অবিলম্বে গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ছাত্র-জনতার অপ্রতিরোধ্য জাগরণ বলেও মনে করেন তিনি।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিরে খেলাফত মজলিস উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় উপকারভোগী হওয়া সত্ত্বেও গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে অনীহা প্রকাশ করছেন। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংস্কারের পক্ষে গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের রায়কে উপেক্ষা করছেন। সাক্ষর দিয়েও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে অনীহা জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা। আমরা অবিলম্বে গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন দেখতে চাই। ফ্যাসিবাদী অপশক্তির বিচার ও পলাতক দণ্ডিতদের রায় অবিলম্বে কার্যকর দেখতে চাই।
সমাবেশে প্রধান বক্তা খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দলীয় আধিপত্য বন্ধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী মতের বিরুদ্ধে অতীতের স্বৈরাচারী কায়দা অনুসরণ করলে তা জনগণ মেনে নেবে না। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে আন্দোলন আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং গুম, খুন, নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত পলাতক ফ্যাসিবাদীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আজিজুল হক। পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকার।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, মুহাদ্দিস শেখ সালাহউদ্দিন, তাওহীদুল ইসলাম তুহিন, মুফতি আবদুল হক আমিনী, হাজী নুর হোসেন, মাওলানা নুরুল হক, মাওলানা নজরুল ইসলাম মাজহারী, আবুল হোসেন, প্রিন্সিপাল মাওলানা আজিজুল হক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলী, শ্রমিক মজলিসের সাধারণ সম্পাদক এইচ. এম. এরশাদ, ইলিয়াস আহমদ, মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকী, মুজিবুর রহমান ফরাজী, মুফতি উসমান, মতিউর রহমান ফরাজী, প্রকৌশলী শাহ শিহাব উদ্দিন এবং ইঞ্জিনিয়ার শেখ মতিউর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।
সমাবেশ শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে একটি গণমিছিল বের হয়ে পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে বিজয়নগর পানির ট্যাংকি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬ । ৬:৪০ অপরাহ্ণ