খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলাম

বেশি লম্বা মানুষের বুদ্ধি থাকে হাঁটুতে!

পলাশ রহমান
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
বেশি লম্বা মানুষের বুদ্ধি থাকে হাঁটুতে!

 ছাত্র হয়ে শিক্ষকের রাজনীতির বিরোধিতা করার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে- সৈয়দ ফজলুল করিম সাহেব তখন বলেছিলেন, ওস্তাদ যদি ইমামতিতে ভুল করেন, পেছন থেকে ‘লোকমা’ দেয়া ওয়াজিব হয়ে যায়। এখানে ছাত্র-শিক্ষক বলে- মেনে নেয়ার কোনো সুযোগ ইসলাম রাখেনি।

শায়খুল হাদিস আজিজুল হক সাহেবকে এক সময় বলা হতো- বাংলাদেশের সকল আলেমদের শিক্ষক। তিনি বোখারী শরীফের অনুবাদক। তিনি কতো উঁচু মাপের আলেম ছিলেন, তা আমার পক্ষে বোঝা কঠিন। কিন্তু তাঁর প্রতি দেশের আলেম-ওলামাদের ভক্তি শ্রদ্ধা দেখে ধারণা করতে পারি, ইলমি গভীরতার দিক থেকে তিনি ছিলেন অনেক উপরের মানুষ।

সুতরাং আলেম আজিজুল হক সাহেব কে নিয়ে আমার কোনো প্রশ্ন নেই, কিন্তু রাজনীতিক আজিজুল হক সাহেবকে নিয়ে অনেক কথা আছে।

আজিজুল হক সাহেব ছিলেন, ইসলামী ঐক্য জোটের প্রধান। ছ’টা দল মিলে গঠিত ওই জোট নিয়ে তিনি এবং মুফতি আমিনী সাহেব, বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটে যোগ দিয়েছিলেন। তখন দেশের আলেম-ওলামারা প্রকাশ্যে খুব একটা উচ্চ-বাচ্য না করলেও, ই আন্দোলনের মরহুম নেতা এবং আজিজুল হক সাহেবের ছাত্র সৈয়দ ফজলুল করিম সাহেব প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি ইসলামী ঐক্যজোট থেকে তার দল নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।

ফজলুল করিম সাহেব বলেছিলেন, ইসলামী ঐক্য জোট গঠিত হয়েছে, ইসলামকে বিজয়ী করার জন্য। অন্য কারো ক্ষমতার সিড়ি হওয়ার জন্য নয়। তাছাড়া সে সময় বিএনপি’র নেতৃত্বে ছিলেন, বেগম খালেদা জিয়া। সুতরাং নারী নেতৃত্ব নিয়েও তাঁর ঘোর আপত্তি ছিলো।

ছাত্র হয়ে শিক্ষকের রাজনীতির বিরোধিতা করার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে- সৈয়দ ফজলুল করিম সাহেব তখন বলেছিলেন, ওস্তাদ যদি ইমামতিতে ভুল করেন, পেছন থেকে ‘লোকমা’ দেয়া ওয়াজিব হয়ে যায়। এখানে ছাত্র-শিক্ষক বলে- মেনে নেয়ার কোনো সুযোগ ইসলাম রাখেনি।

আজিজুল হক সাহেব তাঁর দল ‘মজলিস’ নিয়ে আউমীলীগের সাথে ঐক্য করেছিলেন। লিখিত চুক্তি করেছিলেন। পরবর্তীতে, ‘সুশীল/প্রগতিশীল’ নামের ফ্যাসিস্টদের চাপে আউমীলীগ সে চুক্তি বাতিল করেছিলো। ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলো মজলিসকে।

আজিজুল হক সাহেব নিজের গোত্র ছেড়ে বা ইসলামপন্থীদের ছেড়ে ভিন্ন আদর্শের বিএনপি এবং আউমীলীগের সাথে ঐক্য করেছিলেন কেনো? যে আদর্শকে তিনি ‘কুফর’ মনে করতেন, সেই আদর্শের সাথে (চতুর্থ নাম্বার দল হিসাবে) জোটবদ্ধ হওয়ার পেছনে- ‘ক্ষমতা’ ছাড়া অন্য কোনো কারণ কি আদৌ ছিলো? যে জামাতকে তিনি ‘মওদুদী ফেতনা’ মনে করতেন, চার দলীয় জোটের মাধ্যমে সেই দলের সাথে মিলেমিশে রাজনীতি করা কি নৈতিকভাবে সঠিক ছিলো?

