খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ

বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে হাসনাত আব্দুল্লাহর ৪ প্রস্তাব

দেশজামানা ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ
বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে হাসনাত আব্দুল্লাহর ৪ প্রস্তাব

বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে ছয় মাসের সময়সীমা দিয়ে যে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন, তা গ্রহণ করে এরই মধ্যে সুনির্দিষ্ট সমাধান প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি।

তিনি বলেন, এনসিপির আহ্বায়ক, সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে ৩০ দিন, ৬ থেকে ১৮ মাস এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাসহ মোট ১৫ দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদে পাঁচটি, মধ্যমেয়াদে ছয়টি এবং দীর্ঘমেয়াদে চারটি প্রস্তাব রয়েছে।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আগেই স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ দেওয়ার আগে এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করেননি। তাঁর মতে, সরকারের বিশাল মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টা পরিষদ থাকার পরও নাগরিক সমাজ ও বিরোধী দলের দেওয়া প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে না পৌঁছানো অত্যন্ত হতাশাজনক।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকি নীতি, জ্বালানি পরিকল্পনা, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান এবং ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান নিয়েও বিরোধী দলের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। নাগরিক সমাজ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকেও এ বিষয়ে মতামত এসেছে। এসব বিষয় জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে এবং বিভিন্ন সেমিনারেও আলোচনা হয়েছে।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী মিলিয়ে সরকারের ৬২ জনের সভাসদ রয়েছে। কিন্তু তাঁদের একজনও যদি নাগরিক মতামত কিংবা বিরোধী দলের প্রস্তাবনা পর্যালোচনা না করে থাকেন, তাহলে সেটি শুধু নীতিগত ব্যর্থতা নয়, সরকারের টিমের কার্যকারিতা, সক্ষমতা ও যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।

তিনি বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন আহ্বানের বিরোধী দলের দাবির প্রতিও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁর ভাষায়, বিদ্যুৎ সংকটের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের উচিত বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করা এবং সংসদে এর সমাধান খোঁজা।

বিদ্যুৎ খাতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, গত ছয় মাসে প্রশাসনে ব্যাপক দলীয় পদায়নের ফলে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে জ্বালানি পরিকল্পনা, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট জায়গায় ভর্তুকি কমানো হলেও ক্যাপাসিটি চার্জের মতো ব্যয় বহাল রয়েছে। পাশাপাশি মহেশখালীর এফএসআরইউতে অগ্নিকাণ্ডের পর রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুমোদিত ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫’ বাস্তবায়নেরও দাবি জানান হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, এই কাঠামোর আওতায় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা সরাসরি বড় শিল্প ভোক্তার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারে। দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ হবে এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিষয়টি অবহিত থাকবে। উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। এতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন নেই।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এই নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মূলত সার্ভিস লেভেল অ্যাগ্রিমেন্ট (এসএলএ) এবং হুইলিং চার্জের কাঠামো চূড়ান্ত করাই বাকি। তাঁর দাবি, এটি কয়েক সপ্তাহের প্রশাসনিক কাজ; কোনো জটিল বা অসম্ভব বিষয় নয়।

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ছয় মাসের সময়সীমা মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এই সময়ের হিসাব বিরোধী দলের নয়, সরকারের। মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি বাস্তবায়ন করতেই যদি ছয় মাসের বেশি সময় লাগে, তাহলে সেটি আর নীতিগত জটিলতা হিসেবে দেখার সুযোগ থাকবে না; বরং তা সরকারের সক্ষমতার ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি হবে।

সরকারের নীতি নির্ধারণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রমাণিতভাবে ব্যর্থ মন্ত্রী ও অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে কৌশলগত খাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বলা যায় না। এটি বরং ‘আই হ্যাভ নো প্ল্যান’-এর পরীক্ষা।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, একটি কার্যকর গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে আলটিমেটাম বা চ্যালেঞ্জ দেন না; বরং সরকার তার কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণ ও সংসদের কাছে জবাবদিহি করে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার ছয় মাস ক্ষমতায় থাকার পরও দেশ কেন ইতিহাসের সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের মুখোমুখি হলো এবং কেন রাষ্ট্র অন্ধকারে নিমজ্জিত হলো।

সবশেষে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “সমাধান আমাদের হাতে আছে। কিন্তু ক্ষমতা আপনার হাতে। ছয় মাস পর জনগণ জানতে চাইবে—দুটোর মধ্যে কোনটির অভাবে দেশ অন্ধকারে ছিল।”

সীমান্ত বেষ্টনী টপকে মাদকের থাবা: অতিষ্ঠ কুড়িগ্রামের জনজীবন

বিশেষ প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ
সীমান্ত বেষ্টনী টপকে মাদকের থাবা: অতিষ্ঠ কুড়িগ্রামের জনজীবন

ভারতের সীমান্তঘেঁষা উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে মাদক পাচার ও কারবার ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে রৌমারী, ভূরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ীসহ সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোকে রুট হিসেবে ব্যবহার করছে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মাদক সিন্ডিকেট। সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিদিন আসছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, এসকাফ এবং গাঁজার বড় বড় চালান।

