খুঁজুন
রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ
জনআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও বর্তমান সরকার পরে সেই অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে।

তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সংস্কারের পথে ফিরুন, জনআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এসময় ১১ দলীয় ঐকের নেতারা, বিভিন্ন পেশাজীবী, দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করলেও প্রকৃত অর্থে জনগণের প্রত্যাশিত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর জাতি একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও সংস্কারের প্রত্যাশা করেছিল। সে সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ঐকমত্যও তৈরি হয়েছিল যে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের আগে সরকারপক্ষ সংস্কারের পক্ষে জনগণের রায়কে সম্মান জানানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। এটি জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম যে পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে আন্দোলনে নেমেছিল, সেই প্রত্যাশা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।

জামায়াত আমির বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন কোনো একক দলের আন্দোলন ছিল না; এটি শেষ পর্যন্ত একটি গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, জনগণ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি চাইলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও সেই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।

তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সংস্কারের পথে ফিরে আসতে হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যে ৫ আগস্টের তাৎপর্য তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়েছিল এবং সেই বাস্তবতা ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দেশে ফেরার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, গণআন্দোলনের প্রভাবেই সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা জাতির দায়িত্ব। শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ রেখে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে কাজ করতে হবে। অন্যথায় জাতিকে এর মূল্য দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে শহীদদের লেখা বিভিন্ন চিঠির সংকলন বিতরণ করা হয়। এ সময় ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত সবার প্রতি ওই চিঠিগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শহীদদের অনুভূতি, স্বপ্ন ও আত্মত্যাগের বার্তা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো ষড়যন্ত্র বা চাপের কাছে মাথা নত করা হবে না। জনগণের রায় এবং গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষে তাদের রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। জনগণ বিশেষ করে তরুণ সমাজের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না।

সবাইকে কাঁদিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত অপ্রতিম

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
সবাইকে কাঁদিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত অপ্রতিম

দুই দফা জানাজা নামাজ শেষে কুমিল্লা কোটবাড়ির বাগমারা গোরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাগমারা কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এর আগে সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে (মসজিদের সামনে) অপ্রতিমের প্রথম জানাজা এবং বাগমারা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজা শেষে অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার আর নতুন করে কিছু বলার নেই, আমি কেবল আমার সন্তান হত্যার উপযুক্ত বিচার দেখতে চাই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এখনো পর্যন্ত আমার পূর্ণ আস্থা আছে। তবে সামান্য একটা আইফোনের জন্য আমার ছেলেকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে— এ কথা আমার মন কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছে না। আমার মাত্র ১৩ বছর বয়সী নিষ্পাপ ছেলেটা তো কোনো অপরাধ করেনি; তবে কেন তাকে এভাবে প্রাণ দিতে হলো? এই মুহূর্তে আমি শুধু ঘাতকদের কঠোর বিচার চাই।

তিনি আরো বলেন, আমার ছেলে যাদের সঙ্গে গিয়েছিল, তাদের সে নিজের বন্ধু ভেবে বিশ্বাস করেছিল। তাদের কাঁধে স্নেহের হাত রেখে আমার ছেলে হাসিমুখে হাঁটতে হাঁটতে ওই পাহাড়ের দিকে গিয়েছিল। সে মনে করেছিল ওগুলো বন্ধুর ভালোবাসার হাত, কিন্তু সেই বিশ্বাসের হাতগুলোই শেষ পর্যন্ত আমার মাসুম বাচ্চাটাকে হত্যা করল!

গাজীপুরে পথসভায় জামায়াতের আমির

বিএনপি পানি খাবে, কিন্ত ঘোলা করে খাবে

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
বিএনপি পানি খাবে, কিন্ত ঘোলা করে খাবে

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় এই বাংলার মাটিতে বাস্তবায়ন করা হবে, এই বিএনপি সরকারই বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হবে। বিএনপি পানি খাবে, কিন্ত ঘোলা করে খাবে।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে গাজীপুরের পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৮ কোটি মানুষের ন্যায্য দাবি নিয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি। আমাদের এই লংমার্চ দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। এই লংমার্চ আইনশৃঙ্খলার যে অবনতি হয়েছে সেটার উত্তরণের দাবিতে।

তিনি বলেন, গণভোটে হ্যাঁ বলেছিলেন ৭০ ভাগ মানুষ। সরকার আপনাদের দেওয়া গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করে আপনাদের অপমানিত করেছে। সেই অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমরা রাস্তায় মেনেছি।

ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসনসহ আট দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের রংপুর অভিমুখী লংমার্চ শুরু হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়।

এর আগে, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমীর মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি জনাব মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

উত্তরবঙ্গমুখী লংমার্চে আঞ্চলিক একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি—তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি যুক্ত করেছে বিরোধী এই জোট। এ ছাড়া গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চ।

এর আগে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী সভার পর পথে গাজীপুরের ভোগরাপাড়া, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জ চৌরাস্তা, বগুড়ার চারমাথা ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হবে। সর্বশেষ রংপুর জিলা স্কুলে হবে সমাপনী সমাবেশ।

ব্রেকিং নিউজ