খুঁজুন
বুধবার, ৪ঠা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপি-জামায়াত আলাদা প্রার্থী দেবে

দেশজামানা ডেস্ক:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ
স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপি-জামায়াত আলাদা প্রার্থী দেবে

স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামী আলাদাভাবে প্রার্থী দেবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাংলা মোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। যদিও কিছুদিন আগে সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে প্রার্থী দিয়েছিল জামায়াত ও এনসিপি, যাকে তারা নির্বাচনি জোট বলে বর্ণনা করেছে।

সারজিস আলম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত জামায়াত তাদের জায়গা থেকে বলেছে তারা স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনের প্রস্তুতি এককভাবে নেওয়া শুরু করেছে। আমরা এনসিপিও আমাদের জায়গা থেকে স্থানীয় নির্বাচনের যে প্রস্তুতি আমরাও এককভাবে সেই প্রস্তুতি শুরু করতে যাচ্ছি।’

তবে শেষ মুহূর্তে যদি মনে হয় ১১ দলীয় জোট একসাথে স্থানীয় নির্বাচন করতে পারে তখন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।সিটি করপোরেশনসহ সব স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে এনসিপি দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করবে বলেও জানান সারজিস আলম।

তিনি বলেন, ‘আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশের প্রত্যেকটি উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় আমরা আমাদের প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করতে চাই। ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৯৫টি উপজেলা ও ৩৩০ টি যে পৌরসভা রয়েছে এনসিপি সেগুলোর দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করবে। ’

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদেপ্রার্থী হওয়ার পূর্বাভাস পেয়েছেন।আসিফ বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে আমাকে প্রাথমিকভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র পদ প্রার্থী হতে বলেছে। তবে এখনো চূড়ান্ত নয়।’

খুব তড়িঘড়ি করে ছয়টি সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের নিয়োগ দেওয়ার কোনো বিধিবিধান গণঅভ্যুত্থানের আগে ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়ররা পালিয়ে যান এবং অনেক জায়গায় ফ্যাসিবাদের দোসররা সেই জায়গাগুলোতে বসে বসে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। তখন সরকার এই বিধানটা করে যে, সরকার চাইলে যে কাউকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার সংগত কারণেই এই আইন থাকা সত্ত্বেও ব্যবহার করেনি। শুধু একটি জায়গায় সেটা ব্যবহৃত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু রাজনৈতিক সরকার দায়িত্বে আসার সঙ্গে সঙ্গে যেখানে জনগণের ভোটের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের থাকার কথা, সেখানে দলীয়ভাবে বিভিন্ন সময় বঞ্চিত কিংবা নির্বাচনে হেরে যাওয়া প্রার্থীদের প্রাইস পোস্টিং করেছে এবং ছয়টি সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।’

দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো জনপ্রতিনিধি শূন্য উল্লেখ করে আসিফ বলেন, ‘ফলে দেশের জনগণকে নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। সেই বিবেচনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন।’কিন্তু এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য আমরা দুঃখজনকভাবে পাইনি। আশা করি, তারা দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রূপরেখা জানাবে।’

সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সেখানে নির্দিষ্টভাবে মেয়াদ উল্লেখ করা নেই। নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন দেখে মনে হচ্ছে যে আমৃত্যু হয়তো তারা প্রশাসক থাকবেন। এভাবেই সেখানে লেখা রয়েছে। অথচ সরকারি যে কোনো চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সময়সীমা উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ। ছয় মাস এক বছর দুই বছর স্বাভাবিকভাবে আমরা এই প্রক্রিয়াতেই দেখে থাকি সরকারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগগুলো হয়ে থাকে।’

দুই দিন ধরে একধরনের ভয়ের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা হচ্ছে অভিযোগ করে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, ‘পুলিশের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় অভিযানের নামে সাধারণ জনগণ এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা মনে করি, সরকার এর মাধ্যমে জনগণকে এক ধরনের ভয়ের মধ্যে রাখতে চাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন- এখন আন্দোলন করা যাবে না। রাস্তা অবরোধ করা যাবে না। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেক অযৌক্তিক এবং ছোটখাটো কারণেও রাস্তা অবরোধ হয়েছে। আমরা সেটাকে অবশ্যই সমর্থন করি না। আমরা মনে করি যেহেতু একটি নতুন সরকার গঠন হয়েছে তাদের কাজ করার ক্ষেত্রে এতটুকু সহযোগিতা জনগণের পক্ষ থেকে করা উচিত, অকারণে অযৌক্তিকভাবে যাতে কেউ রাস্তা অবরোধ না করে। কিন্তু একই সঙ্গে কারও যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করার অধিকারকেও আমরা কোনোভাবেই যেন বিঘ্নিত না হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য ও এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব হান্নান মাসউদ বলেন, ‘বিভিন্ন কারচুপি হওয়ার পরও দলের ছয়জন সংসদ সদস্য হয়েছেন। দেশের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য আমি নিজে। ভোটের দিন সকালে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের যেয়ে আমি নিজে হামলার স্বীকার হই। আমার স্ত্রীর ওপর হামলা হয়, এখনো হাতিয়ায় মামলা চলমান অবস্থা।’

