খুঁজুন
রবিবার, ২রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান সাবেক ধর্ম উপদেষ্টার

দেশজামানা ডেস্ক:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ
জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান সাবেক ধর্ম উপদেষ্টার

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির মধ্যে ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, জুলাইয়ের অর্জন বাস্তবায়ন না হলে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সুবিচার করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা চলছে। মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

রবিবার (১২ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তনে ‘জুলাইয়ের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে ওলামায়ে কেরামের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন আ ফ ম খালিদ হোসেন।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাদের দায়িত্ব পালনকালে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার এর মধ্যে ৯৮টি আইন হিসেবে বাস্তবায়ন করলেও ৩৫টি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।

আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে প্রকৃত অর্থে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাই জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন করেই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের শপথ নিতে হবে—জুলাইয়ের চেতনা এ দেশে আমরা বাস্তবায়ন করে ছাড়ব, ইনশা আল্লাহ। শহীদদের রক্ত এবং আল্লাহর ওলিদের চোখের পানি কখনো বৃথা যায়নি। ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।’

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে সাবেক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশে কার্যত প্রশাসনিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল। সংসদ ছিল না, সরকার ছিল না, অনেক থানায় আগুন দেওয়া হয়েছিল এবং পুলিশও দায়িত্বে ছিল না। সে সময় শিক্ষার্থীরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করেছে।

সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ১৮ মাস তারা দিন-রাত কাজ করেছেন। সরকারি গাড়িতে জাতীয় পতাকা থাকলেও ক্ষমতার কোনো স্বাদ তারা পাননি। দায়িত্ব পালনের মধ্যেই তাঁকে অস্ত্রোপচারের পর বিদেশ থেকে ফিরে বিভিন্ন জেলায় সফর করতে হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের কবর জিয়ারত, আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আ ফ ম খালিদ দাবি করেন, বিভিন্ন দলের মধ্যে কাদা–ছোড়াছুড়ি বাড়ছে। তার ধারণা, এর পেছনে তৃতীয় কোনো শক্তিরও ভূমিকা থাকতে পারে। তিনি বলেন, ‘পানি ঘোলা করতে পারলে মাছ ধরা সহজ হয়। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আপনি এক দলের, আমি আরেক দলের—এতে সমস্যা নেই। কিন্তু জাতি, মিল্লাত ও দেশের প্রয়োজনে আমরা রাজপথে একসঙ্গে দাঁড়াব, হাতে হাত রাখব।’

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময় নিহত ও নির্যাতিত আলেম-ওলামা এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাশে জামায়াত দাঁড়িয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে সহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মাদ্রাসাগুলোর খোঁজ নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

আবদুল হালিম বলেন, বিগত সময়ে দাড়ি, টুপি ও পাগড়ি পরার কারণে বহু ইমাম-খতিব ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারির কারণে অনেক খতিব স্বাধীনভাবে খুতবা দিতে পারেননি। জুলাইয়ের চেতনা বিভাজনের নয়, বরং সব ধারার আলেমদের ঐক্যের শিক্ষা দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী বলেন, ৩৬ দিনের আন্দোলনে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটলেও এর পেছনে দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগ্রাম রয়েছে। আলেম-ওলামারা দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে সচেতন করেছেন এবং রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলন করেছে, যার ধারাবাহিকতায় জুলাই আন্দোলনের শক্তি তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন। তিনি বলেন, দেশে ন্যায়বিচার ও দ্বীনি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন ইসলামি স্কলার মুফতি কাজী ইব্রাহীম, সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখের মহাসচিব মুহাম্মদ খলিলুর রহমান মাদানী, মুসলিম জনতা ঐক্য পরিষদের আমির মাওলানা আজিজুর রহমান আজিজ, ছারছিনা দরবার শরিফের মাওলানা শাহ মুহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দিকী, মাওলানা আব্দুস সামাদ, সামিউল হক ফারুকী, আ ন ম রশিদ আহমাদ মাদানী, মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, মাওলানা মীম আতিকুল্লাহ প্রমুখ।

শেখ জাহিদ হাসান

তৃণমূল থেকে উঠে আসা ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা বিএনপির দায়িত্ব ও কর্তব্য

শেখ জাহিদ হাসান
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ
তৃণমূল থেকে উঠে আসা ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা বিএনপির দায়িত্ব ও কর্তব্য

রাজনীতিতে নেতৃত্বের প্রকৃত ভিত্তি গড়ে ওঠে তৃণমূলের কর্মীদের ত্যাগ, সংগ্রাম ও নিষ্ঠার ওপর। একটি রাজনৈতিক দলের দুঃসময়ে যারা মামলা-হামলা, জেল-জুলুম, নির্যাতন ও নানামুখী প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের পাশে অবিচল থাকেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা শুধু রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখার অন্যতম পূর্বশর্ত।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আলমগীর কবিরকে এ ধরনের তৃণমূলমুখী নেতৃত্বের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় নেতাকর্মীদের সহায়তায় নানামুখী ভূমিকা পালন করেছেন। জেল-জুলুমের শিকার নেতাকর্মীদের নিয়মিত আর্থিক সহযোগিতা, দলের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ভ্যান, রিকশা ও অটোরিকশা প্রদান, রাস্তা মেরামত, সেতু ও বাঁশের সাঁকো নির্মাণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ তাঁর কর্মকাণ্ডের অংশ। পাশাপাশি স্কুল, মসজিদ, মাদরাসা, মন্দিরসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগও তিনি গ্রহণ করেছেন।

