খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জাগঞ্জে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জামায়াত নেতা আটক

পটুয়াখালী সংবাদদাতা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
মির্জাগঞ্জে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জামায়াত নেতা আটক

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে তাবিজের কথা বলে নিজ ঘরে নিয়ে এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামে এক জামায়াত নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) উপজেলার মাধবখালি ইউনিয়নের উত্তর চৈতা গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক জামায়াত নেতার নাম মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫)। তিনি মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি ও উত্তর চৈতা গ্রামের মৃত জয়নাল মৌলভীর ছেলে। বাড়ির পাশে তার একটি ফার্মেসির দোকান রয়েছে। পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক।

বিষয়টির নিশ্চিত করেছেন মাধবখালি ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মহসিন হাওলাদার।

নারীর অভিযোগ জামায়াত নেতা মোস্তাফিজুর রহমান তার (নারীর) ভাইয়ের ছেলেকে তাবিজ দেওয়ার কথা বলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে ঘরে এনে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষনের চেষ্টা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারীর স্বামী ও ৯ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এক বছর আগে স্বামীর সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটায় জামায়াত নেতা ও পল্লী চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে পরিচয়। পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যা জনিত কারণে তিনি তার কাছে প্রায়ই তাবিজ নিতে আসতেন। বৃহস্পতিবার সকালে জামায়াত নেতা তার স্ত্রী ও সন্তানদের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে পাঠিয়ে দেন। এরপর সন্ধ্যার দিকে ওই নারীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। প্রায় ঘন্টা দুয়েক তারা ঘরের ভিতরে অবস্থান করেন। এলাকাবাসী ঘটনাটি টের পেয়ে ঘরের ভিতরে তাদেরকে একটি রুমে আপত্তিকার অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সিরাজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমাকে এখনো কেউ জানায়নি। তবে অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে নারী বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন। আসামি মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না: গোলাম পরওয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
স্থানীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না: গোলাম পরওয়ার

নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেছেন, সরকারের নির্দেশনাতেই এটি পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসির অধীনে নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচন বর্জনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দলীয়করণের অভিযোগ তুলে জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সরকার নিজেদের দলের লোকদের বসিয়েছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন কঠিন। এ সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আটটি দাবি তুলে ধরেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, নির্বাচন বিলম্বিত করার কোনো অজুহাত গ্রহণ করা হবে না। সব প্রার্থীর জন্য পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ, নিরাপদ পরিবেশ এবং ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে বলেও দাবি জানান তিনি।

এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে জামায়াতে ইসলামী কয়েক দফা দাবি জানিয়েছিল। দলটির পক্ষ থেকে প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগসহ বিভিন্ন দাবি জানানো হয়।

লালমোহন উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের ২৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির শপথ গ্রহণ

শফিকুর রহমান সবুজ, ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ
লালমোহন উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের ২৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির শপথ গ্রহণ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর লালমোহন উপজেলা শাখার মজলিসে আমেলা (২০২৭-২৮) সেশনের ২৫ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) লালমোহন কাশফুল চাইনিজ রেস্টুরেন্টে এ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় হাফেজ মাওলানা রাশেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আল-আমিনের সঞ্চালনায় কমিটি অনুমোদন ও শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়।

সভায় আগামী বছরের জন্য হাফেজ মাওলানা রাশেদুল ইসলামকে সভাপতি এবং মাওলানা আল-আমিনকে সেক্রেটারি করে ২৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন মুফতি শফিকুর রহমান, মাওলানা আলী আজগর মাহমুদ ও মাওলানা জামাল উদ্দিন। মাওলানা ওমর ফারুককে জয়েন্ট সেক্রেটারি এবং মাওলানা মুছা কালিমুল্লাহকে অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি করা হয়েছে।

এ ছাড়া মাওলানা ইমাম উদ্দীন শামীম সাংগঠনিক সম্পাদক, মো. তৈয়্যেবুর রহমান প্রচার সম্পাদক, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস দফতর সম্পাদক, মো. মনিরুল ইসলাম অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক, জিল্লুর রহমান প্রশিক্ষণ সম্পাদক এবং মো. শাহিন হাওলাদার দাওয়াহ ও জনশক্তি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

