খুঁজুন
শনিবার, ১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তপ্ত দিল্লির রাজপথ, চ্যালেঞ্জের মুখে মোদির গদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
উত্তপ্ত দিল্লির রাজপথ, চ্যালেঞ্জের মুখে মোদির গদি

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন আরো জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির নেতা অভিজিৎ দিপক উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন।

অভিজিৎ দীপক বলেন, পুলিশের বাধা সত্ত্বেও যন্তর মন্তরেই তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তবে আপাতত সংসদ ভবন অভিমুখে নতুন কোনো কর্মসূচি দেওয়া হবে না। খবর আলজাজিরা ও এনডিটিভির।

এর আগে সোমবার ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তরে তৈরি করা আন্দোলনের মঞ্চ ভেঙে দেয় দিল্লি পুলিশ। একই দিন সংসদ অভিমুখে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। সংঘর্ষে বহু আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে এক তরুণীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। ওই সংঘর্ষে ১০০ জনের বেশি আহত হন।

এদিকে চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। এদিন দলটির নেতারা প্রথমে সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনের সামনে জড়ো হয়। সেখান থেকে হেঁটে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে যান। সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার সময় কংগ্রেসের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। এ সময় রাহুল গান্ধীর নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখা যায়।

কর্মসূচির আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো সহিংসতার জবাব চাইতেই তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে গেছেন। তিনি প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। একই দিন রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী হাসপাতালে গিয়ে আহত আন্দোলনকারীদের খোঁজ নেন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডাও আরএমএল ও লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

সরকারি সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংলাপের পথ খোলা রাখা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।

এদিকে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, তাদের তিনটি প্রধান দাবি হলো—শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, নিহত পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ এবং হাসপাতালে ভর্তি সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের নিঃশর্ত মুক্তি। এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, প্রশ্নফাঁস রোধ করা জাতীয় দায়িত্ব এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। তবে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, বিচার চাওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ চালিয়ে সরকার তরুণ সমাজের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, নরেন্দ্র মোদি ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে ‘তরুণবিরোধী’ প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন এবং বিরোধী দলের সরাসরি অংশগ্রহণ আন্দোলনে নতুন মাত্রা এনেছে। যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর চাপ বাড়াবে। অভিজিৎ বলেন, সরকারের মুখ পুড়েছে। তারা চাইলে এমন ঘটনা ঘটত না। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করলে এই আন্দোলনের প্রয়োজনই হতো না। কিন্তু সরকার নির্লজ্জ। বিজেপির নেতারা উদ্যত। এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, পুলিশি বর্বরতায় আপনারা আহত হয়েছেন। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। অমানবিক দিল্লি পুলিশের নৃশংসতা থেকে আপনাদের রক্ষা করতে পারিনি। অভিজিৎ লেখেন, একজন ধর্মেন্দ্র প্রধান, যিনি ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য দায়ী, তাকে রক্ষা করতে গিয়ে সরকার নিরীহ ছাত্রছাত্রীদের রক্তাক্ত করল। আপনাদের সবার স্বার্থে এই লড়াই জারি থাকবে।

বর্তমান সংসদ ‘মজলুমের সংসদ’ : ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

দেশজামানা ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
বর্তমান সংসদ ‘মজলুমের সংসদ’ : ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বর্তমান সংসদকে ‘মজলুমের সংসদ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, অধিকাংশ সংসদ সদস্য অতীতে গুম, নির্যাতন, কারাবাস, নির্বাসন কিংবা অন্যান্য কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এসেছেন। তার দাবি, ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের প্রায় ৯৯ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে এসব ঘটনার শিকার হয়েছেন, যা বিশ্বের ইতিহাসেও বিরল।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু এখন জাতীয় সংসদ। জনগণ চান, সংসদে যুক্তিনির্ভর আলোচনা, গঠনমূলক সমালোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক, যা দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সংসদের প্রতিটি কার্যক্রম এখন সাধারণ মানুষও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তাই সংসদ সদস্যদের বক্তব্য, আচরণ ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।

সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা ও ন্যায়পরায়ণতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে কায়সার কামাল বলেন, দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত তিনি নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করবেন।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। তার মতে, জাতীয় সংসদই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল কেন্দ্র হওয়া উচিত, যেখানে সরকার ও বিরোধী দল উভয়েই স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত তুলে ধরবে এবং গঠনমূলক বিতর্কের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ করবে।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়েও নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার। তিনি স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক পরিবর্তন, সামরিক শাসন, সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ, বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানসহ নানা বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ইসলামী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ইসলামী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আগামী ৫ আগস্ট রাজধানীর পল্টন মোড়ে সমাবেশ ও গণমিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করবে। সমাবেশ শেষে গণমিছিলে নেতৃত্ব দেবেন দলের কেন্দ্রীয় আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের থানা নেতৃবৃন্দের যৌথসভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক নেতৃত্ব হিসেবে একমাত্র পীর সাহেব চরমোনাই সরাসরি মাঠে ছিলেন।

তিনি বলেন, ওই আন্দোলনে পীর সাহেব চরমোনাই তার দলের অস্তিত্বকে বাজি রেখেছিলেন। আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাইয়ের অবিনশ্বর শক্তির পুনঃপ্রদর্শন’ করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাইয়ের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে সেদিন ঢাকার রাজপথ জনতার স্লোগানে মুখরিত হবে।

যৌথসভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৫ আগস্ট (বুধবার) সকাল ১১টায় রাজধানীর পল্টন মোড়ে সমাবেশ শুরু হবে। জোহরের নামাজের আগে সমাবেশ শেষে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম নেতৃত্ব দেবেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি মাওলানা কে এম শরীয়াতুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নগর দক্ষিণের সহসভাপতি জি এম রুহুল আমীন, আলহাজ আনোয়ার হোসেন, এম এইচ মোস্তাফা, আলহাজ আব্দুল আউয়ালসহ মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

মিরপুর মেট্রো স্টেশনে ‘বোমা সদৃশ’ বস্তু, তল্লাশিতে মিলল পান-সুপারির কৌটা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
মিরপুর মেট্রো স্টেশনে ‘বোমা সদৃশ’ বস্তু, তল্লাশিতে মিলল পান-সুপারির কৌটা

রাজধানীর মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের বি গেট সংলগ্ন এলাকায় একটি ব্যাগে মোড়ানো ‘বোমা সদৃশ’ বস্তু উদ্ধারকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম ডিসপোজাল টিম গিয়ে তল্লাশি চালায়। পরে ব্যাগ থেকে পান, সুপারি ও জর্দার কৌটা উদ্ধার করা হয়। কোনো বোমা বা বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে মিরপুর মডেল থানাধীন মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনের বি গেটের পাশে এমআরটি পুলিশ একটি ব্যাগে মোড়ানো ককটেল বোমা সদৃশ বস্তু দেখা যায়। বিষয়টি জানানো হলে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিটিটিসির বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেয়।

পরে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাগটি পরীক্ষা করে। তল্লাশিতে ব্যাগের ভেতর থেকে পান, সুপারি ও জর্দার কৌটা উদ্ধার করা হয়। কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা বোমা পাওয়া যায়নি।

মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, বোমা সদৃশ ব্যাগ থেকে পান, সুপারি ও জর্দার কৌটা পাওয়া গেছে। এখান থেকে কোনো বোমা বা বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য উদ্ধার হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ, এনএসআইসহ অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেন। বস্তুটির প্রকৃতি নিশ্চিত হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক বিরাজ করে।

ব্রেকিং নিউজ