কলাম
ভিপি নূর ও গণঅধিকার পরিষদকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারেনি বিএনপি
ফ্যাসিবাদী শাসনের সেই কঠিন ও রক্তচক্ষুর দিনে যখন বিএনপির মতো বিশাল রাজনৈতিক সংগঠনও রাজপথে দিশেহারা জামায়াতের মতো সুসংগঠিত দলগুলো যেখানে নিজেদের অস্তিত্ব প্রকাশ করতে হিমশিম খাচ্ছিল কিংবা ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের মর্মান্তিক ঘটনার পর হেফাজতের মতো ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলো যখন কোণঠাসা ঠিক তখনই দেশের প্রতিটি নিপীড়িত ও সাধারণ মানুষের একমাত্র সাহসের কণ্ঠস্বর হয়ে আবির্ভূত হয়েছিল ভিপি নূর। ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক কোটা সংস্কার আন্দোলনের পথ ধরে ২০২১ সালে রূপ নেয় গণঅধিকার পরিষদ।
কোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা এজেন্সির তোয়াক্কা না করে একদল নিঃস্বার্থ ও তরুণ লড়াকু যোদ্ধাদের নিয়ে শুরু হয় এই রাজনৈতিক যাত্রা। স্বল্প সময়ে কেন্দ্র থেকে শুরু করে একদম তৃণমূলের উপজেলা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সংগঠনটিকে সুসংগঠিত করা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। ২৪ এর রক্তঝরা ঐতিহাসিক ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে ভিপি নূরের আপসহীন লড়াই আর রুট লেভেল থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আজ সর্বজনবিদিত।
অথচ পরিতাপের বিষয় হলো এমন একজন গণমুখী ও প্রভাবশালী নেতাকে বিএনপি সরকার মূল্যায়ন করল মাত্র একটি প্রতিমন্ত্রীর পদ দিয়ে। আমাদের ক্ষোভ ও দাবির জায়গাটি এখানেই। বিএনপি তো তাদের দলের বাইরে থেকেও আরও দুজনকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছে। একজন ববি হাজ্জাজ যার দলের নামও এ দেশের সাধারণ মানুষ ঠিকমতো চেনে না যদিও সে পরে দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেয়। অন্যজন জোনায়েদ সাকি যার গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে কে বা কারা আছেন তা দেশবাসীর কাছে প্রায় অজানা। আবার আন্দালিব রহমান পার্থকেও একটি আসন দেওয়া হয়েছে অথচ তাঁর দলকে মানুষ চেনে কেবল তাঁর একক পরিচিতির ওপর ভর করে।
যেখানে এমন নামসর্বস্ব ও জনবিচ্ছিন্ন দলগুলোকে একটি করে প্রতিমন্ত্রী ও আসন দেওয়া হলো সেখানে গণঅধিকার পরিষদের মতো একটি সর্বস্তরে সুসংগঠিত ও ব্যাপক পরিচিত দলকে কেন তাদের সমকক্ষে এনে দাঁড় করানো হলো। তাহলে আর নামসর্বস্ব দলগুলোর সাথে রাজপথ কাঁপানো গণঅধিকার পরিষদের পার্থক্যটা কোথায় রইল।
তাই বিএনপির কাছে আমাদের পরিষ্কার দাবি হয় ভিপি নূরকে এখনই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিত্ব দিন না হলে গণঅধিকার পরিষদ ও ভিপি নূরের এখনই গভীরভাবে ভাবা উচিত তারা আর কতদিন এই নামমাত্র মন্ত্রিসভায় থাকবে।
লেখক: সহ-ধর্মীয় সম্প্রীতি বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ , কেন্দ্রীয় সাংসদ।

আপনার মতামত লিখুন