অনেকে বলতে পারেন, তিনি সরাসরি ফ্যাসিবাদবিরোধী মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেননি। তবে এটিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন যে, রাজনীতিতে অবদান কেবল রাজপথে উপস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিতে না পারলেও, তাঁর সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে বহু নেতাকর্মী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন এটাও আপনার মানতে হবে।

আমার দেখা বিএনপি’র দূর্দিনে অন্তত ফরিদপুর কিংবা বৃহত্তর দক্ষিণবঙ্গ অঞ্চলে দল ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে এ ধরনের ধারাবাহিক সামাজিক ভূমিকা খুব কম নেতার মধ্যেই দেখা গেছে। তাই যারা দুঃসময়ে দলের জন্য অবদান রেখেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা বিএনপির সাংগঠনিক স্বার্থেও গুরুত্বপূর্ণ।

আলমগীর কবিরের মতো মানবিক ও জনমুখী নেতৃত্ব যদি যথাযথ মূল্যায়ন না পান, তাহলে ভবিষ্যতে সংকটকালে দলের জন্য এগিয়ে আসার আগ্রহ অন্যদের মধ্যেও কমে যেতে পারে। একটি রাজনৈতিক দলের জন্য এটি ইতিবাচক বার্তা বহন করবে না।

আমি রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমতের হলেও, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের একজন হিসেবে মনে করি, বিগত সরকার আমলে যারা শুধু বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণেই জেল-জুলুম, নির্যাতন ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তাদের অবদান ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা বিএনপির দায়িত্ব ও কর্তব্য।

একই সঙ্গে দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচনে বংশ, আত্মীয়তা কিংবা ব্যক্তিগত আনুগত্যের পরিবর্তে ত্যাগ, যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ততাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। কেবল নেতার সন্তান বা আত্মীয়স্বজনকে কেন্দ্র করে কমিটি গঠন করলে তৃণমূলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়।

সুসময়ে প্রশংসাকারীর অভাব হয় না। কিন্তু দুঃসময়ে দলের পক্ষে রাজপথে থাকা, সভা-সেমিনার আয়োজন করা, জনমত গঠন করা, সংবাদপত্রে লেখা, কিংবা গণমাধ্যমে দলের অবস্থান তুলে ধরার মতো মানুষের সংখ্যাই কমে যায়। তাই সংকটকালে যাদের ভূমিকা বাস্তব ও কার্যকর ছিল, তাদের মূল্যায়নের সংস্কৃতি গড়ে তোলাই একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক দলের লক্ষণ।

  • লেখক: সাবেক সহ-অর্থ সম্পাদক, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি), ফরিদপুর জেলা

ঢাকাসহ‌ সারাদেশে পুলিশের সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
ঢাকাসহ‌ সারাদেশে পুলিশের সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহনকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।

শনিবার (১ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন্স কন্ট্রোল থেকে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা দুষ্কৃতকারীরা পুলিশের জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের ওপর হামলা চালাতে পারে, গোয়েন্দা সংস্থার এমন তথ্যের ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটকে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পুলিশের যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের শিথিলতা বা অবহেলার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ডিউটির সময় এবং ডিউটি শেষে পার্কিং করা যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

এতে বলা হয়, ডিউটিরত কোনো যানবাহন সাময়িকভাবে থামানোর প্রয়োজন হলে সেটি অবশ্যই নিরাপদ স্থানে পার্ক করতে হবে এবং পুলিশের সদস্যদের সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই চালক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য ছাড়া যানবাহন ফেলে রাখা যাবে না। অর্থাৎ আনঅ্যাটেন্ডেড (Unattended) অবস্থায় কোনো পুলিশি যানবাহন রাখার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ডিউটি শেষে থানা, পুলিশ লাইন্স, অফিস কম্পাউন্ড কিংবা অন্যান্য নির্ধারিত স্থানে রাখা সব সরকারি যানবাহনের নিরাপত্তাও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এসব স্থানে নিয়মিত টহল, প্রয়োজনীয় নজরদারি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতর বার্তায় বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের সব মহানগর, রেঞ্জ, জেলা ও ইউনিটের কর্মকর্তাদের নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।

বর্তমান সংসদ ‘মজলুমের সংসদ’ : ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

দেশজামানা ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
বর্তমান সংসদ ‘মজলুমের সংসদ’ : ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বর্তমান সংসদকে ‘মজলুমের সংসদ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, অধিকাংশ সংসদ সদস্য অতীতে গুম, নির্যাতন, কারাবাস, নির্বাসন কিংবা অন্যান্য কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এসেছেন। তার দাবি, ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের প্রায় ৯৯ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে এসব ঘটনার শিকার হয়েছেন, যা বিশ্বের ইতিহাসেও বিরল।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু এখন জাতীয় সংসদ। জনগণ চান, সংসদে যুক্তিনির্ভর আলোচনা, গঠনমূলক সমালোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক, যা দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সংসদের প্রতিটি কার্যক্রম এখন সাধারণ মানুষও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তাই সংসদ সদস্যদের বক্তব্য, আচরণ ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।

সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা ও ন্যায়পরায়ণতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে কায়সার কামাল বলেন, দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত তিনি নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করবেন।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। তার মতে, জাতীয় সংসদই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল কেন্দ্র হওয়া উচিত, যেখানে সরকার ও বিরোধী দল উভয়েই স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত তুলে ধরবে এবং গঠনমূলক বিতর্কের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ করবে।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়েও নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার। তিনি স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক পরিবর্তন, সামরিক শাসন, সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ, বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানসহ নানা বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন।

ব্রেকিং নিউজ