খুঁজুন
শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদে জামায়াতের আমির

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আমরা অপেক্ষায় থাকলাম

দেশজামানা ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আমরা অপেক্ষায় থাকলাম

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সরকারি দলের প্রতি ফের আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির। তিনি বলেন, আমি মনে করি-সময় এখনো সময় ফুরিয়ে যায়নি। জনরায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে জনআকাঙ্খাকে আমরা যেন বাস্তবায়ন করতে পারি। তাহলে স্বাধীনতার ঘোষণা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে এই দলটি (বিএনপি) যেভাবে সম্মানিত হয়েছেন, এবার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে তারা আরেকদফা সম্মানিত হবেন বলে মনে করি। গোটা সংসদ সম্মানিত হবে। আমরা তার অপেক্ষায় থাকলাম।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাগরিবের বিরতির পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রায় ৪৫ মিনিট বক্তব্য দেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এত শহীদের রক্ত, জীবন, পঙ্গুত্ব, জেল-জুলুম, এত ত্যাগ, এত গুম-খুন, এত আয়নাঘর, সবকিছুর অভিজ্ঞতা প্রত্যক্ষ করে যে নির্বাচনটা অনুষ্ঠিত হলো, তার আগে জাতীয় ঐকমত্যের জন্য একটা কনসেন্সাস কমিশন হয়েছিল; দীর্ঘদিন মাসের পর মাস সেখানে বৈঠক হয়েছে, মত বিনিময় হয়েছে, কথা হয়েছে, কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তারই আলোকে এই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

একসাথে দুটো—একটা সংসদ নির্বাচন, আরেকটা গণভোট। সংসদ নির্বাচনের আমরা যতটুকু হোক কার্যকারিতা পেলাম, কিন্তু গণভোটের কোনো সুরাহা এখনো হলো না।

তিনি বলেন, আমরা কোনো দলীয় শাসন চাইনি; আমরা চেয়েছিলাম যে দলটি নির্বাচিত হয়ে দেশ এবং জনগণকে পরিচালনা করবে, সরকার গঠন করবে, তাদের মধ্যে আর যেন ফ্যাসিবাদ ভর না করে, আর যেন কোনো বৈষম্য না হয়, আর যেন কোনো মায়ের বুক অপ্রয়োজনে অহেতুক খালি না হয়, দেশে যেন সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর জন্যই প্রয়োজন ছিল একটি আমূল পরিবর্তনের, সেই পরিবর্তনের লক্ষ্যেই ছিল গণভোট।

সংস্কার আর সংশোধনের পার্থক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংশোধনের সমস্যা হচ্ছে, আজকে এখানে কোন বিল আকারে আসবে, আমরা এটা পাশ করে দেব, কালকে আদালত চাইলে এটাকে চ্যালেঞ্জ করে শেষ করে দেবে।

কিন্তু যদি এটা গণপরিষদ কিংবা একটা সংস্কার পরিষদের মধ্য দিয়ে এই আইন তৈরি হয়, তাহলে আদালত কোনো হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পায় না।

তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদ পালিয়ে গিয়েও এই জাতিকে বারবার বিরক্ত করছে, উসকানি দিচ্ছে, সমাজ এবং দেশকে অস্থির করার চেষ্টা করছে। এই আসি ওই আসি আসি আসি বলে, এতো আসি আসি বলেন তো- গেলেন কেন, থাকতেন, রাজনীতি করেছেন, যদি বিশ্বাস করেন যে এই দেশকে জাতিকে ভালোবাসেন তাহলে মাটি কামড়ে থাকতেন, অপরাধ করলে অপরাধের শাস্তি নিতেন, না করলে নিজেকে পরিষ্কার করতেন। রাজনৈতিকবই

তিনি বলেন, পালায় কে? পালায় যে দোষী, পালায় যে অপরাধী, পালায় যে চোর, পালায় যে লোটেরা, তারা শুধু পালায়; কোন সৎ মানুষ পালায় না।

