খুঁজুন
শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে আজ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

দেশজামানা ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০০ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে আজ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

আজ ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তিনি।

ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। তবে তাঁর বক্তব্যে অর্থনীতি, রোহিঙ্গা সংকট ও আঞ্চলিক সম্পর্ক বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন সহযোগিতা ও জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ২৫ সেপ্টেম্বর ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ফলে এবারের সফরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকটও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাবে। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে দীর্ঘদিন আশ্রয় দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের ওপর যে মানবিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চাপ তৈরি হয়েছে, তা তুলে ধরে সংকটের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান এবং নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইবেন তিনি।

এ ছাড়া তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ভুটান, মালদ্বীপ ও হাইতির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গেও বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথম ভাষণ দেন। তারেক রহমানের আজকের ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকের বেশি সময়ের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে।

ইসলামী যুব আন্দোলনের নতুন কমিটি; সভাপতি মানসুর সাকী, সেক্রেটারি রহমাতুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
ইসলামী যুব আন্দোলনের নতুন কমিটি; সভাপতি মানসুর সাকী, সেক্রেটারি রহমাতুল্লাহ

ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের ২০২৭-২৮ সেশনের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে মুফতী মানসুর আহমদ সাকীকে সভাপতি এবং মুফতী রহমাতুল্লাহ বিন হাবিবকে সেক্রেটারি জেনারেল করা হয়েছে। এছাড়া আ হ ম আলাউদ্দীন ও অ্যাডভোকেট বায়েজিদ হোসাইনকে সহসভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, রমনায় অনুষ্ঠিত সংগঠনটির ৬ষ্ঠ জাতীয় যুব কনভেনশনে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কনভেনশনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের চলমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটির শীর্ষ চার দায়িত্বশীলের নাম ঘোষণা করেন।

নতুন কমিটির সভাপতি মুফতী মানসুর আহমদ সাকী এর আগে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫-২৬ সেশনের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও তিনি একই দায়িত্বে ছিলেন।

অন্যদিকে, নতুন সেক্রেটারি জেনারেল মুফতী রহমাতুল্লাহ বিন হাবিব এর আগে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন।

নতুন কমিটি ঘোষণার আগে কনভেনশনে সংগঠনের বিদায়ী কমিটির সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদের সভাপতিত্বে বিভিন্ন অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির, সিনিয়র নায়েবে আমির, মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

নতুন কমিটির দায়িত্বশীলদের নাম ঘোষণার পর পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কর্মীদের মেধা, আদর্শ ও ঈমানি শক্তি কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসলামের পক্ষে শক্তিশালী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে যুব আন্দোলনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বুলবুল হত্যার বিচার আদায়সহ সব ধরনের হত্যা, খুন, গুম ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে যুব আন্দোলনকে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কনভেনশনে বিদায়ী সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সংগঠনের প্রত্যেক কর্মীকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

কনভেনশনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনসহ জাতীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

এ সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচন, যুবসমাজের কর্মসংস্থান, নৈতিক নেতৃত্ব গঠন এবং ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য ও আলোচনা হয়।

কলাম

কখন জানি ব্রেকফেল করে সীমাহীন সম্ভাবনা নিয়ে জন্ম নেওয়া গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক

ইব্রাহীম মোল্লা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
কখন জানি ব্রেকফেল করে সীমাহীন সম্ভাবনা নিয়ে জন্ম নেওয়া গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক

বর্তমান সরকার গঠনের প্রায় সাত মাস অতিক্রান্ত হতে চললো। গণঅধিকার পরিষদ এই সরকারের একটি অন্যতম অংশীদার এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব করছেন। কিন্তু এই সাত মাসের রাজনৈতিক পথচলায় দলের সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের মনে কিছু মৌলিক ও কঠিন প্রশ্ন জেগেছে, যার উত্তর খোঁজা এখন সময়ের দাবি।