ফতুল্লায় শ্রমিকদের আন্দোলন: পুলিশের মামলায় আসামি ২১, অজ্ঞাত ১৫০০

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ
ফতুল্লায় শ্রমিকদের আন্দোলন: পুলিশের মামলায় আসামি ২১, অজ্ঞাত ১৫০০

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। এতে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে এক হাজার থেকে দেড় হাজার জনকে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোররাতে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকার উৎখাত এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বেতন বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে পোশাকশ্রমিকদের উসকানি দিয়ে সংগঠিত করেন। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে কয়েকটি কারখানার এক থেকে দেড় হাজার শ্রমিককে নিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ করা হয়। এ সময় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একাধিকবার চেষ্টা করেন। তবে বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও তাঁদের উসকানিদাতারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৮৩ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফতুল্লার লামাপাড়ার মফিজুল ইসলামের ছেলে শামীম হাসান (২৮), কোতালেরবাগ বউবাজার এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. মামুন (২৬), ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে ওমর ফারুক (৩৮), রামারবাগ এলাকার ইমান তৌফিকের ছেলে ইমান ইমন (২৬), কোতালেরবাগ এলাকার প্রয়াত লিয়াকত হোসেনের ছেলে শাহিন আহম্মেদ এবং কায়েমপুর এলাকার আক্তারুজ্জামানের ছেলে আতিকুর রহমান (২৫)।

গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি মাহবুব আলম। আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানান, রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নারায়ণগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তফা কামাল (৪৮), সদস্য মজিবর রহমান (৪৬), জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি টিপু সুলতান (৪০), যুবলীগ নেতা আজমত আলী (৪৫), মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু (৪৫) ও রাকিব হোসেন (২৮)।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধের সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা, পদ হারালেন সেই সরকারি কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা, পদ হারালেন সেই সরকারি কর্মকর্তা

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব জেতী প্রু। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করেন মোহাম্মদ মসিউর রহমান। গত ১ নভেম্বর ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ উদ্যোগের আওতায় ঢাকার ছয়টি রুটে পরীক্ষামূলক বাস চলাচলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে মসিউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্লোগানটিকে হাদিস বললে অনেকে মনে করতে পারেন, পরবর্তী পোস্টিংয়ের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে তেল মারছেন। তবে তার মতে, এটি একটি শাশ্বত বাণী।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার আগে আমরা, সবার আগে দেশ—এ কথা কে অস্বীকার করতে পারবেন? স্বার্থপর, যার দেশপ্রেম নেই, সেই বলতে পারে, না, আমি মানি না। আমাকে বাদ দিয়ে আমরা সবাই মিলে থাকব, আর সবার আগে থাকবে দেশ। তারপরে “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এটা হাদিস, হাদিস। এটা শাশ্বত বাণী।’

মসিউর রহমান আরও বলেন, ‘এটা হুজুররা বললে হাদিস হয়ে যেত। তো ওনার মুখে দাড়ি নেই, টুপি পরেন না, এজন্য হাদিস হয়নি! এটা হাদিস।’

রাজনৈতিক স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা করে দেওয়া তার বক্তব্যের ভিডিও ও মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

‘নিজ স্ত্রীর সঙ্গে’ ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল, জামায়াত নেতার পদ স্থগিত

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
‘নিজ স্ত্রীর সঙ্গে’ ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল, জামায়াত নেতার পদ স্থগিত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মো. শহীদুল্লাহ্ (৪৬) নামের এক নেতার রুকনিয়াত সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

সোমবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জরুরি সভা ডেকে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে দলটির ময়মনসিংহ মহানগর শাখা।

মো. শহীদুল্লাহ্ নগরের নতুন বাজার থানা জামায়াতের রুকন পদে ছিলেন। দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় নওমহল এলাকার আল আরাবিয়া দাখিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত।

দলীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকাল থেকেই মো. শহীদুল্লাহ্‌র একটি আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমালোচনার জন্ম দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মহানগর জামায়াত জরুরি সভায় বসে এ সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মো. শহীদুল্লাহ্‌র দাবি, ছড়িয়ে পড়া দৃশ্যটি তার স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা সম্পূর্ণ পারিবারিক ও একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের। শত্রুতাবশত অজ্ঞাতপরিচয় কেউ তার মুঠোফোন থেকে ভিডিওটি হাতিয়ে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আগে থেকেই তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল এবং মোটা অঙ্কের অর্থও দাবি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসান বলেন, ভিডিওটি তার ব্যক্তিগত এবং স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা। বিষয়টি নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে আপাতত তার রুকনিয়ত স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছেন শহীদুল্লাহ। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম রব্বানী বলেন, ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে এক শিক্ষার্থীর বিষয়ে অভিযোগকারী তথ্য দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত ভিডিও অনুমতি ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি কে বা কারা ছড়িয়েছে এবং এর পেছনে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ব্রেকিং নিউজ