আজিজুল হক সাহেবের সাত (সম্ভবত) ছেলে। তারা সবাই মেধাবী। তাদের মধ্যে মামুনুল হক দেশের সাধারণ মানুষের কাছে বেশি পরিচিত। কারণ, তিনি একাধারে রাজনীতিক, ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতের নেতা এবং ৫০১ সেলিব্রিটি (যে ঘোষণা তিনি নিজেই দিয়েছেন)।

মামুনুল হক বেশি পরিচিতি পেয়েছেন ‘৫০১’ কান্ড ঘটিয়ে। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সময়ে অদুরদর্শী বাড়াবাড়ি করে- একগাদা মানুষের জীবন ঝরিয়ে ছিলেন। তাদের রক্ত মাড়িয়ে- কথিত স্ত্রীকে নিয়ে রিসোর্টে গিয়েছিলেন ‘আরাম’ করতে। রিসোর্ট থেকে বেরিয়ে তার ঘরের স্ত্রীকে টেলিফোনে মিথ্যা বলেছিলেন। সেই রেকর্ড এখনো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাসে। ঝরনার সাথে নাকি তার দু’বছরের সম্পর্ক ছিলো। যদি সত্যি হয়, ওই দু’বছর তাকে কতো মিথ্যা কথা বলতে হয়েছে, কতো রকমের ছলচাতুরি করতে হয়েছে পরিবারের সাথে- তা কি আলাদা করে বলার কোনো প্রয়োজন আছে?

সে সময় অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন- এমন অসৎ, প্রকাশ্য মিথ্যাবাদীর কাছ থেকে হাদীসের পাঠ নেয়া কি জায়েজ আছে? তার ইচ্ছাকৃত ‘মিথ্যা’ প্রমাণিত হওয়ার পরে- যারা তার কাছ থেকে ‘সনদ’ নিয়েছে, সেগুলো কি বাতিল হয়ে যায়নি?

এ বিষয়ে আমার জ্ঞানের ঘাটতি আছে, সুতরাং আমার আলোচনা এটা নয়। মামুনুল হকের ইলমি যোগ্যতা- কিদেকি সেটাও নয়। তবে আমি মনে করি, তিনি তার বাবার রাজনৈতিক ‘সিলসিলা’ ধরে রেখেছেন খুব যত্ন করে।

আজিজুল হক সাহেবের সময় থেকে বিএনপি-আউমীলীগসহ দেশের প্রায় সব আদর্শের রাজনৈতিক দলের সাথে ঐক্য করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার দলে। এতো অভিজ্ঞ একটা দল নিয়ে- তিনি কি করছেন? কোন দিকে রওনা করেছেন? ষড়যন্ত্র আর ভোগবাদ ছাড়া সত্যিকারের রাজনীতি তার মধ্যে আছে? সুষ্ঠু রাজনীতির তোয়াক্কা তিনি করেন?

আমি মনে করি, ১১ দলীয় জোট থেকে ই আন্দোলনকে বের করে দেয়ার পেছনের ষড়যন্ত্রে মামুনুল হকও ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে- ই আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা আপন ২ ভাইয়ের মধ্যে ‘ভেজাল’ লাগানোর চেষ্টা করেছেন, এর অকাট্য প্রমাণ আমার কাছে আছে। তিনি ২৪ এর আন্দোলনের সময়ও গণহত্যাকারী আউমীলীগের সাথে বৈঠক করেছেন, মোনাজাত করেছেন, সে ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরঘুর করে।

তিনি খুব নিখুঁতভাবে বিএনপি আউমীলীগের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। হেফাজতের আন্দোলন কে বিপদগামী করেছেন। মুজিবের মূর্তি সরানোর আন্দোলনের মাঠ ছেড়ে পালিয়ে ছিলেন। ভিডিও বার্তা দিয়ে নতজানু হয়েছিলেন। টেলিভিশনের স্ক্রিনে মুজিব বন্দনা করে জাতে উঠতে চেয়েছন।

আজিজুল হক সাহেবের পরিবারকে দেশের মানুষ মনে করতেন- আলেমদের এলিট পরিবার। সেই পরিবার থেকে উঠে আসা মামুনুল হকের রুচি হলো একজন পার্লার কর্মী! তার কাছে আপনারা আর কি আশা করেন! রুচি দেখেই তো তার দৌড় মাপা যায়।

আমি তাকে বাংলাদেশের কওমিপন্থী রাজনীতির বিষগুল্ম মনে করি! তার কর্মকাণ্ড দেখলে, আমার শুধু ওই প্রবাদটা মনে পড়ে – ‘বেশি লম্বা মানুষের বুদ্ধি থাকে হাঁটুতে’।

লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট

সীমান্ত বেষ্টনী টপকে মাদকের থাবা: অতিষ্ঠ কুড়িগ্রামের জনজীবন

বিশেষ প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ
সীমান্ত বেষ্টনী টপকে মাদকের থাবা: অতিষ্ঠ কুড়িগ্রামের জনজীবন

ভারতের সীমান্তঘেঁষা উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে মাদক পাচার ও কারবার ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে রৌমারী, ভূরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ীসহ সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোকে রুট হিসেবে ব্যবহার করছে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মাদক সিন্ডিকেট। সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিদিন আসছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, এসকাফ এবং গাঁজার বড় বড় চালান।