১. কর্মীদের ত্যাগ ও প্রাপ্তির ব্যবধান: ছাত্র অধিকার পরিষদের যে তরুণরা তাদের জীবনের সবচাইতে সোনালী ৮টি বছর এই দল প্রতিষ্ঠার পেছনে নিবেদিতভাবে ব্যয় করেছে, যুব অধিকার পরিষদ, শ্রমিক অধিকার পরিষদ এবং প্রবাসী অধিকার পরিষদের যে শত শত নেতাকর্মী মেধা, শ্রম ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ত্যাগের পরিচয় দিয়েছে—গত সাত মাসে তাদের অবস্থান কোথায়? পটুয়াখালী কেন্দ্রিক গুটিকয়েক নেতাকর্মী ছাড়া সারা বাংলাদেশের গণঅধিকার পরিষদের কয়জন ত্যাগী কর্মী ন্যূনতম মূল্যায়ন বা কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন?

২. অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক মাশুল: সরকারের অংশীদার হওয়ায় এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক জোটের সাথে থাকার কারণে সরকারের যাবতীয় ব্যর্থতা, অনিয়ম ও সিদ্ধান্তের জন্য জনগণের কাছ থেকে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদেরই সবচেয়ে বেশি সমালোচনা ও ধিক্কার সহ্য করতে হচ্ছে। অর্থাৎ, সরকারে থাকার কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক সুফল সাধারণ নেতাকর্মীরা পাচ্ছেন না, অথচ সরকারের সমালোচনা ও জনরোষের পুরোটাই তৃণমূল কর্মীদের বহন করতে হচ্ছে—যা রাজনীতিতে অত্যন্ত হতাশাজনক।

৩. জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী নেতাদের ধরে রাখতে ব্যর্থতা: গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং প্রভাবশালী স্থানীয় নেতা গণঅধিকার পরিষদে যুক্ত হতে চেয়েছিলেন কিংবা যুক্ত হয়ে নির্বাচন করেছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, দল এই ধরনের সম্ভাবনাময় ও জনাধিপত্য থাকা নেতাদের ধরে রাখতে বা যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারেনি।

উদাহরণস্বরূপ, গোপালগঞ্জ-১ আসনের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কাবির মিয়ার কথা বলা যায়। তিনি কারাগার থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েও ৫৪,০০০-এর বেশি ভোট অর্জন করেছিলেন—যা দলের সভাপতি নুরুল হক নুরের পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্জন।

এত বড় জনভিত্তি থাকা সত্ত্বেও এমন প্রভাবশালী নেতারা আজও আইনি জটিলতা বা কারাগারের প্রকোষ্ঠে দিন কাটাচ্ছেন, অথচ দল হিসেবে তাঁদের পাশে যেভাবে দাঁড়ানো বা আইনি ও রাজনৈতিক সুরক্ষা দেওয়া উচিত ছিল, তার তীব্র অভাব লক্ষ্য করা গেছে। যখন কোনো দল নিজের হেভিওয়েট ও গণভিত্তিসম্পন্ন নেতাদের নিরাপত্তা বা মূল্যায়ন দিতে পারে না, তখন নতুন করে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের এই দলে আসার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।

 

৪. সুদূরপ্রসারী নীতি ও সাংগঠনিক দর্শনের অভাব: একটি সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক দলকে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত করার জন্য যে ধরনের সুনির্দিষ্ট নীতি ও কর্মপরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন, তার তীব্র অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে:

দ্বিতীয় সারির নেতৃত্ব বিকাশ: প্রথম সারির নেতাদের পাশে দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির সম্ভাবনাময় নেতাদের জাতীয়ভাবে পরিচিত করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।

প্রচার ও যোগাযোগ: আধুনিক রাজনীতির উপযোগী শক্তিশালী সোশ্যাল মিডিয়া বা মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ঘাটতি স্পষ্ট।

কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা: বেকার ও ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন বা কর্মসংস্থানের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই।

পুরো দলটি আজ তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত একটি জাতীয় দলের চেহারার বদলে পটুয়াখালী কেন্দ্রিক একটি সীমিত রাজনৈতিক বলয়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কায় পড়েছে। দলটির উচ্চতর পরিষদ বা নীতিনির্ধারকরা এই বাস্তবতাকে কতটা উপলব্ধি করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

