খুঁজুন
শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছড়ার ‘মুগুর’ ছড়াকার মাহফুজ ইকরাম

তাজ ইসলাম
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
ছড়ার ‘মুগুর’ ছড়াকার মাহফুজ ইকরাম

মুগুর কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের কৃষকবান্ধব একটি কৃষিযন্ত্র। অধুনা বিলুপ্তও বলা যায়। সাহিত্যে মুগুর প্রবাদপ্রতিম শব্দও বটে। ‘যেমন কুকুর তেমন মুগুর’ প্রবাদের সাথে কমবেশি পরিচিত আমরা। সম্প্রতি ‘মুগুর’ নামে প্রকাশিত হয়েছে একটি বই। বইটি তারুণ্যদ্বীপ্ত ছড়াকার মাহফুজ ইকরাম এর প্রথম ছড়াগ্রন্থ। অসৎ, অন্যায়কারী, জালেম, দুর্নীতিবাজ, বদমায়েশের জন্য হাতে নিয়ে এসেছেন ছড়ার শব্দ ‘মুগুর’। ৫৬ টি মুগুর ছড়ায় গ্রন্থিত একটি বই। এছাড়াও আছে উৎসর্গপত্র ও ফ্ল্যাপে দুটো ছড়া। সবগুলো ছড়ার গতি সাবলীল, বক্তব্য স্পষ্ট। আছে ছন্দ, তাল, লয়, মাত্রায় সচেতনতার ছাপ। ২০২২ এর ডিসেম্বরে প্রকাশ ঘটেছে ‘মুগুর’ নামক বইটির।

আত্মোপলব্ধি মানুষের শুদ্ধতার সম্পদ। যে নিজেকে চিহ্নিত করতে পারে সে সাধারণের মাঝে হয়ে ওঠে অসাধারণ। মনের ভিতর গোপন পশু দ্বারা তখন সে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। ছড়াকার মাহফুজ ইকরাম জানেন মনের পশুর স্বভাব কী, কি করতে পারে সে। এটি তিনি শুধু নিজে জেনেই চুপ থাকেননি। অন্যদেরও সজাগ করে দিতে লিখেন- ‘আমার মনের গহিন বনে/ একটা পশুর বাস/ এই পশুটাই নিত্য আমার / ঘটায় সর্বনাশ। ( মনের পশু)’।

যুগে যুগে কিংবা শতাব্দীর কোন এক সময় হঠাৎ হঠাৎ আসে মহামারি। মহামরি পৃথিবীকে কাঁপিয়ে দেয়। নিকটতম সময়ে পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিয়ে গেছে করোনা মহামারি। হৃদয়ে দাগ কেটেছে সচেতন মানব মাত্রই। একজন ছড়াকারের হৃদয়ের উত্তাপে তা প্রকাশ করেছেন নিজের ছড়াগ্রন্থে। মাহফুজ ইকরাম লিখেন- ‘দেশজুড়ে মহামারি করোনার ভয়/ সকলেই শঙ্কিত কী জানি কী হয়!/পথেঘাটে স্বাভাবিক যায় নাতো চলা/ নিষিদ্ধ সমাগম জনতার দলা। (লকডাউন)’। দলা নিয়ে মাহফুজ ইকরামের বিপক্ষে আঙুল তুলতেই পারে কেউ। অন্তমিলের জন্য জনতার দলকে দলা করেছেন। মাহফুজ ইকরাম ছন্দ সচেতন। ছড়ায় পারঙ্গম। দলার প্রায়োগিক বিবেচনার দাবি রাখে। জনতার দলা হয়তো বেমানান। মাহফুজ ইকরাম অন্ত্যমিলের প্রশ্নাতীত শব্দ নিয়ে আসতে পারতেন। তিনি চেষ্টা করলে পারতেন। এটি তার জন্য জটিল কিছু ছিল না।

শব্দের কিছু চমৎকার প্রয়োগ ছড়াকারের ছন্দজ্ঞান, শব্দ চয়ন, দক্ষতা, ভাব প্রকাশের মুন্সিয়ানা প্রকাশ পায় দারুণভাবে। ‘সবুজাভ প্রকৃতির কী দারুণ লুক ছিল!/সব মিলে বাঙালির আহা! কত সুখ ছিল। (আহা! কত সুখ ছিল)।’ ছড়াকারের হয়তো জানা আছে বাঙালি বলতে বুঝায় ভাষাভিত্তিক পরিচয়। বাঙালি বলতে বাংলা ভাষাভাষী সবাই। আর বাংলাদেশী বলতে মানচিত্রগত পরিচয়। বাংলাদেশী বলতে আমরা বুঝি সমগ্র বাংলাদেশী। বাঙালি বলতে কী সমগ্র বাংলাদেশীকে বুঝায়? বুঝালেও হয়তো এখানে জবরদস্তি কাজ করে। একজন পাহাড়ি বাংলাদেশী। কিন্তু বাঙালী কিনা এটা আলোচনা সাপেক্ষ। কবি, গল্পকার, ছড়াকাররা এসব ছোট ছোট বিষয়ের অন্তর্নিহিত অর্থ উদ্ধার করে সৃজন করবে নিজের সম্ভ্রান্ত রচনা। এই আশা জাতির থাকে সবসময়।