অভিযানে উদ্ধার ও সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের ঘটনা বাড়লেও থামছে না মাদকের অবাধ প্রবেশ। জেলা পুলিশ, ডিবি ও র‍্যাবের পৃথক অভিযানে প্রতিনিয়তই ধরা পড়ছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও কারবারি। সম্প্রতি ফুলবাড়ী ও রৌমারী সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় র‍্যাব ও পুলিশের অভিযানে কেজিতে কেজি গাঁজা, হাজার হাজার পিস ইয়াবা ও ফেনসিডিলসহ একাধিক তালিকাভুক্ত কারবারিকে আটক করা হয়েছে। তবে মূল হোতারা প্রায়ই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে সরেজমিনে জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ীদের দাপটে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। মাদক বিক্রেতারা স্থানীয় বেকার যুবকদের প্রলোভন দেখিয়ে বাহক হিসেবে ব্যবহার করছে, ফলে মারাত্মক সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম ৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, “মাদকের ভয়াল থাবা থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্ম ও সমাজকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। মাদক চোরচালান বন্ধে সীমান্ত পাহারা আরো কঠোর করার পাশাপাশি জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধী বা গডফাদার যে দলেরই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে বদ্ধপরিকর।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এটি একটি সংবেদনশীল অঞ্চল। তবে জিরো টলারেন্স নীতিতে প্রতিনিয়ত বিশেষ কম্বিং অপারেশন ও ডিবি অভিযান চালানো হচ্ছে। চিহ্নিত স্পটগুলোতে নজরদারি আরো বাড়ানো হয়েছে।”

সুশীল সমাজের মতে, কেবল কয়েকটি চালান ধরা বা বাহকদের গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়। সীমান্ত পাহারায় কঠোর নজরদারি এবং মূল গডফাদারদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে সীমান্ত অঞ্চলের তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

লালমোহনে বিএনপি-যুবদলের দুই নেতার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল

শফিকুর রহমান সবুজ, লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
লালমোহনে বিএনপি-যুবদলের দুই নেতার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল

ভোলা জেলার লালমোহন পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব ছাদেক মিয়া জান্টু ও উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কাজী হাসানুজ্জামান শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে চীনের কুনমিং শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় লালমোহন উপজেলা যুবদলের উদ্যোগে দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) আয়োজিত এ দোয়া মাহফিলে উপজেলা যুবদলের সভাপতি কবির হাওলাদারের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বশির হাওলাদারের সঞ্চালনায় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন, শফিউল্লাহ হাওলাদার, সোহেল আজীজ শাহিনসহ বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

দোয়া ও মোনাজাতে অসুস্থ দুই নেতার দ্রুত আরোগ্য, সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। একই সঙ্গে তাদের দ্রুত দেশে ফিরে আসার জন্য মহান আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে প্রার্থনা করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।

জুলাই-জুনের বদলে এপ্রিল-মার্চে অর্থবছর চালুর সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ণ
জুলাই-জুনের বদলে এপ্রিল-মার্চে অর্থবছর চালুর সিদ্ধান্ত

দেশের অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত অর্থবছর গণনা করা হলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত হবে অর্থবছর।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৭তম বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থ বিভাগের উদ্যোগে উত্থাপিত প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারের যুক্তি, জুলাই-আগস্টে বর্ষাকাল থাকায় বছরের শুরুতেই বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এতে বৃষ্টির কারণে নির্মাণকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কাজের মেয়াদ বাড়ে, গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। অর্থবছর এপ্রিল-মার্চ করা হলে বর্ষা শুরুর আগেই উন্নয়নকাজের বড় অংশ শেষ করা সম্ভব হবে।

২০২৭-২৮ হবে মাত্র ৯ মাসের অর্থবছর

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নতুন অর্থবছর চালু করতে সরাসরি বর্তমান অর্থবছর থেকে পরিবর্তন না এনে একটি ট্রানজিশনাল বা অন্তর্বর্তী অর্থবছর রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ২০২৭-২৮ অর্থবছর জুলাই ২০২৭ থেকে শুরু হয়ে মাত্র নয় মাস পর, অর্থাৎ ২০২৮ সালের মার্চে শেষ হবে। এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে ১ এপ্রিল ২০২৮ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৯ পর্যন্ত নতুন সময়সূচি অনুযায়ী সরকারের আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। অর্থাৎ, দীর্ঘদিনের জুলাই-জুন অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে সরে গিয়ে আগামী দুই বছরের মধ্যে এপ্রিল-মার্চ অর্থবছরে যাবে বাংলাদেশ।

সংবিধানসহ আইনে আসবে পরিবর্তন

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করতে বেশ কিছু আইন ও বিধিতে সংশোধন আনতে হবে। এ জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এবং জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। বাজেট প্রণয়ন, রাজস্ব আহরণ, সরকারি ব্যয়, হিসাব সংরক্ষণ, অর্থ ছাড়সহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ব্যবস্থাগুলো নতুন অর্থবছরের সময়সীমার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

নতুন অর্থবছর বাস্তবায়নের বিস্তারিত কর্মপন্থা নির্ধারণে একটি কমিটি গঠন করা হবে। এতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ এবং অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। কমিটি আইন সংশোধন, প্রশাসনিক প্রস্তুতি, বাজেট প্রণয়ন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনসহ অর্থবছর পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।

ব্রেকিং নিউজ