খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৩রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আখতারুজ্জামানের মুক্তি দাবি

জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলার আগে নিজের চেহারা আয়নায় দেখুন: প্রধানমন্ত্রীকে গোলাম পরওয়ার

দেশজামানা ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলার আগে নিজের চেহারা আয়নায় দেখুন: প্রধানমন্ত্রীকে গোলাম পরওয়ার

জামায়াতের ইসলামীর সহযোগী সদস্য সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতে যোগ দেওয়ায় তাকে সরকার গ্রেপ্তার করেছে বলে অভিযোগ করেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলার আগে নিজের ও দলের চেহারা আয়নায় দেখুন। এ ছাড়া নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির তলে তলে যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে মেজর আখতারের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব এক সমাবেশে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।

জামায়াত নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘আপনার পিতা-মাতা জামায়াত-শিবিরকে নিয়ে যা বলেননি, আপনি তা বলে নিজেকে কি তাদের চেয়ে বেশি বিচক্ষণ মনে করেন?’

বিএনপি নেতাদের শেখ হাসিনার সঙ্গে আঁতাত করে চলায় তাকে সরাতে ১৫ বছর লেগে যায় বলে দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ঘোষিত কর্মসূচিতে বিএনপির নেতারা লুকিয়ে থাকলেও জামায়াত-শিবির রাজপথে জীবন দিয়েছিল। রাজপথের কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাদের পাওয়া যেত না। অনেকে মোবাইল ফোন পর্যন্ত বন্ধ রাখতেন। কিন্তু ক্ষমতায় এসে সরকারপ্রধানসহ তার মন্ত্রীদের কেউ কেউ জামায়াত-শিবিরকে গুপ্ত বলছেন, স্বাধীনতাবিরোধী বলছেন।’

১৯৯১ সালে জামায়াতের সমর্থনে সরকার গঠন করেছিল বিএনপি। ১৯৯৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দল দুটি জোটবদ্ধ ছিল। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘যাদের সঙ্গে আপনার মা জোট করেছিলেন, যাদের সমর্থনে তিনি সরকার গঠন করেছিলেন, তাদেরকে গুপ্ত আর স্বাধীনতাবিরোধী বলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই তার মায়ের বিরুদ্ধে কথা বলছেন।’

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী পাকিস্তানপন্থী নেতাদের জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছিলেন, সেই প্রশ্ন তোলেন গোলাম পরওয়ার। তিনি তারেক রহমানের উদ্দেশে বলেন, ‘পাকিস্তানের পক্ষে ভূমিকা রাখা শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন জিয়াউর রহমান। আবদুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতি ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আব্বা মির্জা রুহুল আমিন রাজাকার ছিলেন। তাদেরকে আপনারাই রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, এমপি-মন্ত্রী বানিয়েছেন।’

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের তলে তলে যোগাযোগ রয়েছে। তা নাকচ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে বর্তমান বিএনপি সরকারের তলে তলে যোগাযোগ ও সখ্য রয়েছে। সে কারণেই আওয়ামী লীগ রাজপথে মিছিলের সুযোগ পাচ্ছে।’

গত বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করে তাদের ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার যে ‘হুমকি’ দিয়েছিলেন মেজর আখতার, তা সমর্থন করেন জামায়াত সেক্রেটারি। তিনি বলেন, ‘একজন জ্যেষ্ঠ নাগরিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি হিসেবে মেজর আখতার বিমানবন্দরে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অদক্ষতা নিয়ে কথা বলতে পারেন। প্রয়োজনে অপদার্থ, ব্যর্থ ও অদক্ষ কর্মকর্তাদের শাসাতেও পারেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করে তিনি সাহসিকতা দেখিয়েছেন।’

ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, ‘আখতারুজ্জামানকে রিমান্ডে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করেছে সরকার। হাতকড়া পরানোর কথা ছিল বিএনপি নেত্রী মিষ্টিকে। রিমান্ডে নেওয়ার কথা ছিল মিষ্টি ও তার অনুসারী দখলবাজ সন্ত্রাসীদের।’

দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন এমপি বলেন, জামায়াতের ৩৪ জন এমপি বিমানবন্দরে এলেও বিমান কর্তৃপক্ষ প্রটোকল দেয়নি। মেজর আখতার শুধু প্রবাসীদের হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েমসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতারা। সমাবেশ শেষে কয়েক হাজার নেতা-কর্মীর একটি মিছিল পল্টন মোড় ও প্রেসক্লাব হয়ে মৎস্য ভবন মোড় পর্যন্ত যায়। এ সময় তারা সরকারকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেয়।

‘নিজ স্ত্রীর সঙ্গে’ ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল, জামায়াত নেতার পদ স্থগিত

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
‘নিজ স্ত্রীর সঙ্গে’ ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল, জামায়াত নেতার পদ স্থগিত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মো. শহীদুল্লাহ্ (৪৬) নামের এক নেতার রুকনিয়াত সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

সোমবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জরুরি সভা ডেকে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে দলটির ময়মনসিংহ মহানগর শাখা।

মো. শহীদুল্লাহ্ নগরের নতুন বাজার থানা জামায়াতের রুকন পদে ছিলেন। দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় নওমহল এলাকার আল আরাবিয়া দাখিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত।

দলীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকাল থেকেই মো. শহীদুল্লাহ্‌র একটি আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমালোচনার জন্ম দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মহানগর জামায়াত জরুরি সভায় বসে এ সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মো. শহীদুল্লাহ্‌র দাবি, ছড়িয়ে পড়া দৃশ্যটি তার স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা সম্পূর্ণ পারিবারিক ও একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের। শত্রুতাবশত অজ্ঞাতপরিচয় কেউ তার মুঠোফোন থেকে ভিডিওটি হাতিয়ে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আগে থেকেই তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল এবং মোটা অঙ্কের অর্থও দাবি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসান বলেন, ভিডিওটি তার ব্যক্তিগত এবং স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা। বিষয়টি নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে আপাতত তার রুকনিয়ত স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছেন শহীদুল্লাহ। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম রব্বানী বলেন, ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে এক শিক্ষার্থীর বিষয়ে অভিযোগকারী তথ্য দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত ভিডিও অনুমতি ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি কে বা কারা ছড়িয়েছে এবং এর পেছনে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এমপিওভুক্ত কলেজে সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ণ
এমপিওভুক্ত কলেজে সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি এবং অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হওয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা পরিবর্তন করা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে সভাপতি হতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। স্নাতক ডিগ্রি থাকলেই এ পদে দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা অর্জন করা যাবে।

রবিবার (১ নভেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গভর্নিং বডি বা অ্যাডহক কমিটির সভাপতি এবং বিদ্যোৎসাহী সদস্য মনোনয়নের ক্ষেত্রে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১১ মার্চ জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পরিবর্তে স্নাতক ডিগ্রি করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, একজন ব্যক্তি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত দুটির বেশি কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি কিংবা বিদ্যোৎসাহী সদস্য মনোনীত হতে পারবেন না—এ শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন শুরু আজ, ফি ৮-১০ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ
ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন শুরু আজ, ফি ৮-১০ হাজার টাকা

ঢাকাসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় আজ সোমবার থেকে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার রিকশার (ই-রিকশা) নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এতে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আট থেকে ১০ হাজার টাকা। তবে বর্তমানে রাস্তায় চলাচলরত রিকশা এখনই বন্ধ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

রবিবার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপাতত চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগবে না। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে আটটি জোন করা হবে। প্রতিটি জোনের রিকশার জন্য থাকবে আলাদা রঙ। ফলে এক জোনের রিকশা অন্য জোনে চলতে পারবে না।

নতুন বিধিমালা প্রকাশের পর ই-রিকশার চালকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে নিবন্ধন দেওয়া হবে। বৈধ বা অবৈধ রিকশাগুলো আপাতত চলবে। অবৈধ রিকশা অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের কিছুটা সময় দিতে হবে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচলে বিধিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি থেকে পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন করা যাবে।

মীর শাহে আলম বলেন, জোনভিত্তিক রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে এক এলাকার রিকশা অন্য এলাকায় যেতে না পারে। কোন জোনে কতগুলো রিকশা চললে যানজট তৈরি হবে না, তা ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে নির্ধারণ করবে।

বিধিমালা অনুযায়ী যেসব সড়কে বাস চলাচল করে, সেসব সড়কে ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

বিধিমালা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার টাকা। এক বছর পর ফিটনেস যাচাই করে নবায়নের জন্য দিতে হবে চার হাজার টাকা। অন্যদিকে চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা। এক বছর পর ফিটনেস যাচাই করে নবায়নের জন্য ফি দিতে হবে পাঁচ হাজার টাকা। এভাবে সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত এসব ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে।

ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে জোনভিত্তিক চলাচল, রুট নির্ধারণ এবং ই-রিকশার নির্দিষ্ট রঙ চূড়ান্ত করা হবে। ই-রিকশার নিবন্ধন নম্বর, মালিকের তথ্য, সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং কোন জোনে রিকশাটি চলাচল করতে পারবে, তা কিউআর কোডে থাকবে। চালকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে আপাতত পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা রাখা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপাতত চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। নিবন্ধন কার্যক্রম কিছুটা এগিয়ে গেলে এ বিষয়ে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। পর্যায়ক্রমে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।

ই-রিকশা নিবন্ধনের আগে বিদ্যমান যানবাহনগুলোকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী সংশোধন করতে হবে। এরপরই নিবন্ধন দেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বর্তমানে চলাচলকারী ই-রিকশাগুলোকে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে। উৎপাদনকারীদেরও অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করে যানবাহন তৈরি করতে হবে।

বিধিমালায় নির্দিষ্ট স্থানে এসব রিকশার জন্য চার্জিং স্টেশন স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জের ব্যবস্থা করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ই-রিকশা নিবন্ধন কত দিনের মধ্যে শেষ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর এক মাস পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আবার বসে অগ্রগতি জানানো হবে। ওই সময়ে কতগুলো রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে এবং অবৈধ রিকশা নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা তুলে ধরা হবে।

ভাড়া নির্ধারণের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালিকপক্ষ, ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে আলোচনা করে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করবে। তবে ভাড়া সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হবে।

ব্রেকিং নিউজ