জামায়াতের ইসলামীর সহযোগী সদস্য সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতে যোগ দেওয়ায় তাকে সরকার গ্রেপ্তার করেছে বলে অভিযোগ করেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলার আগে নিজের ও দলের চেহারা আয়নায় দেখুন। এ ছাড়া নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির তলে তলে যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে মেজর আখতারের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব এক সমাবেশে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।
জামায়াত নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘আপনার পিতা-মাতা জামায়াত-শিবিরকে নিয়ে যা বলেননি, আপনি তা বলে নিজেকে কি তাদের চেয়ে বেশি বিচক্ষণ মনে করেন?’
বিএনপি নেতাদের শেখ হাসিনার সঙ্গে আঁতাত করে চলায় তাকে সরাতে ১৫ বছর লেগে যায় বলে দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ঘোষিত কর্মসূচিতে বিএনপির নেতারা লুকিয়ে থাকলেও জামায়াত-শিবির রাজপথে জীবন দিয়েছিল। রাজপথের কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাদের পাওয়া যেত না। অনেকে মোবাইল ফোন পর্যন্ত বন্ধ রাখতেন। কিন্তু ক্ষমতায় এসে সরকারপ্রধানসহ তার মন্ত্রীদের কেউ কেউ জামায়াত-শিবিরকে গুপ্ত বলছেন, স্বাধীনতাবিরোধী বলছেন।’
১৯৯১ সালে জামায়াতের সমর্থনে সরকার গঠন করেছিল বিএনপি। ১৯৯৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দল দুটি জোটবদ্ধ ছিল। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘যাদের সঙ্গে আপনার মা জোট করেছিলেন, যাদের সমর্থনে তিনি সরকার গঠন করেছিলেন, তাদেরকে গুপ্ত আর স্বাধীনতাবিরোধী বলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই তার মায়ের বিরুদ্ধে কথা বলছেন।’
মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী পাকিস্তানপন্থী নেতাদের জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছিলেন, সেই প্রশ্ন তোলেন গোলাম পরওয়ার। তিনি তারেক রহমানের উদ্দেশে বলেন, ‘পাকিস্তানের পক্ষে ভূমিকা রাখা শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন জিয়াউর রহমান। আবদুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতি ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আব্বা মির্জা রুহুল আমিন রাজাকার ছিলেন। তাদেরকে আপনারাই রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, এমপি-মন্ত্রী বানিয়েছেন।’
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের তলে তলে যোগাযোগ রয়েছে। তা নাকচ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে বর্তমান বিএনপি সরকারের তলে তলে যোগাযোগ ও সখ্য রয়েছে। সে কারণেই আওয়ামী লীগ রাজপথে মিছিলের সুযোগ পাচ্ছে।’
গত বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করে তাদের ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার যে ‘হুমকি’ দিয়েছিলেন মেজর আখতার, তা সমর্থন করেন জামায়াত সেক্রেটারি। তিনি বলেন, ‘একজন জ্যেষ্ঠ নাগরিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি হিসেবে মেজর আখতার বিমানবন্দরে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অদক্ষতা নিয়ে কথা বলতে পারেন। প্রয়োজনে অপদার্থ, ব্যর্থ ও অদক্ষ কর্মকর্তাদের শাসাতেও পারেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করে তিনি সাহসিকতা দেখিয়েছেন।’
ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, ‘আখতারুজ্জামানকে রিমান্ডে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করেছে সরকার। হাতকড়া পরানোর কথা ছিল বিএনপি নেত্রী মিষ্টিকে। রিমান্ডে নেওয়ার কথা ছিল মিষ্টি ও তার অনুসারী দখলবাজ সন্ত্রাসীদের।’
দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন এমপি বলেন, জামায়াতের ৩৪ জন এমপি বিমানবন্দরে এলেও বিমান কর্তৃপক্ষ প্রটোকল দেয়নি। মেজর আখতার শুধু প্রবাসীদের হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েমসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতারা। সমাবেশ শেষে কয়েক হাজার নেতা-কর্মীর একটি মিছিল পল্টন মোড় ও প্রেসক্লাব হয়ে মৎস্য ভবন মোড় পর্যন্ত যায়। এ সময় তারা সরকারকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেয়।

দেশজামানা ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:৪১ অপরাহ্ণ