‘দেশের তরে দশের তরে/ সত্য- ন্যায়ের চাষ করে যাই/ মিথ্যাবাদী, বদ হারামির/ গুমরগুলো ফাঁস করে যাই। (কাজের ফাঁকে)। এমন ব্রতে এগিয়ে গেলে ছড়াকারের ছড়া চর্চা হবে দেশ ও দশের পক্ষে কলম লড়াই। এ লড়াই করতে করতে তার সামনে উন্মোচিত হয় চতুর্পাশ। এবং সাহসের সাথে আরও উন্মুক্ত করে দিতে বলেন ‘দুগ্ধ পাঠাই বন্ধুকে আর বন্ধু পাঠায় মদ/ আমার যত বন্ধু আছে সবাই ভীষণ বদ! (ছোবল)।’

আগেই বলেছি মাহফুজ ইকরাম ছন্দ- ছড়ায় প্রাজ্ঞ। প্রাজ্ঞতার অর্জনে ছন্দ অন্তমিলের প্রচলিতের অচলায়তন ভাঙতে অন্ত্যমিলে নতুনত আনত্বে চেষ্টা করেছেন। যদিও এটি নতুন কিছু না। তবু প্রচলিত ধারার ব্যাতিক্রমের প্রচেষ্টা বলা যায়।’ সরকারি মাল, রিলিফ, টিআর/ গরিব- দুখীর হক মেরে খায়,/ বাইরে লাগায় ভালোর খোলস/ তলে তলে ঠক মেরে খায়। (দুর্নীতিবাজ)’। সচরাচর সহজলভ্য অন্ত্যমিল আর গতানুগতিক ধারায় আবর্তিত সমগ্র বইয়ের সবগুলো ছড়া। ছড়ার ভাব, বিষয়, উপস্থাপন পাঠক হৃদয় জয় করতে সক্ষম এবং মাহফুজ ইকরাম একজন দক্ষ ছড়াকার হিসেবে হাজির হয়েছেন এই বইয়ে। এখন তাকে সামনে এগুতে হবে নতুনত্বের অভিযাত্রায়। ছড়ার ভাঙচুর,অন্ত্যমিলের চমৎকারিত্ব, ভাবনার অভিনবত্ব যতবেশি দেখাতে সক্ষম হবে ততবেশি গ্রাহ্য হবেন ছড়ার অঙ্গণে। এই যে আলাপ এসব কিন্তু কোন অভিযোগ না, না কোন পরামর্শ। এসব কেবলই কিছু প্রস্তাবনা। প্রচেষ্টা যে করেননি তাও নয়। চেষ্টার নমুনা রেখেছেন শেষ ছড়ার আগের ছড়ায়। কোন ছড়ায় তা পাঠকের জন্য রয়ে গেল কৌতূহলোদ্দীপক হিসেবে। মূলত মাহফুজ ইকরাম ছড়ায় তুলে ধরেছেন অনিয়ম, অসঙ্গতি, ন্যায় অন্যায়ের চিত্র। প্রকাশ করেছেন ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে ঘটে যাওয়া জুলুমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ।

মাহফুজ ইকরাম একজন আলেম, একজন ছড়াকার এবং একজন সমাজ সচেতন নাগরিক। তার ছড়ায় আছে বিশ্বাস ও বিপ্লবের মিশ্রণ। মাহফুজ ইকরাম ছড়া অন্তঃপ্রাণ মানুষ। নিরন্তর প্রচেষ্টায় নিজেকে ছড়ায় উজ্জ্বলতর স্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে আশা করি। ‘মুগুর’ তার প্রথম ছড়াগ্রন্থ। প্রথম গ্রন্থেই তিনি রেখেছেন নিজের সক্ষমতার সাক্ষর। বইটির প্রকাশক কিংবদন্তি নামক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। প্রচ্ছদ শিল্পী হিসেবে আছেন দিনার মিনহাজ। ৬৪ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ১৮০ টাকা। পৃষ্ঠা ও বইয়ের নামের মাঝখানের চিহ্নটি দধষ্টিভ্রম কিংবা দৃষ্টিকটু মনে হয়। তার বইটি পৌছে যাক পাঠকের হাতে হাতে। বইটির পরিবেশক বারান্দা, ৩৪ নর্থব্রুক হল রোড (মাদ্রাসা মার্কেট ২য় তলা) বাংলাবাজার, ঢাকা। বইটি পেতে অনলাইন বিক্রয় মাধ্যম বইফেরী, রকমারি ডটকম কিংবা লেখকের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

লেখক: তাজ ইসলাম, কবি ও সাহিত্য সমালোচক

সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের মালিক গ্রেফতারে লাগবে আদালতের অনুমতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের মালিক গ্রেফতারে লাগবে আদালতের অনুমতি

সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক, সংবাদ ও গণমাধ্যমের মালিক কিংবা কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের আগে সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারভুক্ত আদালতের পূর্বানুমতি নেয়ার বিধান যুক্ত হতে যাচ্ছে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনটির খসড়া পর্যালোচনায় গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এনিয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।

বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সুনির্দিষ্ট মতামত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই আইনের খসড়ায় পরিমার্জন করা হচ্ছে, যেন কোনোভাবেই নতুন এই আইনটি স্বাধীন সাংবাদিকতা কিংবা গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর কোনো হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, সংবাদের কারণে সাংবাদিকদের গ্রেফতারে আদালতের অনুমতির বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এ ছাড়া মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা এবং সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলোকে আলাদা করে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে দেশের মূল দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় গুজব ও অপতথ্যের (মিসইনফরমেশন) সংজ্ঞাকেও আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে আইনের অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে কাউকে হয়রানি করা না যায়।

নতুন খসড়ায় কোনো প্রকার মোবাইল কোর্টের বিধান না রাখা, কোনো ডিজিটাল কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে লিখিত কারণ দর্শানো এবং তা অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

এমনকি যে কোনো মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রস্তাব আনা হয়েছে।

সভায় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের নতুন সদস্যকাঠামোতে গণমাধ্যমের প্রতিনিধি রাখা এবং মেটা, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই পরিমার্জিত খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে সাধারণ নাগরিক ও সকল অংশীজন নিজেদের মতামত দিতে পারেন।

সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেন, সাইবার অপরাধ ও হুমকি প্রতিহত করার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের ভারসাম্যের ওপর ভিত্তি করেই একটি সময়োপযোগী সাইবার সুরক্ষা আইন তৈরি করা হবে। জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির বিশেষ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় আইসিটি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামানসহ সরকারের নীতি নির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এইচএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা ১ ডিসেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
এইচএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা ১ ডিসেম্বর

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে। এ পরীক্ষায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করতে হবে ৫ থেকে ৯ নভেম্বরের মধ্যে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নিয়মিত অথবা অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রণীত ২০২৬ সালের পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যসূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা হবে ২০২৫ সালের পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচি অনুসারে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য তালিকা বোর্ডের ওয়েবসাইটে (www.dhakaeducationboard.gov.bd) প্রকাশ করা হবে। ওই তালিকা থেকে ৫ নভেম্বর থেকে ৯ নভেম্বরের মধ্যে ফরম পূরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

পরীক্ষার ফি সোনালী সেবার মাধ্যমে জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১০ নভেম্বর। এ ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিবের অনুকূলে অর্থ জমা দিয়ে রশিদ সংগ্রহ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ওই রশিদ সংরক্ষণ করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার জন্য প্রতি পত্র বা বিষয়ে ১২৫ টাকা এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য প্রতি পত্র বা বিষয়ে ২৫ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষার কেন্দ্র ফি বাবদ দিতে হবে ৪৫০ টাকা।

সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

ফতুল্লায় শ্রমিকদের আন্দোলন: পুলিশের মামলায় আসামি ২১, অজ্ঞাত ১৫০০

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
ফতুল্লায় শ্রমিকদের আন্দোলন: পুলিশের মামলায় আসামি ২১, অজ্ঞাত ১৫০০

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। এতে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে এক হাজার থেকে দেড় হাজার জনকে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোররাতে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকার উৎখাত এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বেতন বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে পোশাকশ্রমিকদের উসকানি দিয়ে সংগঠিত করেন। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে কয়েকটি কারখানার এক থেকে দেড় হাজার শ্রমিককে নিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ করা হয়। এ সময় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একাধিকবার চেষ্টা করেন। তবে বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও তাঁদের উসকানিদাতারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৮৩ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফতুল্লার লামাপাড়ার মফিজুল ইসলামের ছেলে শামীম হাসান (২৮), কোতালেরবাগ বউবাজার এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. মামুন (২৬), ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে ওমর ফারুক (৩৮), রামারবাগ এলাকার ইমান তৌফিকের ছেলে ইমান ইমন (২৬), কোতালেরবাগ এলাকার প্রয়াত লিয়াকত হোসেনের ছেলে শাহিন আহম্মেদ এবং কায়েমপুর এলাকার আক্তারুজ্জামানের ছেলে আতিকুর রহমান (২৫)।

গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি মাহবুব আলম। আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানান, রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নারায়ণগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তফা কামাল (৪৮), সদস্য মজিবর রহমান (৪৬), জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি টিপু সুলতান (৪০), যুবলীগ নেতা আজমত আলী (৪৫), মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু (৪৫) ও রাকিব হোসেন (২৮)।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধের সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

ব্রেকিং নিউজ