খুঁজুন
রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ জাহিদ হাসান

তৃণমূল থেকে উঠে আসা ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা বিএনপির দায়িত্ব ও কর্তব্য

শেখ জাহিদ হাসান
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ
তৃণমূল থেকে উঠে আসা ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা বিএনপির দায়িত্ব ও কর্তব্য

রাজনীতিতে নেতৃত্বের প্রকৃত ভিত্তি গড়ে ওঠে তৃণমূলের কর্মীদের ত্যাগ, সংগ্রাম ও নিষ্ঠার ওপর। একটি রাজনৈতিক দলের দুঃসময়ে যারা মামলা-হামলা, জেল-জুলুম, নির্যাতন ও নানামুখী প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের পাশে অবিচল থাকেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা শুধু রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখার অন্যতম পূর্বশর্ত।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আলমগীর কবিরকে এ ধরনের তৃণমূলমুখী নেতৃত্বের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় নেতাকর্মীদের সহায়তায় নানামুখী ভূমিকা পালন করেছেন। জেল-জুলুমের শিকার নেতাকর্মীদের নিয়মিত আর্থিক সহযোগিতা, দলের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ভ্যান, রিকশা ও অটোরিকশা প্রদান, রাস্তা মেরামত, সেতু ও বাঁশের সাঁকো নির্মাণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ তাঁর কর্মকাণ্ডের অংশ। পাশাপাশি স্কুল, মসজিদ, মাদরাসা, মন্দিরসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগও তিনি গ্রহণ করেছেন।

অনেকে বলতে পারেন, তিনি সরাসরি ফ্যাসিবাদবিরোধী মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেননি। তবে এটিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন যে, রাজনীতিতে অবদান কেবল রাজপথে উপস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিতে না পারলেও, তাঁর সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে বহু নেতাকর্মী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন এটাও আপনার মানতে হবে।

আমার দেখা বিএনপি’র দূর্দিনে অন্তত ফরিদপুর কিংবা বৃহত্তর দক্ষিণবঙ্গ অঞ্চলে দল ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে এ ধরনের ধারাবাহিক সামাজিক ভূমিকা খুব কম নেতার মধ্যেই দেখা গেছে। তাই যারা দুঃসময়ে দলের জন্য অবদান রেখেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা বিএনপির সাংগঠনিক স্বার্থেও গুরুত্বপূর্ণ।

আলমগীর কবিরের মতো মানবিক ও জনমুখী নেতৃত্ব যদি যথাযথ মূল্যায়ন না পান, তাহলে ভবিষ্যতে সংকটকালে দলের জন্য এগিয়ে আসার আগ্রহ অন্যদের মধ্যেও কমে যেতে পারে। একটি রাজনৈতিক দলের জন্য এটি ইতিবাচক বার্তা বহন করবে না।

আমি রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমতের হলেও, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের একজন হিসেবে মনে করি, বিগত সরকার আমলে যারা শুধু বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণেই জেল-জুলুম, নির্যাতন ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তাদের অবদান ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা বিএনপির দায়িত্ব ও কর্তব্য।

একই সঙ্গে দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচনে বংশ, আত্মীয়তা কিংবা ব্যক্তিগত আনুগত্যের পরিবর্তে ত্যাগ, যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ততাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। কেবল নেতার সন্তান বা আত্মীয়স্বজনকে কেন্দ্র করে কমিটি গঠন করলে তৃণমূলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়।

সুসময়ে প্রশংসাকারীর অভাব হয় না। কিন্তু দুঃসময়ে দলের পক্ষে রাজপথে থাকা, সভা-সেমিনার আয়োজন করা, জনমত গঠন করা, সংবাদপত্রে লেখা, কিংবা গণমাধ্যমে দলের অবস্থান তুলে ধরার মতো মানুষের সংখ্যাই কমে যায়। তাই সংকটকালে যাদের ভূমিকা বাস্তব ও কার্যকর ছিল, তাদের মূল্যায়নের সংস্কৃতি গড়ে তোলাই একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক দলের লক্ষণ।

  • লেখক: সাবেক সহ-অর্থ সম্পাদক, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি), ফরিদপুর জেলা

