খুঁজুন
শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলাম

বেশি লম্বা মানুষের বুদ্ধি থাকে হাঁটুতে!

পলাশ রহমান
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
বেশি লম্বা মানুষের বুদ্ধি থাকে হাঁটুতে!

 ছাত্র হয়ে শিক্ষকের রাজনীতির বিরোধিতা করার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে- সৈয়দ ফজলুল করিম সাহেব তখন বলেছিলেন, ওস্তাদ যদি ইমামতিতে ভুল করেন, পেছন থেকে ‘লোকমা’ দেয়া ওয়াজিব হয়ে যায়। এখানে ছাত্র-শিক্ষক বলে- মেনে নেয়ার কোনো সুযোগ ইসলাম রাখেনি।

শায়খুল হাদিস আজিজুল হক সাহেবকে এক সময় বলা হতো- বাংলাদেশের সকল আলেমদের শিক্ষক। তিনি বোখারী শরীফের অনুবাদক। তিনি কতো উঁচু মাপের আলেম ছিলেন, তা আমার পক্ষে বোঝা কঠিন। কিন্তু তাঁর প্রতি দেশের আলেম-ওলামাদের ভক্তি শ্রদ্ধা দেখে ধারণা করতে পারি, ইলমি গভীরতার দিক থেকে তিনি ছিলেন অনেক উপরের মানুষ।

সুতরাং আলেম আজিজুল হক সাহেব কে নিয়ে আমার কোনো প্রশ্ন নেই, কিন্তু রাজনীতিক আজিজুল হক সাহেবকে নিয়ে অনেক কথা আছে।

আজিজুল হক সাহেব ছিলেন, ইসলামী ঐক্য জোটের প্রধান। ছ’টা দল মিলে গঠিত ওই জোট নিয়ে তিনি এবং মুফতি আমিনী সাহেব, বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটে যোগ দিয়েছিলেন। তখন দেশের আলেম-ওলামারা প্রকাশ্যে খুব একটা উচ্চ-বাচ্য না করলেও, ই আন্দোলনের মরহুম নেতা এবং আজিজুল হক সাহেবের ছাত্র সৈয়দ ফজলুল করিম সাহেব প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি ইসলামী ঐক্যজোট থেকে তার দল নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।

ফজলুল করিম সাহেব বলেছিলেন, ইসলামী ঐক্য জোট গঠিত হয়েছে, ইসলামকে বিজয়ী করার জন্য। অন্য কারো ক্ষমতার সিড়ি হওয়ার জন্য নয়। তাছাড়া সে সময় বিএনপি’র নেতৃত্বে ছিলেন, বেগম খালেদা জিয়া। সুতরাং নারী নেতৃত্ব নিয়েও তাঁর ঘোর আপত্তি ছিলো।

ছাত্র হয়ে শিক্ষকের রাজনীতির বিরোধিতা করার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে- সৈয়দ ফজলুল করিম সাহেব তখন বলেছিলেন, ওস্তাদ যদি ইমামতিতে ভুল করেন, পেছন থেকে ‘লোকমা’ দেয়া ওয়াজিব হয়ে যায়। এখানে ছাত্র-শিক্ষক বলে- মেনে নেয়ার কোনো সুযোগ ইসলাম রাখেনি।

আজিজুল হক সাহেব তাঁর দল ‘মজলিস’ নিয়ে আউমীলীগের সাথে ঐক্য করেছিলেন। লিখিত চুক্তি করেছিলেন। পরবর্তীতে, ‘সুশীল/প্রগতিশীল’ নামের ফ্যাসিস্টদের চাপে আউমীলীগ সে চুক্তি বাতিল করেছিলো। ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলো মজলিসকে।

আজিজুল হক সাহেব নিজের গোত্র ছেড়ে বা ইসলামপন্থীদের ছেড়ে ভিন্ন আদর্শের বিএনপি এবং আউমীলীগের সাথে ঐক্য করেছিলেন কেনো? যে আদর্শকে তিনি ‘কুফর’ মনে করতেন, সেই আদর্শের সাথে (চতুর্থ নাম্বার দল হিসাবে) জোটবদ্ধ হওয়ার পেছনে- ‘ক্ষমতা’ ছাড়া অন্য কোনো কারণ কি আদৌ ছিলো? যে জামাতকে তিনি ‘মওদুদী ফেতনা’ মনে করতেন, চার দলীয় জোটের মাধ্যমে সেই দলের সাথে মিলেমিশে রাজনীতি করা কি নৈতিকভাবে সঠিক ছিলো?

