খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সার না পেয়ে গুদামের দরজা ভেঙে ২০২ বস্তা সার নিয়ে গেলেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
সার না পেয়ে গুদামের দরজা ভেঙে ২০২ বস্তা সার নিয়ে গেলেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার না পেয়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা জোট বেঁধে এক সার ডিলারের গুদামের দরজা ভেঙে ২০২ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২৩ বস্তা পটাশ সার রয়েছে। ঘটনার পর প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের তৎপরতায় ৫৮ বস্তা সার ফেরত পেয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, শিলখুড়ি ইউনিয়নের সার ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল পর্যাপ্ত বরাদ্দ পেলেও কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণে গড়িমসি করছিলেন। তার মোট বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা সার। এর মধ্যে গুদামে মজুত ছিল ৩৪০ বস্তা। রবিবার সকাল থেকে সার নিতে ডিলার পয়েন্টে দুই শতাধিক কৃষক জড়ো হন।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ডিলার পয়েন্টের দরজা না খোলায় একপর্যায়ে কৃষকেরা গুদামের দরজা ভেঙে সার নিয়ে যেতে শুরু করেন। এ সময় তারা ২০২ বস্তা ইউরিয়া ও ২৩ বস্তা পটাশ সার নিয়ে যান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুদামে থাকা বাকি সার রক্ষা করে। পরে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সার ফেরত নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

এর মধ্যে ৫০ জন কৃষক ৫৮ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা চলছে।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, ওই ইউনিয়নে সারের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা। বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা। আবার বরাদ্দের পুরো সারও উত্তোলন করা হয়নি।

ফলে কৃষকেরা সার না পাওয়ার শঙ্কা থেকে গুদাম থেকে সার নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ৫৮ বস্তা সার ফেরত পাওয়া গেছে। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত কুমার দেবনাথ বলেন, জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক, উপজেলা কৃষি বিভাগ ও সার্কেল পুলিশ কর্মকর্তাসহ তারা কৃষকদের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া সার ফেরত নেওয়ার কাজ করছেন। কৃষকেরা শান্তিপূর্ণভাবে সারগুলো ফেরত দেবেন বলে আশা করছেন তিনি।

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কুড়িগ্রাম থেকে আসাদুল্লাহ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসে ফিরে আসে।

এরপর কুড়িকৃবি অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রায়হাত ও সামিয়া কাদেরীর সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোছা. নুর মহল আখতার বানু। প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহা. রাশেদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষার্থী বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম।

আলোচনা সভার শুরুতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অগ্রগতি, শিক্ষা কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহা. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আজ ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। তিনি ২০২৪ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর দুটি ব্যাচ নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেন। বর্তমানে দুটি অনুষদের তিনটি ব্যাচে মোট ২৪০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম অস্থায়ী ভাড়া করা ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্যও ভাড়া করা ভবন ব্যবহার করা হচ্ছে। তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য ভবন নির্ধারণের কাজ শেষ হয়েছে, যা শিগগিরই চালু করা হবে।

উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার জন্য জায়গা নির্ধারণে গণমাধ্যমকর্মীসহ জেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। স্থায়ী ক্যাম্পাস হলে শিক্ষার্থীরা উন্নত পরিবেশে কৃষিশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়টি কুড়িগ্রামের কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য ই-লাইব্রেরির উদ্বোধন করা হয়। প্রাথমিকভাবে এতে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি বই যুক্ত করা হয়েছে। অনলাইনে বিভিন্ন বই ও শিক্ষাসামগ্রী পড়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রিন্ট করার সুযোগও থাকবে।

বাকশক্তিহীন অসুস্থ যুবদল নেতা রফিকের পাশে স্পিকার হাফিজ, দিলেন চিকিৎসা সহায়তা

শফিকুর রহমান সবুজ, ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ণ
বাকশক্তিহীন অসুস্থ যুবদল নেতা রফিকের পাশে স্পিকার হাফিজ, দিলেন চিকিৎসা সহায়তা

ভোলার লালমোহন উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা দিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে স্পিকারের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দেওয়া চিকিৎসা সহায়তার অর্থ রফিকুল ইসলামের হাতে তাঁর বাসায় গিয়ে তুলে দেন লালমোহন পৌর বিএনপির সভাপতি সাদেক মিয়া জান্টু।

জানা গেছে, কয়েক বছর আগে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন রফিকুল ইসলাম। এরপর থেকে তিনি বাকশক্তি হারিয়ে কথা বলতে পারেন না। তাঁর পরিবারে কোনো পুত্রসন্তান নেই; রয়েছে দুই কন্যাসন্তান। পরিবারের উপার্জনের নির্দিষ্ট কোনো উৎস না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ রফিকুল ইসলাম ও তাঁর পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সম্প্রতি রফিকুল ইসলামের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে সংবাদকর্মী এম.ইউ. মাহিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি হৃদয়স্পর্শী পোস্ট দেন। বিষয়টি স্পিকারের নজরে এলে তিনি রফিকুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেন।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম রফিকুল ইসলামের পরিবারের জন্য নিয়মিত মাসিক আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করারও আশ্বাস দেন বলে জানা গেছে। এর আগেও তিনি রফিকুল ইসলামের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিলেন।

অনুদানের অর্থ হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন লালমোহন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল আজিজ শাহীন পাটোয়ারী, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নিরব হাওলাদার, উপজেলা যুবদলের সভাপতি কবির হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক কাজী হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক বশির হাওলাদারসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

নতুন হাওয়া ভবন তৈরি হচ্ছে: সারজিস আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
নতুন হাওয়া ভবন তৈরি হচ্ছে: সারজিস আলম

নতুন হাওয়া ভবন তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা লেখেন।

পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, তৈরি হচ্ছে নতুন হাওয়া ভবন, বাপের ব্যাটারা লুটপাট করছে হাজার কোটি টাকা।

তিনি আরও লিখেন, মাঝখান দিয়ে জনগণের রক্ত-ঘামের টাকা শোষণ করা হচ্ছে সবকিছুর দাম বাড়িয়ে!

এর আগে এদিন রাতে, সরকার দেশের জ্বালানির তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করেন। বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানো হয়। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা ও পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। এতে আরও বলা হয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে এ দাম কার্যকর হবে।

জ্বালানি বিভাগ বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা এখনো অব্যাহত আছে। তবে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও সরকার জনস্বার্থে দেশে মূল্যবৃদ্ধি করেনি। ফলে, গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজ