জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ছাড়ছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন উঠেছে যে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ছাড়ছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। ইসলামি দলগুলোকে নিয়ে নতুন ও বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ার উদ্যোগে এক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে ‘সমমনা ইসলামী দল’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। তবে এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার প্রধান শর্ত হলো বিএনপি বা জামায়াতের জোটে থাকা যাবে না। সেই শর্ত পূরণেই শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছাড়ছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
দলীয় অভ্যন্তরীণ সূত্রের মতে, নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন করে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন দলটি এই নতুন কওমি ও ইসলামি ঐক্যে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে।
নতুন এই ঐক্যপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কওমিভিত্তিক দলটি। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে থাকা নিয়ে আলেম-ওলামাদের একটি বড় অংশের আপত্তি ছিল। অবশেষে কওমি অঙ্গনে নিজেদের প্রভাব ও ঐক্য ধরে রাখতে জামায়াত ছাড়ার নমনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব।
দলটির একজন প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেছেন, “আমরা আপাতত জামায়াতের জোটে থাকলেও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। খুব দ্রুতই জানা যাবে জোট ছাড়ছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ সাহস আমাদের রয়েছে।”
হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতৃত্বের তদারকিতে গঠিত এই জোটে যুক্ত রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট ও নেজামে ইসলাম পার্টি।
চট্টগ্রামের বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজত আমিরের উপস্থিতিতে বৈঠকে কিছু কঠোর শর্ত দেওয়া হয়:
জোটভুক্ত কোনো দল একক সিদ্ধান্তে অন্য কোনো দলের সাথে জোট করতে পারবে না।
আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদাবিরোধী বা অনৈসলামিক কোনো প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ।
সমমনা ৭ দলের কেন্দ্রীয় শুরা ও উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনেই কেবল যেকোনো সমঝোতা করা যাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছাড়ছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস—এই ঘোষণা আসার পর জমিয়তে উলামায়ে ইসলামও বিএনপির সাথে সম্পর্ক ছেদ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন