খুঁজুন
শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেইমানির রাজনীতি ও ক্ষমতার লোভ: ইতিহাসের আয়নায় এনসিপি

ছৈয়দ মিছবাউল হক মোহন
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
বেইমানির রাজনীতি ও ক্ষমতার লোভ: ইতিহাসের আয়নায় এনসিপি

ক্ষমতার লোভ, চরম সুবিধাবাদ আর বেইমানির পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে—তা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে আরও একবার হাতেনাতে প্রমাণিত হলো। আমরা কি এত দ্রুত ভুলে গেলাম ২৪-এর সেই রক্তঝরা জুলাইয়ের দিনগুলোর কথা?

যখন রাজপথ তপ্ত ছিল, বুলেটের মুখে দাঁড়িয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে আন্দোলনের সিংহভাগ নেতৃত্ব দিয়েছিল ছাত্র অধিকার পরিষদ কিন্তু বিজয়ের সূর্য উদয় হতে না হতেই শুরু হলো ক্ষমতার ভাগাভাগি আর চরম নোংরা ‘মাইনাস পলিটিক্স’। আন্দোলনের আসল কারিগরদের লাতি মেরে সরিয়ে, তাদের ত্যাগকে অস্বীকার করে রাতারাতি ক্ষমতার মঞ্চ এককভাবে দখল করতে নামলো এনসিপি।

আপামর জনতার আস্থা-বিশ্বাস ও ভরসার একমাত্র অরাজনৈতিক প্লাটফর্ম “বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন” জুলাই পরবর্তী কমিটি-কে পরোক্ষভাবে তাদের দখলে নিয়ে নিল। যাদেরকে উপস্থাপন করা হতো নিরপেক্ষ। তাদের এক্সেস ছিলো প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু ভিতরগত তারাই এনসিপির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেছিল। এনসিপির সবচেয়ে বড় সহায়ক ছিল ইন্টেরিম। যার কারনে ইন্টেরিম তাদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছিলো। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে ব্যার্থ হয়েছিল।সর্বশেষ রাষ্ট্রের হ…মেরে বিপ্লবীদের জীবন হুমকির মুখে ফেলে বাঙালির ইতিহাস ঐতিহ্যকে ধরে রেখে দাড়ঁ করাল কিংস পার্টি!

প্রকৃতি কাউকে ছাড় দেয় না। বিশেষ করে বেইমানদের তো কখনোই নয়! অন্যের জন্য যে গর্ত তারা খুঁড়েছিল, আজ এনসিপি নিজেই সেই গর্তে গিয়ে আছাড় খেয়েছে। যে নোংরা খেলা তারা শুরু করেছিল, আজ তারা নিজেরাই সেই ‘মাইনাস রাজনীতির’ নির্মম বলি। একেই বলে জুতো মেরে গরু দান, কিংবা থুথু ছিটালে তা নিজের গায়েই ফিরে আসা!

এখন যদি আমরা একটু ঠাণ্ডা মাথায় এই পুরো ক্ষমতার সমীকরণটি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করি, তবে ইতিহাসের একটি ভয়ানক ও সমান্তরাল মিল আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠবে।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এনসিপির রাজনীতি এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগের রাজনীতির মনস্তত্ত্ব ও কৌশলের মধ্যে এক অদ্ভুত ও নিখুঁত ঐতিহাসিক মিল রয়েছে।

জাতীয় অর্জনকে একক সম্পদ মনে করা:

১৯৭১ সালে সর্বস্তরের মানুষ, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী, ডান/বামপন্থী দলসমূহ মা-বোনদের ইজ্জত এবং সাধারণ ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ পুরো মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের ‘একক সম্পত্তি’ বানিয়ে ফেলে। যারা তাদের দলীয় মতাদর্শের বাইরে ছিল, তাদের অবদানকে মুছে দিয়ে একদলীয় বাকশালী শাসনব্যবস্থার দিকে দেশ নিয়ে যাওয়া হয়।

ঠিক একই চিত্র দেখা গেল ২০২৪-এর জুলাই পরবর্তী সময়ে। সাধারণ ছাত্র-জনতা এবং ছাত্র অধিকার পরিষদ-ছাত্র শিবির-ছাত্রদল-ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বামপন্থী ছাত্র সংগঠন’র মতো প্রথম সারির মাঠের যোদ্ধাদের রক্ত ও ত্যাগের ওপর ভর করে ফ্যাসিবাদের পতন হলো। অথচ ক্ষমতা ও কৃতিত্বের পুরো চামচামি একা কুক্ষিগত করতে চাইল এনসিপি। জুলাইয়ের গণআকাঙ্ক্ষাকে তারা একটি নির্দিষ্ট দলীয় ফ্রেমওয়ার্কে বন্দি করে ফেলেছিল। মায়নাস পড়লো গণঅধিকার পরিষদ-বিএনপি-জামাতসহ অন্যান্য দলের রক্তে গাথা ইতিহাস।

আওয়ামী লীগ যেমন মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার’ বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে পড়েছিল, এনসিপির ক্ষেত্রেও তা-ই ঘটেছে। জুলাই বিপ্লবের বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের চেতনা বুকে না রেখে তারা রাতারাতি সস্তা রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং সুবিধাবাদী জোটের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ফলে ত্যাগী ও নীতিবান নেতারা তাদের ত্যাগ করতে শুরু করে এবং দলটির নৈতিক ভিত্তি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যারা অন্যায্য ও অগণতান্ত্রিক উপায়ে সহযোদ্ধাদের মাইনাস করে এবং গণমানুষের যৌথ অর্জনকে এককভাবে কুক্ষিগত করে টিকে থাকতে চায়, তারা দীর্ঘমেয়াদে কখনোই সফল হতে পারে না। আওয়ামী লীগ ‘৭১-কে কুক্ষিগত করে দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদের পর যেভাবে ইতিহাসের আর্বজনায় নিক্ষিপ্ত হয়েছে, এনসিপিও ‘জুলাইকে’ কুক্ষিগত করতে গিয়ে অতি দ্রুতই একই মাইনাস রাজনীতির নির্মম শিকারে পরিণত হলো।

বর্তমান বিএনপিও যদি জুলাইয়ের প্রকৃত যোদ্ধাদের বাদ দিয়ে নিজেদের মতো ইতিহাস রচনা করতে চায় তবে এদের পরিনাম কি হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই জানেন!

