খুঁজুন
শনিবার, ১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বর্তমান সংসদ ‘মজলুমের সংসদ’ : ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

দেশজামানা ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
বর্তমান সংসদ ‘মজলুমের সংসদ’ : ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বর্তমান সংসদকে ‘মজলুমের সংসদ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, অধিকাংশ সংসদ সদস্য অতীতে গুম, নির্যাতন, কারাবাস, নির্বাসন কিংবা অন্যান্য কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এসেছেন। তার দাবি, ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের প্রায় ৯৯ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে এসব ঘটনার শিকার হয়েছেন, যা বিশ্বের ইতিহাসেও বিরল।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু এখন জাতীয় সংসদ। জনগণ চান, সংসদে যুক্তিনির্ভর আলোচনা, গঠনমূলক সমালোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক, যা দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সংসদের প্রতিটি কার্যক্রম এখন সাধারণ মানুষও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তাই সংসদ সদস্যদের বক্তব্য, আচরণ ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।

সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা ও ন্যায়পরায়ণতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে কায়সার কামাল বলেন, দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত তিনি নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করবেন।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। তার মতে, জাতীয় সংসদই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল কেন্দ্র হওয়া উচিত, যেখানে সরকার ও বিরোধী দল উভয়েই স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত তুলে ধরবে এবং গঠনমূলক বিতর্কের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ করবে।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়েও নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার। তিনি স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক পরিবর্তন, সামরিক শাসন, সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ, বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানসহ নানা বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ইসলামী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ইসলামী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আগামী ৫ আগস্ট রাজধানীর পল্টন মোড়ে সমাবেশ ও গণমিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করবে। সমাবেশ শেষে গণমিছিলে নেতৃত্ব দেবেন দলের কেন্দ্রীয় আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের থানা নেতৃবৃন্দের যৌথসভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক নেতৃত্ব হিসেবে একমাত্র পীর সাহেব চরমোনাই সরাসরি মাঠে ছিলেন।

তিনি বলেন, ওই আন্দোলনে পীর সাহেব চরমোনাই তার দলের অস্তিত্বকে বাজি রেখেছিলেন। আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাইয়ের অবিনশ্বর শক্তির পুনঃপ্রদর্শন’ করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাইয়ের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে সেদিন ঢাকার রাজপথ জনতার স্লোগানে মুখরিত হবে।

যৌথসভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৫ আগস্ট (বুধবার) সকাল ১১টায় রাজধানীর পল্টন মোড়ে সমাবেশ শুরু হবে। জোহরের নামাজের আগে সমাবেশ শেষে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম নেতৃত্ব দেবেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি মাওলানা কে এম শরীয়াতুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নগর দক্ষিণের সহসভাপতি জি এম রুহুল আমীন, আলহাজ আনোয়ার হোসেন, এম এইচ মোস্তাফা, আলহাজ আব্দুল আউয়ালসহ মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

মিরপুর মেট্রো স্টেশনে ‘বোমা সদৃশ’ বস্তু, তল্লাশিতে মিলল পান-সুপারির কৌটা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
মিরপুর মেট্রো স্টেশনে ‘বোমা সদৃশ’ বস্তু, তল্লাশিতে মিলল পান-সুপারির কৌটা

রাজধানীর মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের বি গেট সংলগ্ন এলাকায় একটি ব্যাগে মোড়ানো ‘বোমা সদৃশ’ বস্তু উদ্ধারকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম ডিসপোজাল টিম গিয়ে তল্লাশি চালায়। পরে ব্যাগ থেকে পান, সুপারি ও জর্দার কৌটা উদ্ধার করা হয়। কোনো বোমা বা বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে মিরপুর মডেল থানাধীন মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনের বি গেটের পাশে এমআরটি পুলিশ একটি ব্যাগে মোড়ানো ককটেল বোমা সদৃশ বস্তু দেখা যায়। বিষয়টি জানানো হলে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিটিটিসির বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেয়।

পরে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাগটি পরীক্ষা করে। তল্লাশিতে ব্যাগের ভেতর থেকে পান, সুপারি ও জর্দার কৌটা উদ্ধার করা হয়। কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা বোমা পাওয়া যায়নি।

মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, বোমা সদৃশ ব্যাগ থেকে পান, সুপারি ও জর্দার কৌটা পাওয়া গেছে। এখান থেকে কোনো বোমা বা বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য উদ্ধার হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ, এনএসআইসহ অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেন। বস্তুটির প্রকৃতি নিশ্চিত হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক বিরাজ করে।

কওমি মাদ্রাসা : আধুনিক দক্ষতার পথে তরুণদের সংগ্রাম এবং প্রবীণদের উদাসীনতা

আবু বকর চৌধুরী
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ
কওমি মাদ্রাসা : আধুনিক দক্ষতার পথে তরুণদের সংগ্রাম এবং প্রবীণদের উদাসীনতা

বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসার তরুণ শিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রিল্যান্সিং, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ইংরেজি ভাষার মতো আধুনিক দক্ষতা অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাব এবং প্রবীণ বা চিন্তাভাবনায় পিছিয়ে পড়া নীতিনির্ধারকদের উদাসীনতার কারণে এই নবীনরা নানা বৈষম্য ও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে।

এই অনাগ্রহ ও সহায়তাহীনতার পেছনে বেশ কিছু কাঠামোগত ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে :

  • ঐতিহ্যগত কারিকুলাম ও ভাবাদর্শ রক্ষা:

শতাব্দীপ্রাচীন ‘দারসে নিজামী’ কারিকুলামকে অপরিবর্তিত রাখার রক্ষণশীল মানসিকতাই এখানে অন্যতম প্রধান বাধা। প্রবীণ দায়িত্বশীলদের অনেকের আশঙ্কা, আধুনিক বা কারিগরি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করলে দ্বীনি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ও ধর্মীয় বিশুদ্ধতা ব্যাহত হতে পারে।

  • বাস্তবতার সাথে বিচ্ছিন্নতা :

কওমি ধারার মুরুব্বিদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রধানত ইমামতি, খতিব বা মাদ্রাসা শিক্ষকতার মতো ঐতিহ্যবাহী পেশার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। শ্রমবাজারের দ্রুত পরিবর্তনশীল বাস্তবতা এবং সামাজিক অর্থনীতিতে শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ঘাটতি স্পষ্ট (বাস্তবিক অর্থে কোনো পরিকল্পনা নাই বললেই চলে)।

  • অবকাঠামো ও অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা :

কওমি মাদ্রাসাগুলো মূলত দান-অনুদানের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় কম্পিউটার ল্যাব, ইন্টারনেট বা আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা তাদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে বেশ চ্যালেঞ্জিং। এবং এর থেকে উত্তরণের কোনো চিন্তাভাবনা শায়েখদের নাই।

  • নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়ার আশঙ্কা :

প্রযুক্তি ও আধুনিক শিক্ষায় দক্ষ হয়ে তরুণরা স্বাবলম্বী হলে ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন শিথিল হয়ে যেতে পারে—কর্তৃপক্ষের মধ্যে এমন একটি আশঙ্কাও কাজ করে।

এর ফলে ব্যক্তিগত চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কওমি ধারার বহু সম্ভাবনাময় তরুণ পেশাগত জীবনে অনিশ্চয়তা ও বেকারত্বের মুখোমুখি হচ্ছে। কওমি শিক্ষার মূল কাঠামোর সাথে যুগোপযোগী দক্ষতার সমন্বয় ঘটানো ছাড়া এই সংকট দূর করা সম্ভব না।

তবে আশাব্যঞ্জক দিকও একেবারে নাই তা না। দেশের কিছু অগ্রসর কওমি মাদ্রাসা এবং আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন’র মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প পথ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে—কোথাও কোথাও আইটি বা ইংরেজি ভাষার ক্লাস চালু হয়েছে, কেউ কেউ অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের সাথেও যুক্ত হচ্ছে ব্যক্তিগত উদ্যোগে। এই বিক্ষিপ্ত প্রচেষ্টাগুলোকে যদি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও কাঠামোগত সহায়তার মধ্যে আনা যায়, তাহলে দ্বীনি শিক্ষার মূল চেতনা অক্ষুণ্ন রেখেই কওমি ধারার তরুণদের জন্য একটি টেকসই ও আত্মনির্ভরশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।

  • লেখক: কবি ও বিশ্লেষক 
ব্রেকিং নিউজ