আজিজুল হক সাহেবের সাত (সম্ভবত) ছেলে। তারা সবাই মেধাবী। তাদের মধ্যে মামুনুল হক দেশের সাধারণ মানুষের কাছে বেশি পরিচিত। কারণ, তিনি একাধারে রাজনীতিক, ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতের নেতা এবং ৫০১ সেলিব্রিটি (যে ঘোষণা তিনি নিজেই দিয়েছেন)।

মামুনুল হক বেশি পরিচিতি পেয়েছেন ‘৫০১’ কান্ড ঘটিয়ে। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সময়ে অদুরদর্শী বাড়াবাড়ি করে- একগাদা মানুষের জীবন ঝরিয়ে ছিলেন। তাদের রক্ত মাড়িয়ে- কথিত স্ত্রীকে নিয়ে রিসোর্টে গিয়েছিলেন ‘আরাম’ করতে। রিসোর্ট থেকে বেরিয়ে তার ঘরের স্ত্রীকে টেলিফোনে মিথ্যা বলেছিলেন। সেই রেকর্ড এখনো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাসে। ঝরনার সাথে নাকি তার দু’বছরের সম্পর্ক ছিলো। যদি সত্যি হয়, ওই দু’বছর তাকে কতো মিথ্যা কথা বলতে হয়েছে, কতো রকমের ছলচাতুরি করতে হয়েছে পরিবারের সাথে- তা কি আলাদা করে বলার কোনো প্রয়োজন আছে?

সে সময় অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন- এমন অসৎ, প্রকাশ্য মিথ্যাবাদীর কাছ থেকে হাদীসের পাঠ নেয়া কি জায়েজ আছে? তার ইচ্ছাকৃত ‘মিথ্যা’ প্রমাণিত হওয়ার পরে- যারা তার কাছ থেকে ‘সনদ’ নিয়েছে, সেগুলো কি বাতিল হয়ে যায়নি?

এ বিষয়ে আমার জ্ঞানের ঘাটতি আছে, সুতরাং আমার আলোচনা এটা নয়। মামুনুল হকের ইলমি যোগ্যতা- কিদেকি সেটাও নয়। তবে আমি মনে করি, তিনি তার বাবার রাজনৈতিক ‘সিলসিলা’ ধরে রেখেছেন খুব যত্ন করে।

আজিজুল হক সাহেবের সময় থেকে বিএনপি-আউমীলীগসহ দেশের প্রায় সব আদর্শের রাজনৈতিক দলের সাথে ঐক্য করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার দলে। এতো অভিজ্ঞ একটা দল নিয়ে- তিনি কি করছেন? কোন দিকে রওনা করেছেন? ষড়যন্ত্র আর ভোগবাদ ছাড়া সত্যিকারের রাজনীতি তার মধ্যে আছে? সুষ্ঠু রাজনীতির তোয়াক্কা তিনি করেন?

আমি মনে করি, ১১ দলীয় জোট থেকে ই আন্দোলনকে বের করে দেয়ার পেছনের ষড়যন্ত্রে মামুনুল হকও ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে- ই আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা আপন ২ ভাইয়ের মধ্যে ‘ভেজাল’ লাগানোর চেষ্টা করেছেন, এর অকাট্য প্রমাণ আমার কাছে আছে। তিনি ২৪ এর আন্দোলনের সময়ও গণহত্যাকারী আউমীলীগের সাথে বৈঠক করেছেন, মোনাজাত করেছেন, সে ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরঘুর করে।

তিনি খুব নিখুঁতভাবে বিএনপি আউমীলীগের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। হেফাজতের আন্দোলন কে বিপদগামী করেছেন। মুজিবের মূর্তি সরানোর আন্দোলনের মাঠ ছেড়ে পালিয়ে ছিলেন। ভিডিও বার্তা দিয়ে নতজানু হয়েছিলেন। টেলিভিশনের স্ক্রিনে মুজিব বন্দনা করে জাতে উঠতে চেয়েছন।

আজিজুল হক সাহেবের পরিবারকে দেশের মানুষ মনে করতেন- আলেমদের এলিট পরিবার। সেই পরিবার থেকে উঠে আসা মামুনুল হকের রুচি হলো একজন পার্লার কর্মী! তার কাছে আপনারা আর কি আশা করেন! রুচি দেখেই তো তার দৌড় মাপা যায়।

আমি তাকে বাংলাদেশের কওমিপন্থী রাজনীতির বিষগুল্ম মনে করি! তার কর্মকাণ্ড দেখলে, আমার শুধু ওই প্রবাদটা মনে পড়ে – ‘বেশি লম্বা মানুষের বুদ্ধি থাকে হাঁটুতে’।

লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট

সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের মালিক গ্রেফতারে লাগবে আদালতের অনুমতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের মালিক গ্রেফতারে লাগবে আদালতের অনুমতি

সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক, সংবাদ ও গণমাধ্যমের মালিক কিংবা কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের আগে সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারভুক্ত আদালতের পূর্বানুমতি নেয়ার বিধান যুক্ত হতে যাচ্ছে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনটির খসড়া পর্যালোচনায় গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এনিয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।

বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সুনির্দিষ্ট মতামত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই আইনের খসড়ায় পরিমার্জন করা হচ্ছে, যেন কোনোভাবেই নতুন এই আইনটি স্বাধীন সাংবাদিকতা কিংবা গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর কোনো হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, সংবাদের কারণে সাংবাদিকদের গ্রেফতারে আদালতের অনুমতির বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এ ছাড়া মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা এবং সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলোকে আলাদা করে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে দেশের মূল দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় গুজব ও অপতথ্যের (মিসইনফরমেশন) সংজ্ঞাকেও আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে আইনের অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে কাউকে হয়রানি করা না যায়।

নতুন খসড়ায় কোনো প্রকার মোবাইল কোর্টের বিধান না রাখা, কোনো ডিজিটাল কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে লিখিত কারণ দর্শানো এবং তা অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

এমনকি যে কোনো মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রস্তাব আনা হয়েছে।

সভায় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের নতুন সদস্যকাঠামোতে গণমাধ্যমের প্রতিনিধি রাখা এবং মেটা, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই পরিমার্জিত খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে সাধারণ নাগরিক ও সকল অংশীজন নিজেদের মতামত দিতে পারেন।

সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেন, সাইবার অপরাধ ও হুমকি প্রতিহত করার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের ভারসাম্যের ওপর ভিত্তি করেই একটি সময়োপযোগী সাইবার সুরক্ষা আইন তৈরি করা হবে। জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির বিশেষ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় আইসিটি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামানসহ সরকারের নীতি নির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এইচএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা ১ ডিসেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
এইচএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা ১ ডিসেম্বর

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে। এ পরীক্ষায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করতে হবে ৫ থেকে ৯ নভেম্বরের মধ্যে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নিয়মিত অথবা অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রণীত ২০২৬ সালের পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যসূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা হবে ২০২৫ সালের পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচি অনুসারে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য তালিকা বোর্ডের ওয়েবসাইটে (www.dhakaeducationboard.gov.bd) প্রকাশ করা হবে। ওই তালিকা থেকে ৫ নভেম্বর থেকে ৯ নভেম্বরের মধ্যে ফরম পূরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

পরীক্ষার ফি সোনালী সেবার মাধ্যমে জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১০ নভেম্বর। এ ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিবের অনুকূলে অর্থ জমা দিয়ে রশিদ সংগ্রহ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ওই রশিদ সংরক্ষণ করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার জন্য প্রতি পত্র বা বিষয়ে ১২৫ টাকা এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য প্রতি পত্র বা বিষয়ে ২৫ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষার কেন্দ্র ফি বাবদ দিতে হবে ৪৫০ টাকা।

সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

ফতুল্লায় শ্রমিকদের আন্দোলন: পুলিশের মামলায় আসামি ২১, অজ্ঞাত ১৫০০

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
ফতুল্লায় শ্রমিকদের আন্দোলন: পুলিশের মামলায় আসামি ২১, অজ্ঞাত ১৫০০

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। এতে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে এক হাজার থেকে দেড় হাজার জনকে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোররাতে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকার উৎখাত এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বেতন বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে পোশাকশ্রমিকদের উসকানি দিয়ে সংগঠিত করেন। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে কয়েকটি কারখানার এক থেকে দেড় হাজার শ্রমিককে নিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ করা হয়। এ সময় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একাধিকবার চেষ্টা করেন। তবে বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও তাঁদের উসকানিদাতারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৮৩ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফতুল্লার লামাপাড়ার মফিজুল ইসলামের ছেলে শামীম হাসান (২৮), কোতালেরবাগ বউবাজার এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. মামুন (২৬), ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে ওমর ফারুক (৩৮), রামারবাগ এলাকার ইমান তৌফিকের ছেলে ইমান ইমন (২৬), কোতালেরবাগ এলাকার প্রয়াত লিয়াকত হোসেনের ছেলে শাহিন আহম্মেদ এবং কায়েমপুর এলাকার আক্তারুজ্জামানের ছেলে আতিকুর রহমান (২৫)।

গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি মাহবুব আলম। আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানান, রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নারায়ণগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তফা কামাল (৪৮), সদস্য মজিবর রহমান (৪৬), জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি টিপু সুলতান (৪০), যুবলীগ নেতা আজমত আলী (৪৫), মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু (৪৫) ও রাকিব হোসেন (২৮)।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধের সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

ব্রেকিং নিউজ