সুতরাং যার যার অবদান স্বীকার করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে আমাদের ঐক্যবদ্ধতা একান্ত প্রয়োজন।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, সিলেট জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদ, সিলেট জেলা।

সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের মালিক গ্রেফতারে লাগবে আদালতের অনুমতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের মালিক গ্রেফতারে লাগবে আদালতের অনুমতি

সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক, সংবাদ ও গণমাধ্যমের মালিক কিংবা কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের আগে সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারভুক্ত আদালতের পূর্বানুমতি নেয়ার বিধান যুক্ত হতে যাচ্ছে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনটির খসড়া পর্যালোচনায় গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এনিয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।

বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সুনির্দিষ্ট মতামত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই আইনের খসড়ায় পরিমার্জন করা হচ্ছে, যেন কোনোভাবেই নতুন এই আইনটি স্বাধীন সাংবাদিকতা কিংবা গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর কোনো হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, সংবাদের কারণে সাংবাদিকদের গ্রেফতারে আদালতের অনুমতির বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এ ছাড়া মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা এবং সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলোকে আলাদা করে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে দেশের মূল দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় গুজব ও অপতথ্যের (মিসইনফরমেশন) সংজ্ঞাকেও আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে আইনের অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে কাউকে হয়রানি করা না যায়।

নতুন খসড়ায় কোনো প্রকার মোবাইল কোর্টের বিধান না রাখা, কোনো ডিজিটাল কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে লিখিত কারণ দর্শানো এবং তা অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

এমনকি যে কোনো মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রস্তাব আনা হয়েছে।

সভায় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের নতুন সদস্যকাঠামোতে গণমাধ্যমের প্রতিনিধি রাখা এবং মেটা, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই পরিমার্জিত খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে সাধারণ নাগরিক ও সকল অংশীজন নিজেদের মতামত দিতে পারেন।

সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেন, সাইবার অপরাধ ও হুমকি প্রতিহত করার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের ভারসাম্যের ওপর ভিত্তি করেই একটি সময়োপযোগী সাইবার সুরক্ষা আইন তৈরি করা হবে। জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির বিশেষ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় আইসিটি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামানসহ সরকারের নীতি নির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এইচএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা ১ ডিসেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
এইচএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা ১ ডিসেম্বর

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে। এ পরীক্ষায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করতে হবে ৫ থেকে ৯ নভেম্বরের মধ্যে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নিয়মিত অথবা অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রণীত ২০২৬ সালের পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যসূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা হবে ২০২৫ সালের পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচি অনুসারে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য তালিকা বোর্ডের ওয়েবসাইটে (www.dhakaeducationboard.gov.bd) প্রকাশ করা হবে। ওই তালিকা থেকে ৫ নভেম্বর থেকে ৯ নভেম্বরের মধ্যে ফরম পূরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

পরীক্ষার ফি সোনালী সেবার মাধ্যমে জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১০ নভেম্বর। এ ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিবের অনুকূলে অর্থ জমা দিয়ে রশিদ সংগ্রহ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ওই রশিদ সংরক্ষণ করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার জন্য প্রতি পত্র বা বিষয়ে ১২৫ টাকা এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য প্রতি পত্র বা বিষয়ে ২৫ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষার কেন্দ্র ফি বাবদ দিতে হবে ৪৫০ টাকা।

সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

ফতুল্লায় শ্রমিকদের আন্দোলন: পুলিশের মামলায় আসামি ২১, অজ্ঞাত ১৫০০

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
ফতুল্লায় শ্রমিকদের আন্দোলন: পুলিশের মামলায় আসামি ২১, অজ্ঞাত ১৫০০

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। এতে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে এক হাজার থেকে দেড় হাজার জনকে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোররাতে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকার উৎখাত এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বেতন বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে পোশাকশ্রমিকদের উসকানি দিয়ে সংগঠিত করেন। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে কয়েকটি কারখানার এক থেকে দেড় হাজার শ্রমিককে নিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ করা হয়। এ সময় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একাধিকবার চেষ্টা করেন। তবে বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও তাঁদের উসকানিদাতারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৮৩ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফতুল্লার লামাপাড়ার মফিজুল ইসলামের ছেলে শামীম হাসান (২৮), কোতালেরবাগ বউবাজার এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. মামুন (২৬), ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে ওমর ফারুক (৩৮), রামারবাগ এলাকার ইমান তৌফিকের ছেলে ইমান ইমন (২৬), কোতালেরবাগ এলাকার প্রয়াত লিয়াকত হোসেনের ছেলে শাহিন আহম্মেদ এবং কায়েমপুর এলাকার আক্তারুজ্জামানের ছেলে আতিকুর রহমান (২৫)।

গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি মাহবুব আলম। আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানান, রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নারায়ণগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তফা কামাল (৪৮), সদস্য মজিবর রহমান (৪৬), জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি টিপু সুলতান (৪০), যুবলীগ নেতা আজমত আলী (৪৫), মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু (৪৫) ও রাকিব হোসেন (২৮)।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধের সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

ব্রেকিং নিউজ