স্পিকারের উদ্দেশে যুবদল নেতা মাহিমের আবেগঘন স্ট্যাটাস, স্মরণে ২০১৮ সালের সেই ২৭ জন
ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকারের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাকস দিয়েছেন লালমোহন উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও গণমাধ্যমকর্মী এম. ইউ. মাহিম। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে স্পিকারের পাশে থাকা ২৭ জন নেতাকর্মীর ত্যাগ ও মূল্যায়নের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেছেন, ‘মাননীয় স্পিকার মহোদয়, আপনার সেই দুঃসময়ের ২৭ জন কোথায়?’
রবিবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে মাহিম ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে লালমোহনে স্পিকারের পাশে অবস্থান করা নেতাকর্মীদের স্মৃতিচারণা করেন। একই সঙ্গে সেই সময়ে দেওয়া আশ্বাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে মাহিম উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে লালমোহনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পথে স্পিকারের লঞ্চের কেবিন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে তিনি স্মরণ করেন। পরদিন পুলিশি প্রটোকলে লালমোহনে পৌঁছানোর পর মঙ্গলশিকদার লঞ্চঘাট থেকে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ হেঁটে বাসায় পৌঁছান দলীয় নেতাকর্মীরা।
মাহিমের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় লালমোহন বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীরা হামলা ও নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার ও হামলার আশঙ্কায় স্পিকারের বাসায় অবস্থান নেওয়া নেতাকর্মীদের সংখ্যা কমতে থাকে। নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত পুলিশি বেষ্টনীর মধ্যে সেখানে মাত্র ২৭ জন নেতাকর্মী অবস্থান করছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নিজেকে ওই ২৭ জনের একজন দাবি করে মাহিম লেখেন, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা প্রাপ্তির প্রত্যাশায় নয়, বরং দলের প্রতি ভালোবাসা এবং স্পিকারের প্রতি আস্থা থেকেই তিনি সেদিন তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও দাবি করেন, প্রতিকূল সময়ে উপস্থিত ২৭ জন নেতাকর্মীকে উদ্দেশ করে স্পিকার তাঁদের ত্যাগের মূল্যায়ন এবং বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দলীয় সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই আশ্বাস তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মনে আশা জাগিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মাহিমের দাবি, সম্প্রতি ওই ২৭ জনের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে সম্মানী দেওয়া হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে তালিকায় নিজের নাম না থাকার বিষয়টি জানতে পেরেছেন বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি। এ নিয়ে আর্থিক ক্ষোভ বা আক্ষেপ নেই জানিয়ে মাহিম বলেন, অর্থের অঙ্ক দিয়ে দুঃসময়ের স্মৃতি কিংবা দলের প্রতি ভালোবাসার মূল্য নির্ধারণ করা যায় না।
তাঁর ভাষ্য, ব্যক্তিগতভাবে অর্থপ্রাপ্তির চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—যাঁরা রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের ত্যাগ ও অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়েছে কি না।
স্ট্যাটাসে ২০১৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর স্পিকারের বাসার সামনে হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মাহিম। এ সময় লালমোহন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. শহীদ হাওলাদার, পৌরসভা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা মো. ফজলে রাব্বি নাফিজসহ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মাহিম লেখেন, এখন স্পিকারের চারপাশে অসংখ্য নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখা গেলেও ২০১৮ সালের সেই কঠিন সময়ে পাশে থাকা মানুষগুলোর কথা স্মরণ করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সুসময় ও দুঃসময়ের কর্মীদের অবদান বিবেচনায় নিয়ে ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে স্পিকারের উদ্দেশে মাহিম প্রশ্ন রাখেন, বর্তমানে যাঁরা তাঁর চারপাশে রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কতজন সেই দুঃসময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন?

আপনার মতামত লিখুন