খুঁজুন
শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২৭ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহীন আলম (১৪) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত শাহীন আলম ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের কুঠিরচন্দ্রখানা নাখারজান গ্রামের কাশেম আলীর ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার দিন কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে সাইকেলে করে গঙ্গারহাট বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিল শাহীন। পথে গঙ্গারহাট মোহরটারী হাফিজিয়া মাদ্রাসার কাছে পৌঁছালে একটি অ্যাম্বুলেন্স অটোরিকশাকে ওভারটেক করতে গিয়ে তার সাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয় শাহীন। দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্সটি দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায় বলে অভিযোগ করেছে তার সহপাঠীরা।

পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়। পরে রংপুরের বেসরকারি ডক্টরস ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শাহীনকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তার অকাল মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ। সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যেও শোকের আবহ বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অবগত করেনি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সময়ের প্রয়োজনে জিওপি আবারও রাজপথে গর্জে উঠবে: নুরুল হক নুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ণ
সময়ের প্রয়োজনে জিওপি আবারও রাজপথে গর্জে উঠবে: নুরুল হক নুর

গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)-এর ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি সফলভাবে সম্পন্ন করায় দলটির নেতাকর্মী এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দলটির সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় ঢাকার পুরানা পল্টনে জিওপির ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে অংশ নেন তিনি। এ সময় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সেলফি তোলেন নুরুল হক নুর।

পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সেলফিটি শেয়ার করে তিনি লেখেন, একটি সুন্দর ও সফল প্রোগ্রাম উপহার দেওয়ায় জিওপি ও সকল অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ। সময়ের প্রয়োজনে জিওপি বরাবরের মতো রাজপথে গর্জে উঠবে।

তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতেও রাজপথের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার মুসলিম নেতার সঙ্গে মাওলানা অলিউল্লাহ এমপির সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ কোরিয়ার মুসলিম নেতার সঙ্গে মাওলানা অলিউল্লাহ এমপির সৌজন্য সাক্ষাৎ

দক্ষিণ কোরিয়ায় মুসলিম কমিউনিটির ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম এবং ইসলামের দাওয়াতি কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য ও বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ায় আব্দুর রহমান লির সঙ্গে তিনি এ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। আব্দুর রহমান লি কোরিয়া মুসলিম ফেডারেশন ও সিউল সেন্ট্রাল মসজিদের শরিয়াহ কমিটির চেয়ারম্যান।

সাক্ষাৎকালে মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ দক্ষিণ কোরিয়ায় মুসলিম কমিউনিটির ধর্মীয়, সামাজিক ও দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ সময় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতি, দক্ষিণ কোরিয়ায় ইসলামের দাওয়াতের প্রসার, ইসলাম প্রচারে বাংলাদেশি ইমামদের অবদান এবং প্রবাসে ইসলামের খেদমতে ভবিষ্যৎ করণীয় ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মতবিনিময়ের একপর্যায়ে মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ আব্দুর রহমান লিকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী চরমোনাই মাহফিলে অংশগ্রহণের জন্য বিশেষ আমন্ত্রণ জানান।

সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের যোগাযোগ বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার করবে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে মুসলিমদের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের মালিক গ্রেফতারে লাগবে আদালতের অনুমতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের মালিক গ্রেফতারে লাগবে আদালতের অনুমতি

সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক, সংবাদ ও গণমাধ্যমের মালিক কিংবা কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের আগে সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারভুক্ত আদালতের পূর্বানুমতি নেয়ার বিধান যুক্ত হতে যাচ্ছে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনটির খসড়া পর্যালোচনায় গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এনিয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।

বুধবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সুনির্দিষ্ট মতামত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই আইনের খসড়ায় পরিমার্জন করা হচ্ছে, যেন কোনোভাবেই নতুন এই আইনটি স্বাধীন সাংবাদিকতা কিংবা গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর কোনো হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, সংবাদের কারণে সাংবাদিকদের গ্রেফতারে আদালতের অনুমতির বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এ ছাড়া মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা এবং সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলোকে আলাদা করে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে দেশের মূল দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় গুজব ও অপতথ্যের (মিসইনফরমেশন) সংজ্ঞাকেও আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে আইনের অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে কাউকে হয়রানি করা না যায়।

নতুন খসড়ায় কোনো প্রকার মোবাইল কোর্টের বিধান না রাখা, কোনো ডিজিটাল কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে লিখিত কারণ দর্শানো এবং তা অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

এমনকি যে কোনো মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রস্তাব আনা হয়েছে।

সভায় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের নতুন সদস্যকাঠামোতে গণমাধ্যমের প্রতিনিধি রাখা এবং মেটা, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই পরিমার্জিত খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে সাধারণ নাগরিক ও সকল অংশীজন নিজেদের মতামত দিতে পারেন।

সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেন, সাইবার অপরাধ ও হুমকি প্রতিহত করার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের ভারসাম্যের ওপর ভিত্তি করেই একটি সময়োপযোগী সাইবার সুরক্ষা আইন তৈরি করা হবে। জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির বিশেষ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় আইসিটি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামানসহ সরকারের নীতি নির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

ব্রেকিং নিউজ