তিনি ভারতের আচরণের সমালোচনা করে বলেন, আমরা বিশ্বিত এবং আমরা দুঃখিত, ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ, আমাদের জন্য তাদের অবদানকে আমরা অস্বীকার করি না; কিন্তু এইরকম খুনিদেরকে তারা অবলীলায় শুধু আশ্রয় দিবে না, তাদেরকে রাজনৈতিক অপতৎপরতা চালানোরও সুযোগ দেবে, এটা আমাদেরকে ব্যতীত করে।

তিনি বলেন, তারা আমাদের সঙ্গে সৎ সম্পর্ক চান, আমরাও চাই; প্রতিবেশীর সৎ সম্পর্ক গড়তে চান, আমরাও চাই। যদি সত্যিই আমরা সৎ প্রতিবেশী হতে চাই, তাহলে উভয়পক্ষকেই আমাদের সদিচ্ছা ব্যক্ত করতে হবে।

তাহলে আমরা আর সীমান্তে কাঁটাতারে ফেলানির লাশ জ্বলতে দেখতে চাই না, নির্বিচারে আমাদের দেশের নাগরিকদেরকে ধরে নিয়ে হত্যা করবে এটা আমরা দেখতে চাই না, উত্তরবঙ্গের কান্না তিস্তার কোন সমাধান হবে না এটা আর আমরা সহ্য করতে রাজি নই, পদ্মা গঙ্গাকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে আগামীতে এটা সুরাহা কি হবে, এই বছরেই তা আবার এই চুক্তি শেষ হবে, নবায়নের সময় আসবে।

তিনি সরকারকে অনুরোধ করে বলেন, এখন থেকে এই শক্তিশালী নীতিমালা নিয়ে সাহস করে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে তাদের সাথে যেন মোকাবিলা করা হয়। এখানে আলোচনা হবে, লড়াই হবে সমানে সমান, আমরা কারো অধীনতা আর মেনে নেব না। বাংলাদেশ আর কারো অধীনে তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে না, ওই চ্যাপ্টার ক্লোজড, ওইটা রিওপেন হবে না, আমাদের সেই জায়গায় শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হবে।

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনকে কোরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক দাবি করে এই আইন অনুমোদন না দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে আইনটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামাদের মতামত নিয়ে পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানান তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দুঃখের সঙ্গে বলতেহয়, সম্পত্তি হস্তান্তর আইনটি আসলেই কোরআন এবং সুন্নাহর সঙ্গে একেবারে সাংঘর্ষিক। আইনটি এরইমধ্যে সংসদে পাস হলেও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতি যেন এতে স্বাক্ষর না করেন।

তিনি বলেন, দেশের প্রসিদ্ধ ও শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামারা এই আইনটির বিষয়ে তীব্র দ্বিমত পোষণ করেছেন এবং এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। সরকার ও বিএনপির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তিনি বলেন, যেহেতু তারা অতীতে বলেছেন যে কোরআন-সুন্নাহর বিপরীতে কোনো আইন করা হবে না, তাই এই ওয়াদা রক্ষার্থে আইনটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কাছে ফেরত পাঠানো যেতে পারে।

এর আগে এই বিতর্কিত আইনের প্রতিবাদে তাদের দলীয় সংসদ সদস্যরা সংসদ বর্জন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন ডা. শফিকুর রহমান।

সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে দুর্নীতি ঢুকে গেছে মন্তব্য করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, দেশে দুর্নীতির মাত্রা আগের থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা শুধু আমার কথা নয়। বর্তমান রাষ্ট্রপতিও বলেছেন, গত চার পাঁচ মাসে কোন পরিবর্তন হয়নি বরঞ্চ দুর্নীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে। শুধু প্রধানমন্ত্রী তার নিজের জায়গা থেকে চেষ্টা করে চলছেন। তিনি বলেন, সমাজ থেকে দুর্নীতি নির্মূল না করলে এই সমাজ মাজা সোজা করে দাঁড়াতে পারবে না। আমরা যদি এখনই এর লাগাম টেনে ধরতে না পারি তাহলে যত পরিকল্পনাই করি না কেন কোন পরিকল্পনাই সফলতার মুখ দেখবে না। দুর্নীতিবাজদের পেটের ভিতরে সব কিছু ঢুকে যাবে। আমরা এই সমাজটাকে দুর্নীতিমুক্ত একটি সমাজ হিসেবে দেখতে চাই এবং এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্ব দিবেন সেটা আমরা দেখতে চাই।

