খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে চার খুনের তদন্তে ‘একই শার্ট, ব্যাখ্যা দিলেন ডিবি প্রধান

রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৯ পূর্বাহ্ণ
রংপুরে চার খুনের তদন্তে ‘একই শার্ট, ব্যাখ্যা দিলেন ডিবি প্রধান

রংপুরে চার খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার এক আসামির সঙ্গে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তীর পরনের শার্টের মিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা উঠেছে। তবে দুই শার্ট এক নয় বলে দাবি করেছেন ডিবি প্রধান।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় তিনি যে শার্টটি পরেছিলেন, এখনো সেটিই তার পরনে রয়েছে। এ সময় তিনি ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগের সময়ের ছবি দেখিয়ে দাবি করেন, আসামির পরনের শার্টের সঙ্গে তার শার্টের মিল নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা যে শার্টটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন, সেদিন আমি ওই শার্টই পরেছিলাম এবং এখনো সেটিই পরে আছি। তদন্তকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে কতিপয় দুষ্কৃতকারী এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’

গ্রেপ্তার আসামিদের ছবি দেখিয়ে সিদ্ধার্থ দাসের মা পাপড়ি দাসকে তার ছেলে কোনটি জানতে চাওয়া হলে তিনি শার্ট পরা সিদ্ধার্থকে দেখিয়ে বলেন, ‘এখন তো গেঞ্জি পাল্টাইছে। এই যে এইটা। গেঞ্জি পরা, সাদা গেঞ্জি পরা।’

ওই শার্টটি তাদের কি না এবং পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় সিদ্ধার্থ কী পরেছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে পাপড়ি দাস বলেন, ‘এই শার্ট না। গেঞ্জি ছিল।’

এসময় শার্টটির ব্র্যান্ড নিয়েও ব্যাখ্যা দেন ডিবি প্রধান।

লাশ উদ্ধারের দিন স্থানীয় বিভিন্ন ফেসবুক পেজের লাইভ ভিডিওতে ঘটনাস্থলে সনাতন চক্রবর্তীকে একই ধরনের শার্ট পরা অবস্থায় দেখা যায়। পরে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসকে আদালতে নেওয়ার সময় তার পরনেও একই ধরনের শার্ট দেখা যায়। এরপর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।

তবে শুধু পোশাকের মিলকে কোনো ব্যক্তির ঘটনাস্থলে উপস্থিতি বা হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে ভিডিও ফুটেজের সময়, আসামিদের অবস্থান, ঘটনাস্থলের আলামতসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ মিলিয়ে দেখা জরুরি।

এদিকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী আয়ুশকে হত্যার ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক মিলন চ্যাটার্জি বলেন, চার খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে জবানবন্দিতে কী বলেছেন, তা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘আসামিরা নিজেদের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।’

দেশজামানা/বিএস

ইমামকে ফাঁসাতে মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলা, বাদী গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ইমামকে ফাঁসাতে মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলা, বাদী গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদের ইমামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাদী জাহানারা বেগমের (৬৩) বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মামলা খারিজের পর মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ আদেশ দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বাদী জাহানারাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন জাহানারা বেগম। এতে মডেল মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. তানভিরুল ইসলাম, খাদেম সাব্বির ও আহমাদুল্লাহর বিরুদ্ধে তার ১২ বছর বয়সী নাতনিকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে পিবিআই। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষীদের বক্তব্য ও চিকিৎসকের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। গত ২৯ জুন আদালতে দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে পিবিআই অভিযোগটিকে মিথ্যা, কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে। পরে ২৮ জুলাই মামলার শুনানি শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি খারিজ করেন। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়ের করে আদালতকে বিভ্রান্ত করা এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানির অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে বিবাদীপক্ষ বাদী জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করলে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে ২১ সেপ্টেম্বর সদর থানা পুলিশ জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে।

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কুড়িগ্রাম থেকে আসাদুল্লাহ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসে ফিরে আসে।

এরপর কুড়িকৃবি অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রায়হাত ও সামিয়া কাদেরীর সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোছা. নুর মহল আখতার বানু। প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহা. রাশেদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষার্থী বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম।

আলোচনা সভার শুরুতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অগ্রগতি, শিক্ষা কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহা. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আজ ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। তিনি ২০২৪ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর দুটি ব্যাচ নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেন। বর্তমানে দুটি অনুষদের তিনটি ব্যাচে মোট ২৪০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম অস্থায়ী ভাড়া করা ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্যও ভাড়া করা ভবন ব্যবহার করা হচ্ছে। তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য ভবন নির্ধারণের কাজ শেষ হয়েছে, যা শিগগিরই চালু করা হবে।

উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার জন্য জায়গা নির্ধারণে গণমাধ্যমকর্মীসহ জেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। স্থায়ী ক্যাম্পাস হলে শিক্ষার্থীরা উন্নত পরিবেশে কৃষিশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়টি কুড়িগ্রামের কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য ই-লাইব্রেরির উদ্বোধন করা হয়। প্রাথমিকভাবে এতে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি বই যুক্ত করা হয়েছে। অনলাইনে বিভিন্ন বই ও শিক্ষাসামগ্রী পড়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রিন্ট করার সুযোগও থাকবে।

বাকশক্তিহীন অসুস্থ যুবদল নেতা রফিকের পাশে স্পিকার হাফিজ, দিলেন চিকিৎসা সহায়তা

শফিকুর রহমান সবুজ, ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ণ
বাকশক্তিহীন অসুস্থ যুবদল নেতা রফিকের পাশে স্পিকার হাফিজ, দিলেন চিকিৎসা সহায়তা

ভোলার লালমোহন উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা দিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে স্পিকারের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দেওয়া চিকিৎসা সহায়তার অর্থ রফিকুল ইসলামের হাতে তাঁর বাসায় গিয়ে তুলে দেন লালমোহন পৌর বিএনপির সভাপতি সাদেক মিয়া জান্টু।

জানা গেছে, কয়েক বছর আগে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন রফিকুল ইসলাম। এরপর থেকে তিনি বাকশক্তি হারিয়ে কথা বলতে পারেন না। তাঁর পরিবারে কোনো পুত্রসন্তান নেই; রয়েছে দুই কন্যাসন্তান। পরিবারের উপার্জনের নির্দিষ্ট কোনো উৎস না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ রফিকুল ইসলাম ও তাঁর পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সম্প্রতি রফিকুল ইসলামের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে সংবাদকর্মী এম.ইউ. মাহিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি হৃদয়স্পর্শী পোস্ট দেন। বিষয়টি স্পিকারের নজরে এলে তিনি রফিকুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেন।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম রফিকুল ইসলামের পরিবারের জন্য নিয়মিত মাসিক আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করারও আশ্বাস দেন বলে জানা গেছে। এর আগেও তিনি রফিকুল ইসলামের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিলেন।

অনুদানের অর্থ হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন লালমোহন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল আজিজ শাহীন পাটোয়ারী, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নিরব হাওলাদার, উপজেলা যুবদলের সভাপতি কবির হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক কাজী হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক বশির হাওলাদারসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

ব্রেকিং নিউজ