অভিযানে উদ্ধার ও সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের ঘটনা বাড়লেও থামছে না মাদকের অবাধ প্রবেশ। জেলা পুলিশ, ডিবি ও র‍্যাবের পৃথক অভিযানে প্রতিনিয়তই ধরা পড়ছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও কারবারি। সম্প্রতি ফুলবাড়ী ও রৌমারী সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় র‍্যাব ও পুলিশের অভিযানে কেজিতে কেজি গাঁজা, হাজার হাজার পিস ইয়াবা ও ফেনসিডিলসহ একাধিক তালিকাভুক্ত কারবারিকে আটক করা হয়েছে। তবে মূল হোতারা প্রায়ই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে সরেজমিনে জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ীদের দাপটে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। মাদক বিক্রেতারা স্থানীয় বেকার যুবকদের প্রলোভন দেখিয়ে বাহক হিসেবে ব্যবহার করছে, ফলে মারাত্মক সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম ৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, “মাদকের ভয়াল থাবা থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্ম ও সমাজকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। মাদক চোরচালান বন্ধে সীমান্ত পাহারা আরো কঠোর করার পাশাপাশি জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধী বা গডফাদার যে দলেরই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে বদ্ধপরিকর।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এটি একটি সংবেদনশীল অঞ্চল। তবে জিরো টলারেন্স নীতিতে প্রতিনিয়ত বিশেষ কম্বিং অপারেশন ও ডিবি অভিযান চালানো হচ্ছে। চিহ্নিত স্পটগুলোতে নজরদারি আরো বাড়ানো হয়েছে।”

সুশীল সমাজের মতে, কেবল কয়েকটি চালান ধরা বা বাহকদের গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়। সীমান্ত পাহারায় কঠোর নজরদারি এবং মূল গডফাদারদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে সীমান্ত অঞ্চলের তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

লালমোহনে বিএনপি-যুবদলের দুই নেতার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল

শফিকুর রহমান সবুজ, লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
লালমোহনে বিএনপি-যুবদলের দুই নেতার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল

ভোলা জেলার লালমোহন পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব ছাদেক মিয়া জান্টু ও উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কাজী হাসানুজ্জামান শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে চীনের কুনমিং শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় লালমোহন উপজেলা যুবদলের উদ্যোগে দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) আয়োজিত এ দোয়া মাহফিলে উপজেলা যুবদলের সভাপতি কবির হাওলাদারের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বশির হাওলাদারের সঞ্চালনায় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন, শফিউল্লাহ হাওলাদার, সোহেল আজীজ শাহিনসহ বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

দোয়া ও মোনাজাতে অসুস্থ দুই নেতার দ্রুত আরোগ্য, সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। একই সঙ্গে তাদের দ্রুত দেশে ফিরে আসার জন্য মহান আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে প্রার্থনা করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।

জুলাই-জুনের বদলে এপ্রিল-মার্চে অর্থবছর চালুর সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ণ
জুলাই-জুনের বদলে এপ্রিল-মার্চে অর্থবছর চালুর সিদ্ধান্ত

দেশের অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত অর্থবছর গণনা করা হলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত হবে অর্থবছর।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৭তম বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থ বিভাগের উদ্যোগে উত্থাপিত প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারের যুক্তি, জুলাই-আগস্টে বর্ষাকাল থাকায় বছরের শুরুতেই বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এতে বৃষ্টির কারণে নির্মাণকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কাজের মেয়াদ বাড়ে, গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। অর্থবছর এপ্রিল-মার্চ করা হলে বর্ষা শুরুর আগেই উন্নয়নকাজের বড় অংশ শেষ করা সম্ভব হবে।

২০২৭-২৮ হবে মাত্র ৯ মাসের অর্থবছর

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নতুন অর্থবছর চালু করতে সরাসরি বর্তমান অর্থবছর থেকে পরিবর্তন না এনে একটি ট্রানজিশনাল বা অন্তর্বর্তী অর্থবছর রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ২০২৭-২৮ অর্থবছর জুলাই ২০২৭ থেকে শুরু হয়ে মাত্র নয় মাস পর, অর্থাৎ ২০২৮ সালের মার্চে শেষ হবে। এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে ১ এপ্রিল ২০২৮ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৯ পর্যন্ত নতুন সময়সূচি অনুযায়ী সরকারের আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। অর্থাৎ, দীর্ঘদিনের জুলাই-জুন অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে সরে গিয়ে আগামী দুই বছরের মধ্যে এপ্রিল-মার্চ অর্থবছরে যাবে বাংলাদেশ।

সংবিধানসহ আইনে আসবে পরিবর্তন

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করতে বেশ কিছু আইন ও বিধিতে সংশোধন আনতে হবে। এ জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এবং জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। বাজেট প্রণয়ন, রাজস্ব আহরণ, সরকারি ব্যয়, হিসাব সংরক্ষণ, অর্থ ছাড়সহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ব্যবস্থাগুলো নতুন অর্থবছরের সময়সীমার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

নতুন অর্থবছর বাস্তবায়নের বিস্তারিত কর্মপন্থা নির্ধারণে একটি কমিটি গঠন করা হবে। এতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ এবং অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। কমিটি আইন সংশোধন, প্রশাসনিক প্রস্তুতি, বাজেট প্রণয়ন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনসহ অর্থবছর পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।

ব্রেকিং নিউজ