কুড়িগ্রামে ইসলামী যুব আন্দোলনের নতুন কমিটি ঘোষণা: সভাপতি শহিদুল, সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে ইসলামী যুব আন্দোলনের নতুন কমিটি ঘোষণা: সভাপতি শহিদুল, সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস

ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে হাফেজ মাওলানা শহিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি হিসেবে হাফেজ মাওলানা আব্দুল বারী এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হাফেজ মাওলানা ইদ্রিস হুসাইন নির্বাচিত হয়েছেন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার দলীয় কার্যালয়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ নূর বখত মিঞা, আব্দুল কাদের, শরিফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি সাইফ মুহাম্মদ শাহ আলম।

সম্মেলনে বক্তারা ইসলামী যুব আন্দোলনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, যুবসমাজকে নৈতিকতা, আদর্শ ও ইসলামী মূল্যবোধে গড়ে তুলতে সংগঠনের দায়িত্বশীলদের আরও আন্তরিক ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ, দাওয়াতি কার্যক্রম জোরদার এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে যুবকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি আ ন ম আশিকুর রহমান। এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য নতুন কমিটির দায়িত্বশীলদের নাম ঘোষণা করা হয়। এতে হাফেজ মাওলানা শহিদুল ইসলামকে সভাপতি, হাফেজ মাওলানা আব্দুল বারীকে সহ-সভাপতি এবং হাফেজ মাওলানা ইদ্রিস হুসাইনকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

জিওপির ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রায় ফরিদপুর বিভাগের পাঁচ জেলার নেতাকর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
জিওপির ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রায় ফরিদপুর বিভাগের পাঁচ জেলার নেতাকর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ

গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)-এর ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশে অংশ নিয়েছেন ফরিদপুর বিভাগের পাঁচ জেলার নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুর বিভাগীয় উপ-কমিটির দায়িত্বশীল আরিফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ফিরোজ মুন্সী ও মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে পুরানা পল্টনের আল-রাজী কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আয়োজিত গণঅধিকার পরিষদের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে যোগ দেন ফরিদপুর বিভাগের নেতাকর্মীরা। এ সময় দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন উপস্থিত নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান।

শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা দলীয় বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন। তাঁদের স্লোগানের মধ্যে ছিল—‘তোমার আমার পরিষদ, গণঅধিকার পরিষদ’, ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, গণঅধিকার পরিষদ’, ‘জনতার অধিকার, আমাদের অঙ্গীকার’ এবং ‘ফরিদপুর বিভাগের মাটি, ভিপি নুরের ঘাঁটি’।

কর্মসূচিতে ফরিদপুর বিভাগ গণঅধিকার পরিষদের আওতাধীন গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

নাহিদ ইসলাম

ডিসেম্বরে কোনো আপার এই দেশে আসার সুযোগ নেই; এলে ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত আছে

নোয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১১ অপরাহ্ণ
ডিসেম্বরে কোনো আপার এই দেশে আসার সুযোগ নেই; এলে ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত আছে

ডিসেম্বরে কোনো আপার এই দেশে আসার আর কোনো সুযোগ নেই; যদি আসেন, তবে তার জন্য ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

শনিবার (৭ নভেম্বর) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’ কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা এখনও ঘুমিয়ে পড়েনি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ঘুমিয়ে পড়েনি—আপনাদেরকে সেটার প্রমাণ দিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা শুধু ‘নোয়াখালী বিভাগ চাই’ বলে আন্দোলন করবেন না। আপনারা পুরো দেশ নিয়ে ভাববেন, পুরো বিশ্ব নিয়ে ভাববেন। এর নামই বিশ্ববিদ্যালয়।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ৭ই নভেম্বরকে আমরা ধারণ করি। ৭ই নভেম্বর বিপ্লব, কিন্তু জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কি বিপ্লব নয়? বর্তমান সরকার যা তাদের পক্ষে যায়, সেটাকে বিপ্লব বলে; আর যা তাদের পক্ষে যায় না বা যেটিতে তাদের নেতৃত্ব ছিল না, সেটাকে তারা বিপ্লব না বলে কেবল আন্দোলন বা গণ-অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যা দেয়।

ব্রেকিং নিউজ