খুঁজুন
রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খেলাফত মজলিস

গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে

অবিলম্বে গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ছাত্র-জনতার অপ্রতিরোধ্য জাগরণ বলেও মনে করেন তিনি।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিরে খেলাফত মজলিস উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় উপকারভোগী হওয়া সত্ত্বেও গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে অনীহা প্রকাশ করছেন। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংস্কারের পক্ষে গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের রায়কে উপেক্ষা করছেন। সাক্ষর দিয়েও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে অনীহা জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা। আমরা অবিলম্বে গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন দেখতে চাই। ফ্যাসিবাদী অপশক্তির বিচার ও পলাতক দণ্ডিতদের রায় অবিলম্বে কার্যকর দেখতে চাই।

সমাবেশে প্রধান বক্তা খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দলীয় আধিপত্য বন্ধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী মতের বিরুদ্ধে অতীতের স্বৈরাচারী কায়দা অনুসরণ করলে তা জনগণ মেনে নেবে না। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে আন্দোলন আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং গুম, খুন, নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত পলাতক ফ্যাসিবাদীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আজিজুল হক। পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকার।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, মুহাদ্দিস শেখ সালাহউদ্দিন, তাওহীদুল ইসলাম তুহিন, মুফতি আবদুল হক আমিনী, হাজী নুর হোসেন, মাওলানা নুরুল হক, মাওলানা নজরুল ইসলাম মাজহারী, আবুল হোসেন, প্রিন্সিপাল মাওলানা আজিজুল হক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলী, শ্রমিক মজলিসের সাধারণ সম্পাদক এইচ. এম. এরশাদ, ইলিয়াস আহমদ, মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকী, মুজিবুর রহমান ফরাজী, মুফতি উসমান, মতিউর রহমান ফরাজী, প্রকৌশলী শাহ শিহাব উদ্দিন এবং ইঞ্জিনিয়ার শেখ মতিউর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।

সমাবেশ শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে একটি গণমিছিল বের হয়ে পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে বিজয়নগর পানির ট্যাংকি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

সবাইকে কাঁদিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত অপ্রতিম

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
সবাইকে কাঁদিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত অপ্রতিম

দুই দফা জানাজা নামাজ শেষে কুমিল্লা কোটবাড়ির বাগমারা গোরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাগমারা কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এর আগে সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে (মসজিদের সামনে) অপ্রতিমের প্রথম জানাজা এবং বাগমারা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজা শেষে অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার আর নতুন করে কিছু বলার নেই, আমি কেবল আমার সন্তান হত্যার উপযুক্ত বিচার দেখতে চাই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এখনো পর্যন্ত আমার পূর্ণ আস্থা আছে। তবে সামান্য একটা আইফোনের জন্য আমার ছেলেকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে— এ কথা আমার মন কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছে না। আমার মাত্র ১৩ বছর বয়সী নিষ্পাপ ছেলেটা তো কোনো অপরাধ করেনি; তবে কেন তাকে এভাবে প্রাণ দিতে হলো? এই মুহূর্তে আমি শুধু ঘাতকদের কঠোর বিচার চাই।

তিনি আরো বলেন, আমার ছেলে যাদের সঙ্গে গিয়েছিল, তাদের সে নিজের বন্ধু ভেবে বিশ্বাস করেছিল। তাদের কাঁধে স্নেহের হাত রেখে আমার ছেলে হাসিমুখে হাঁটতে হাঁটতে ওই পাহাড়ের দিকে গিয়েছিল। সে মনে করেছিল ওগুলো বন্ধুর ভালোবাসার হাত, কিন্তু সেই বিশ্বাসের হাতগুলোই শেষ পর্যন্ত আমার মাসুম বাচ্চাটাকে হত্যা করল!

গাজীপুরে পথসভায় জামায়াতের আমির

বিএনপি পানি খাবে, কিন্ত ঘোলা করে খাবে

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
বিএনপি পানি খাবে, কিন্ত ঘোলা করে খাবে

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় এই বাংলার মাটিতে বাস্তবায়ন করা হবে, এই বিএনপি সরকারই বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হবে। বিএনপি পানি খাবে, কিন্ত ঘোলা করে খাবে।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে গাজীপুরের পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৮ কোটি মানুষের ন্যায্য দাবি নিয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি। আমাদের এই লংমার্চ দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। এই লংমার্চ আইনশৃঙ্খলার যে অবনতি হয়েছে সেটার উত্তরণের দাবিতে।

তিনি বলেন, গণভোটে হ্যাঁ বলেছিলেন ৭০ ভাগ মানুষ। সরকার আপনাদের দেওয়া গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করে আপনাদের অপমানিত করেছে। সেই অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমরা রাস্তায় মেনেছি।

ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসনসহ আট দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের রংপুর অভিমুখী লংমার্চ শুরু হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়।

এর আগে, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমীর মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি জনাব মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

উত্তরবঙ্গমুখী লংমার্চে আঞ্চলিক একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি—তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি যুক্ত করেছে বিরোধী এই জোট। এ ছাড়া গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চ।

এর আগে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী সভার পর পথে গাজীপুরের ভোগরাপাড়া, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জ চৌরাস্তা, বগুড়ার চারমাথা ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হবে। সর্বশেষ রংপুর জিলা স্কুলে হবে সমাপনী সমাবেশ।

ব্রেকিং নিউজ