ঢাকা দক্ষিণে টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়তে চান শেখ ফজলুল করীম মারুফ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে পরিকল্পিত ও নাগরিকবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলুল করীম মারুফ।
তিনি বলেছেন, নির্বাচিত হলে লোক দেখানো উন্নয়ন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নিয়মিত সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ ফজলুল করীম মারুফ অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর থেকে ঢাকা সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির সময় নগরবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন হয়নি। তাঁর দাবি, নির্ধারিত বাজেটের অর্থ জনগণের কল্যাণে যথাযথভাবে ব্যয় না করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
তিনি বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন বিভক্ত হওয়ার পর ঢাকা দক্ষিণের নাগরিকদের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী উদ্যোগ খুব একটা দেখা যায়নি। এর ফলে নগরবাসীকে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ঢাকা দক্ষিণের বর্তমান নাগরিক সমস্যাগুলো তুলে ধরে মারুফ বলেন, ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, জলাবদ্ধতা, যানজট, ছিনতাই ও রাহাজানির মতো বিভিন্ন সংকট নগরজীবনকে কঠিন করে তুলেছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে এসব সমস্যা আরও জটিল হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বিদ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মূল সমস্যার সমাধান না করে বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, রুপার ওপর স্বর্ণের প্রলেপ দিয়ে সেটিকে স্বর্ণের জিনিস হিসেবে উপস্থাপন করার মতো উন্নয়ন দিয়ে নগরবাসীর মৌলিক সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।
শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসন, যানজট নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নগর সেক্রেটারি কে এম শরীয়াতুল্লাহও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, নগরবাসীর বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। তবে এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সদিচ্ছার ঘাটতি রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
তিনি আরও বলেন, নাগরিক দুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নাগরিক সমস্যা, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে নেতাকর্মীরা আলোচনা করেন।

আপনার মতামত লিখুন