খতিব-ইমামসহ ৩ জনের নামে ধর্ষণ মামলা, প্রমাণ না পাওয়ায় বাদী গ্রেপ্তার
পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদের ইমামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাদী জাহানারা বেগমের (৬৩) বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মামলা খারিজের পর মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ আদেশ দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বাদী জাহানারাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন জাহানারা বেগম। এতে মডেল মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. তানভিরুল ইসলাম, খাদেম সাব্বির ও আহমাদুল্লাহর বিরুদ্ধে তার ১২ বছর বয়সী নাতনিকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে পিবিআই। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষীদের বক্তব্য ও চিকিৎসকের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। গত ২৯ জুন আদালতে দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে পিবিআই অভিযোগটিকে মিথ্যা, কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে। পরে ২৮ জুলাই মামলার শুনানি শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি খারিজ করেন। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়ের করে আদালতকে বিভ্রান্ত করা এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানির অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে বিবাদীপক্ষ বাদী জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করলে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে ২১ সেপ্টেম্বর সদর থানা পুলিশ জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে।


আপনার মতামত লিখুন