কমিটিতে মাওলানা তোফায়েল আহমাদ আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক, মিজানুর রহমান ছাত্রী ও মহিলা ইউনিট সম্পাদক, মাওলানা শিহাব উদ্দিন ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক, ফখরুদ্দিন শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং মাওলানা কবির হোসেন নির্বাচন ও জনপ্রতিনিধি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

সদস্য হিসেবে রয়েছেন শফিক আর রহমান, মাওলানা সোহাইল, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আব্দুল হান্নান, ওসমান নিজামি, নকীব মুন্সি ও জামাল উদ্দিন।

কমিটি গঠন ও শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের উপজেলা সভাপতি মাওলানা আবুল কাশেম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তজুমুদ্দিন উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি মাওলানা শোহাইবসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

কুড়িগ্রামে ইউপি সদস্যকে স্বামী দাবি করে ‘দুই নারীর’ চুল টানাটানি-হাতাহাতি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে ইউপি সদস্যকে স্বামী দাবি করে ‘দুই নারীর’ চুল টানাটানি-হাতাহাতি

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এক স্বামীকে কেন্দ্র করে দুই নারীর মধ্যে প্রকাশ্যে চুল টানাটানি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে লালমনিরহাটের তিস্তা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জনসমক্ষে দুই নারীর এই হাতাহাতির দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তি লিটন সরকার রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং পশ্চিম দেবোত্তর মৌজার চায়না বাজার এলাকার মৃত ফজল কমান্ডারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউপি সদস্য লিটন সরকারকে নিজের স্বামী দাবি করাকে কেন্দ্র করেই দুই নারীর মধ্যে এ বিরোধের সূত্রপাত। দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা নারীর ভাষ্য, প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে লিটন তাকে বিয়ে করেছেন এবং সেই তালাকনামা তার কাছে সংরক্ষিত আছে। অন্যদিকে প্রথম স্ত্রীর দাবি, তাকে তালাক দেওয়া হয়নি এবং লিটন দ্বিতীয় কোনো বিয়েও করেননি। সোমবার সকালে তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে এ নিয়ে দুই নারীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই নারী একে অন্যকে উদ্দেশ্য করে চেঁচামেচি করছিলেন এবং চুল ধরে টানাটানি ও ধস্তাধস্তি করছিলেন। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে দুজনকে শান্ত করেন।

খবর পেয়ে লালমনিরহাটের গোকুণ্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিপন মেম্বার ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই নারীকে উদ্ধার করে নিজের জিম্মায় নেন এবং পরে তাদের চায়না বাজারে নিয়ে আসেন। সেখানেও উৎসুক জনতা ভিড় জমান।

গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিপন বলেন, ‘তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে দুজন নারী মারামারি করছেন শুনে সেখানে যাই। পরে দুজনকেই চায়না বাজারে নিয়ে আসি। তারা দুজনই লিটনের বউ বলে দাবি করছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের আমার জিম্মায় রাখা হয়।’

গোকুন্ডা ইউনিয়নের মিঠু মিয়া বলেন, ‘বাসস্ট্যান্ডে দুইটা মেয়ে চুল ধরে মারামারি শুরু করেন। আমরা তাদের ঝগড়া থামিয়ে নিয়ে আসি।’

লিটনের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জানান, লিটনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর তিনি জানতে পারেন, লিটন ঢাকায় নেই। পরে লিটন প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন কি না, তা যাচাই করতেই তিনি সেখানে আসেন বলে দাবি করেন। তার কাছে তালাকনামা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তার দাবি, ‘লিটন আমাকে বলেছিল, সে তার বউকে ডিভোর্স দিয়েছে। সেটি যাচাই করার জন্য এসেছি।’

তিনি আরও জানান, তার আগে একটি সংসার ছিল এবং সেটি ত্যাগ করে লিটনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তিনি নিজেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ফাইনাল ও ইন্টার্নি করছেন বলেও পরিচয় দেন।

অন্যদিকে লিটন সরকার বিয়ে করার বিষয়টি স্বীকার করলেও তিস্তা বাসস্ট্যান্ড ও চায়না বাজারে দুই নারীর মারামারির বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো বিস্তারিত বক্তব্য না দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এ ঘটনায় চায়না বাজারসহ রাজারহাটজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের কেউ ঘটনাটিকে পারিবারিক বিরোধ হিসেবে দেখছেন আবার কেউ বিষয়টির আইনগত ও সামাজিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ব্রেকিং নিউজ