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতি আশা করেছিল মেধাভিত্তিক একটা সমাজ হবে। আমিও বলেছি প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন আমরা মেধাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলবো। কিন্তু এখনতো আমরা সেটা দেখতে পাচ্ছি না। বিভিন্ন জায়গায় যেখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়ার কথা সেখানে দলীয় প্রশাসন বসানো হয়েছে। এমনকি সরকারি বিভিন্ন করপোরেশন সংস্থায় বসানো হয়েছে। সম্প্রতি চাকরিতে ভাইবা আর লিখিতের মার্ক সমান করা নিয়ে একটা নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। তরুণ সমাজ ইতোমধ্যেই তার প্রতিবাদ করেছে। আমরাও তার প্রতিবাদ করি। যা চলে আসছে সেটাই বহাল রাখা হোক। মেধাকে সবাই মিলে সম্মান করি। মেধাবীরা এসে আমাদের আগামী সমাজটা তৈরি করে দিক এটা আমরা চাই। এই ক্ষেত্রে আমরা কোন দলীয় আনুকল্য দেখতে চাই না।

দেশকে বিভক্ত না করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সংসদে তাদের বক্তব্য হবে যৌক্তিক ও শালীন এবং কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হবে না।

তিনি বলেন, ‘আমরা জাতিকে আর বিভক্ত করতে চাই না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা সামনে এগোতে চাই। সংসদে আমাদের বক্তব্য হবে যৌক্তিক এবং শালীন, কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হবে না। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের পার্লামেন্টে একটি নতুন ইতিহাস তৈরি হবে।

দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজার অর্থনীতির দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলেও উভয় খাতেই বিপর্যয় নেমে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যে বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১৫ বছর ধরে গুম, খুন ও মামলা দিয়ে বিরোধী দলকে নিগ্রহ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-তরুণদের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির অবসান হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিল্প খাতের সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে পোশাক খাতের উৎপাদন ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। শিল্প মালিকরা দেউলিয়া হয়ে গেলে ব্যাংক ও সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্প খাতকে রক্ষার দাবি জানান তিনি। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধেরও আহ্বান জানান।

এছাড়া তিনি সংসদকে বৈষম্যমুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নারী সদস্যদের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে। সরকারি দলের সংরক্ষিত আসনের নারী এমপিদের তাদের দলীয় এমপিদের এলাকায় দায়িত্ব দেয়া এবং এমপিদের অফিস স্থানীয় সরকারের কোন স্থাপনার পরিবর্তে অন্যত্র ব্যবস্থা করার প্রস্তাব করেন তিনি।

নিজ নির্বাচনি এলাকার সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদী কলেজ মেডিকেল কলেজের বিরাজমান সংকট সহ ঢাকা-১৫ আসনের বিভিন্ন সমাধানের আহবান জানান তিনি। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কিছু সমাধান হওয়ারয় সরকারকে ধন্যবাদ জানান জামায়াত আমির।

সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের মালিক গ্রেফতারে লাগবে আদালতের অনুমতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের মালিক গ্রেফতারে লাগবে আদালতের অনুমতি

সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক, সংবাদ ও গণমাধ্যমের মালিক কিংবা কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের আগে সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারভুক্ত আদালতের পূর্বানুমতি নেয়ার বিধান যুক্ত হতে যাচ্ছে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনটির খসড়া পর্যালোচনায় গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এনিয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।

বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সুনির্দিষ্ট মতামত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই আইনের খসড়ায় পরিমার্জন করা হচ্ছে, যেন কোনোভাবেই নতুন এই আইনটি স্বাধীন সাংবাদিকতা কিংবা গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর কোনো হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, সংবাদের কারণে সাংবাদিকদের গ্রেফতারে আদালতের অনুমতির বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এ ছাড়া মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা এবং সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলোকে আলাদা করে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে দেশের মূল দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় গুজব ও অপতথ্যের (মিসইনফরমেশন) সংজ্ঞাকেও আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে আইনের অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে কাউকে হয়রানি করা না যায়।