৫. সম্ভাবনাময় তরুণদের প্রস্থান ও এনসিপির উত্থান: আজকের ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি)-র দিকে তাকালে এই সাংগঠনিক ব্যর্থতার চিত্র আরও পরিষ্কার হয়। এনসিপির যে তরুণ তুর্কিরা আজ জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত লাভ করেছেন, যাদের মধ্যে কেউ সাবেক উপদেষ্টা কিংবা সংসদ সদস্য হিসেবে বিরোধী দলের ভূমিকায় থেকে জনগণের কাছাকাছি রয়েছেন—তাদের একটি বড় অংশ একসময় গণঅধিকার পরিষদ বা এর অঙ্গসংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। দুঃখজনক হলেও সত্য, এই দল সেই সম্ভাবনাময় নেতৃত্বকেও ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। আজ স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, তারা যদি তৎকালীন সময়ে নতুন পথ বেছে না নিতেন, তবে হয়তো রাজনীতিতে তাদের প্রতিভা ও জাতীয় পরিচিতি বিকশিত হওয়ার সুযোগ পেত না।

৬. ‘তৃতীয় শক্তি’ গঠনের স্বপ্ন বনাম আদর্শচ্যুত হওয়ার দ্বিধা: সীমাহীন সম্ভাবনা নিয়ে জন্ম নিয়েছিল পরিষদ। যখন বিএনপির মতো বৃহৎ শক্তি মাঠে দাঁড়াতে পারছিল না, জামায়াতের মতো সুসংগঠিত শক্তি নিজেদের সাংগঠনিক পরিচয় দিতে পারে নাই, তখন একঝাঁক মেধাবী সাহসী তরুণরা সীমাহীন দেশপ্রেমের স্বপ্ন নিয়ে শুরু করেছিল। প্রশ্ন ওঠে—তাহলে কেন আজ তারা জনগণ থেকে দূরে সরে যাওয়ার পথে? আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে ‘তৃতীয় শক্তি’র জন্ম দেওয়ার জন্যই তো সাধারণ মানুষ ও তরুণরা গণঅধিকার পরিষদের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিল; তাহলে কেন ঘুরেফিরে পরিবর্তনের কথা বলে আবার সেই পুরোনো রাজনৈতিক ধারার বলয়ে বন্দি হয়ে পড়ল? এই কৌশলগত ভুল দলটিকে জনবিচ্ছিন্ন করে ফেলছে।

উপসংহার: এই মূল্যায়ন কোনো অন্ধ বিরোধিতার জায়গা থেকে নয়, বরং দলের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং ত্যাগী কর্মীদের কষ্টের জায়গা থেকে উঠে এসেছে। রাজনীতিতে ‘শেষ’ বলে কিছু নেই এবং সময়মতো ভুল সংশোধন করতে পারলে ঘুরে দাঁড়ানো সর্বদা সম্ভব। গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতৃত্বের উচিত দ্রুত পটুয়াখালী কেন্দ্রিক চিন্তা থেকে বের হয়ে তৃণমূলের ত্যাগী কর্মী ও আঞ্চলিক প্রভাবশালী নেতাদের মূল্যায়ন করা, দ্বিতীয় সারির নেতৃত্ব গড়ে তোলা, আইনি ও রাজনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দলকে একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ জাতীয় রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

সময় গড়িয়ে যাওয়ার আগেই এই আত্মউপলব্ধিটুকু আসা অত্যন্ত জরুরি।

লেখক: কলামিস্ট ও রাজনীতি বিশ্লেষক

জাতিসংঘে সরকারের থ্রি-আর কৌশলের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

দেশজামানা ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘে সরকারের থ্রি-আর কৌশলের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামতের জন্য সরকার রিকভারি, রেস্টারেশন ও রিকনস্ট্রাকশন অর্থাৎ থ্রি-আর কৌশল অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের (ইউএনজিএ) সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলায় দেওয়া তার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসান ঘটিয়ে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হওয়া গুম খুন, অপহরণ, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সামনে বর্তমানে এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগে বর্তমানে বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তর করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে বিস্তারিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ তার উন্নয়ন সহযোগীদের পাশে পেতে চায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক এবং উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্ট আপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করে দিতে সরকার চলতি অর্থ বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রেখেছে।’

ব্রেকিং নিউজ