টি নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে আপাতত তার রুকনিয়ত স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছেন শহীদুল্লাহ। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম রব্বানী বলেন, ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে এক শিক্ষার্থীর বিষয়ে অভিযোগকারী তথ্য দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত ভিডিও অনুমতি ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি কে বা কারা ছড়িয়েছে এবং এর পেছনে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আপনার মতামত লিখুন