নতুন খসড়ায় কোনো প্রকার মোবাইল কোর্টের বিধান না রাখা, কোনো ডিজিটাল কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে লিখিত কারণ দর্শানো এবং তা অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

এমনকি যে কোনো মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রস্তাব আনা হয়েছে।

সভায় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের নতুন সদস্যকাঠামোতে গণমাধ্যমের প্রতিনিধি রাখা এবং মেটা, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই পরিমার্জিত খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে সাধারণ নাগরিক ও সকল অংশীজন নিজেদের মতামত দিতে পারেন।

সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেন, সাইবার অপরাধ ও হুমকি প্রতিহত করার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের ভারসাম্যের ওপর ভিত্তি করেই একটি সময়োপযোগী সাইবার সুরক্ষা আইন তৈরি করা হবে। জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির বিশেষ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় আইসিটি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামানসহ সরকারের নীতি নির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এইচএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা ১ ডিসেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
এইচএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা ১ ডিসেম্বর

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে। এ পরীক্ষায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করতে হবে ৫ থেকে ৯ নভেম্বরের মধ্যে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নিয়মিত অথবা অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রণীত ২০২৬ সালের পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যসূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা হবে ২০২৫ সালের পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচি অনুসারে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য তালিকা বোর্ডের ওয়েবসাইটে (www.dhakaeducationboard.gov.bd) প্রকাশ করা হবে। ওই তালিকা থেকে ৫ নভেম্বর থেকে ৯ নভেম্বরের মধ্যে ফরম পূরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

পরীক্ষার ফি সোনালী সেবার মাধ্যমে জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১০ নভেম্বর। এ ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিবের অনুকূলে অর্থ জমা দিয়ে রশিদ সংগ্রহ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ওই রশিদ সংরক্ষণ করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার জন্য প্রতি পত্র বা বিষয়ে ১২৫ টাকা এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য প্রতি পত্র বা বিষয়ে ২৫ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষার কেন্দ্র ফি বাবদ দিতে হবে ৪৫০ টাকা।

সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

ফতুল্লায় শ্রমিকদের আন্দোলন: পুলিশের মামলায় আসামি ২১, অজ্ঞাত ১৫০০

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
ফতুল্লায় শ্রমিকদের আন্দোলন: পুলিশের মামলায় আসামি ২১, অজ্ঞাত ১৫০০

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। এতে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে এক হাজার থেকে দেড় হাজার জনকে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোররাতে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকার উৎখাত এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বেতন বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে পোশাকশ্রমিকদের উসকানি দিয়ে সংগঠিত করেন। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে কয়েকটি কারখানার এক থেকে দেড় হাজার শ্রমিককে নিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ করা হয়। এ সময় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একাধিকবার চেষ্টা করেন। তবে বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও তাঁদের উসকানিদাতারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৮৩ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফতুল্লার লামাপাড়ার মফিজুল ইসলামের ছেলে শামীম হাসান (২৮), কোতালেরবাগ বউবাজার এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. মামুন (২৬), ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে ওমর ফারুক (৩৮), রামারবাগ এলাকার ইমান তৌফিকের ছেলে ইমান ইমন (২৬), কোতালেরবাগ এলাকার প্রয়াত লিয়াকত হোসেনের ছেলে শাহিন আহম্মেদ এবং কায়েমপুর এলাকার আক্তারুজ্জামানের ছেলে আতিকুর রহমান (২৫)।

গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি মাহবুব আলম। আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানান, রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নারায়ণগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তফা কামাল (৪৮), সদস্য মজিবর রহমান (৪৬), জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি টিপু সুলতান (৪০), যুবলীগ নেতা আজমত আলী (৪৫), মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু (৪৫) ও রাকিব হোসেন (২৮)।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধের সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

ব্রেকিং নিউজ