খুঁজুন
সোমবার, ২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোদি সরকারকে চ্যালেঞ্জ অভিজিৎ দীপকের

দেশজামানা ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ণ
মোদি সরকারকে চ্যালেঞ্জ অভিজিৎ দীপকের

তেরঙ্গা (পতাকা) ওড়ানোর কর্মসূচিকে ঘিরে গ্রেফতারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তার অভিযোগ, নম্বরপ্লেটবিহীন কয়েকটি গাড়ি তাকে অনুসরণ করছে। এমনকি তার বাড়ির ওপর নজরদারি চালাচ্ছেন গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) সদস্যরাও।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, শুক্রবারের (১৬ অক্টোবর) তেরঙ্গা মিছিলের আগে বৃহস্পতিবার রাতেই অথবা শুক্রবার সকালে তাকে আটক করতে পারে দিল্লি পুলিশ। খবর ইন্ডিয়া টুডের।

তবে এসব হুমকি বা নজরদারিতে ভয় পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন দীপকে। তার স্পষ্ট বক্তব্য, জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য জেলে যেতে হলেও তিনি প্রস্তুত।

বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে দীপকে বলেন, ‘আগামীকাল আমরা শান্তিপূর্ণভাবে গিয়ে তেরঙ্গা ওড়াব। এই দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা যদি মনে করি, এটি অপরাধ, তাহলে আপনারাই সবচেয়ে বড় দেশদ্রোহী।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশে তেরঙ্গা ওড়ানোর জন্য যদি আমাদের জেলে যেতে হয়, তাহলে আমরা তার জন্যও প্রস্তুত।’

শুক্রবার নয়াদিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সিজেপি। দলের সমর্থক ও সাধারণ মানুষকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নেতারা।

নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সিজেপির দাবি, জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরিয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দিতে হবে।

তবে কর্মসূচির নির্ধারিত স্থান সেন্ট্রাল পার্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (এনডিএমসি) ঘোষণা করে, ১৬ ও ১৭ অক্টোবর পার্কটি বন্ধ থাকবে।

এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে দীপকে প্রশ্ন তোলেন, তারা যদি দেশের ১০০টি স্থানে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর ঘোষণা দেন, তাহলে কি কর্তৃপক্ষ সব জায়গা বন্ধ করে দেবে?

তিনি আরও বলেন, ‘আগামীকাল যদি আমরা বলি, নরেন্দ্র মোদির সমাবেশে গিয়ে তেরঙ্গা ওড়াব, তাহলে কি সেই সমাবেশও বাতিল করে দেওয়া হবে? কী হাস্যকর পরিস্থিতি তৈরি করেছেন আপনারা!’

দীপকের দাবি, জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কর্মসূচিকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হলে সরকারকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে হবে।

তার অভিযোগ, নম্বরপ্লেটবিহীন গাড়ি দিয়ে তাকে অনুসরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, তার বাড়ির বাইরে থাকা নিরাপত্তাকর্মীর কাছ থেকে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন আইবির সদস্যরা।

তিনি বলেন, ‘দিল্লি পুলিশ আজ রাতে অথবা আগামীকাল সকালে আমাকে আটক করতে পারে। কিন্তু নরেন্দ্র মোদিকে বলতে চাই, এসব করে আমাদের ভয় দেখানো যাবে না।’

এর আগে সিজেপির দুই সহকর্মী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার গ্রেফতারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তাদের গ্রেফতারের কথা উল্লেখ করে দীপকে অভিযোগ করেন, দেশে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কারণেই মানুষকে জেলে পাঠানো হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী তেরঙ্গাকে এত ঘৃণা করেন কেন? তিনি যদি তেরঙ্গাকে ঘৃণা করেন, তাহলে কি তার প্রধানমন্ত্রী থাকার যোগ্যতা আছে?’

দীপকে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য সরকার পরিবর্তন করা নয়। তাদের মূল দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে তার জায়গায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কাউকে নিয়োগ দেওয়া হোক।

তার অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার অন্য নির্বাচন কমিশনারদের মতামতও গুরুত্ব দিয়ে শুনছেন না। এমন পরিস্থিতিতে তার অপসারণের দাবি তোলা কেন অপরাধ হবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা।

ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘জরুরি অবস্থার’ সঙ্গে তুলনা করে দীপকে আরও অভিযোগ করেন, নিজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করছেন না।

ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন শুরু আজ, ফি ৮-১০ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ
ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন শুরু আজ, ফি ৮-১০ হাজার টাকা

ঢাকাসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় আজ সোমবার থেকে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার রিকশার (ই-রিকশা) নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এতে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আট থেকে ১০ হাজার টাকা। তবে বর্তমানে রাস্তায় চলাচলরত রিকশা এখনই বন্ধ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

রবিবার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপাতত চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগবে না। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে আটটি জোন করা হবে। প্রতিটি জোনের রিকশার জন্য থাকবে আলাদা রঙ। ফলে এক জোনের রিকশা অন্য জোনে চলতে পারবে না।

নতুন বিধিমালা প্রকাশের পর ই-রিকশার চালকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে নিবন্ধন দেওয়া হবে। বৈধ বা অবৈধ রিকশাগুলো আপাতত চলবে। অবৈধ রিকশা অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের কিছুটা সময় দিতে হবে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচলে বিধিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি থেকে পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন করা যাবে।

মীর শাহে আলম বলেন, জোনভিত্তিক রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে এক এলাকার রিকশা অন্য এলাকায় যেতে না পারে। কোন জোনে কতগুলো রিকশা চললে যানজট তৈরি হবে না, তা ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে নির্ধারণ করবে।

বিধিমালা অনুযায়ী যেসব সড়কে বাস চলাচল করে, সেসব সড়কে ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

বিধিমালা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার টাকা। এক বছর পর ফিটনেস যাচাই করে নবায়নের জন্য দিতে হবে চার হাজার টাকা। অন্যদিকে চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা। এক বছর পর ফিটনেস যাচাই করে নবায়নের জন্য ফি দিতে হবে পাঁচ হাজার টাকা। এভাবে সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত এসব ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে।

ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে জোনভিত্তিক চলাচল, রুট নির্ধারণ এবং ই-রিকশার নির্দিষ্ট রঙ চূড়ান্ত করা হবে। ই-রিকশার নিবন্ধন নম্বর, মালিকের তথ্য, সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং কোন জোনে রিকশাটি চলাচল করতে পারবে, তা কিউআর কোডে থাকবে। চালকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে আপাতত পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা রাখা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপাতত চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। নিবন্ধন কার্যক্রম কিছুটা এগিয়ে গেলে এ বিষয়ে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। পর্যায়ক্রমে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।

ই-রিকশা নিবন্ধনের আগে বিদ্যমান যানবাহনগুলোকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী সংশোধন করতে হবে। এরপরই নিবন্ধন দেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বর্তমানে চলাচলকারী ই-রিকশাগুলোকে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে। উৎপাদনকারীদেরও অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করে যানবাহন তৈরি করতে হবে।

বিধিমালায় নির্দিষ্ট স্থানে এসব রিকশার জন্য চার্জিং স্টেশন স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জের ব্যবস্থা করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ই-রিকশা নিবন্ধন কত দিনের মধ্যে শেষ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর এক মাস পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আবার বসে অগ্রগতি জানানো হবে। ওই সময়ে কতগুলো রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে এবং অবৈধ রিকশা নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা তুলে ধরা হবে।

ভাড়া নির্ধারণের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালিকপক্ষ, ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে আলোচনা করে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করবে। তবে ভাড়া সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হবে।

স্পেনের মাদ্রিদে মসজিদ-মাদ্রাসার ভবন ক্রয়ে ১০ হাজার ইউরো অনুদান দিলেন ফরিদপুরের সরোয়ার হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
স্পেনের মাদ্রিদে মসজিদ-মাদ্রাসার ভবন ক্রয়ে ১০ হাজার ইউরো অনুদান দিলেন ফরিদপুরের সরোয়ার হোসেন

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে বায়তুল মোকাররম মসজিদের মাদ্রাসা ভবন ক্রয়ের জন্য ১০ হাজার ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ লাখ টাকা) নগদ অনুদান দিয়েছেন ফরিদপুরের কৃতী সন্তান ও স্পেনের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সরোয়ার হোসেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) তিনি এ অনুদান প্রদান করেন। স্পেনের মাটিতে ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসার এবং মাদ্রাসার ভবন ক্রয়ের উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় তাঁর এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্পেন বিএনপির সহ-সভাপতি ইউনুস আলী প্রামাণিকসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।

এ বিষয়ে একই গ্রামের বাসিন্দা জলিল মাতুব্বর বলেন, সরোয়ার হোসেন দেশে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে দান-অনুদানের পাশাপাশি স্পেনেও মানবিক ও সামাজিক কাজে সহযোগিতা করে থাকেন। এ ছাড়া তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছেন।

সরোয়ার হোসেনের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের ৩২ নম্বর কোলপার মাতুব্বর বাড়ি (শেখবাড়ী) এলাকায়।

তাঁর এ মহতী উদ্যোগের জন্য স্থানীয় ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাঁকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। মহান আল্লাহ তাঁর এই দান কবুল করুন এবং উত্তম প্রতিদান দান করুন—এমন প্রত্যাশা সবার।

নারী অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মনোনীত হলেন রাজশাহীর হাবিবা খাতুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
নারী অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মনোনীত হলেন রাজশাহীর হাবিবা খাতুন

বাংলাদেশ নারী অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন রাজশাহীর লড়াকু সংগঠক হাবিবা খাতুন।

গত ২৮ অক্টোবর গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) সভাপতি ও নারী অধিকার পরিষদের উপদেষ্টা নুরুল হক নুর এবং জিওপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও নারী অধিকার পরিষদের উপদেষ্টা হাসান আল মামুনের যৌথ স্বাক্ষরে ছয় মাস মেয়াদি এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

শিক্ষাজীবন ও শিক্ষাগত যোগ্যতা:

হাবিবা খাতুনের শিক্ষাজীবন শুরু হয় বশিরাবাদ দাওয়াতুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী কলেজ থেকে সমাজকর্ম (Social Work) বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা তাঁকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে আরও দক্ষ ভূমিকা পালনে সহায়তা করেছে।

রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচিতি:

হাবিবা খাতুন ছাত্রজীবন থেকেই অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সক্রিয়। তিনি বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, রাজশাহী মহানগরের সাবেক অর্থ সম্পাদক (২০২০), রাজশাহী জেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক (২০২১) এবং সিনিয়র সভাপতি (২০২৩) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন গণ-আন্দোলনেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে ২০২০ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, ২০২২ সালের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহীর রাজপথে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা থেকে হাবিবা খাতুন মনে করেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা কেবল সামাজিক বিষয় নয়; বরং এটি নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। নারীদের নেতৃত্বের বিকাশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে সমান অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করতে চান তিনি।

তিনি মনে করেন, নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হলে নারীদের শিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে তুলতে হবে। বিশেষ করে তরুণীদের নেতৃত্বে এগিয়ে আসার সুযোগ সৃষ্টি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নারীর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

নারী অধিকার পরিষদের নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর নেতৃত্ব বিকাশ এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে নারীর অধিকার, নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নের প্রশ্নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে চান রাজশাহীর এই সংগঠক।

ব্রেকিং নিউজ