খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সার না পেয়ে গুদামের দরজা ভেঙে ২০২ বস্তা সার নিয়ে গেলেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
সার না পেয়ে গুদামের দরজা ভেঙে ২০২ বস্তা সার নিয়ে গেলেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার না পেয়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা জোট বেঁধে এক সার ডিলারের গুদামের দরজা ভেঙে ২০২ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২৩ বস্তা পটাশ সার রয়েছে। ঘটনার পর প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের তৎপরতায় ৫৮ বস্তা সার ফেরত পেয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, শিলখুড়ি ইউনিয়নের সার ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল পর্যাপ্ত বরাদ্দ পেলেও কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণে গড়িমসি করছিলেন। তার মোট বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা সার। এর মধ্যে গুদামে মজুত ছিল ৩৪০ বস্তা। রবিবার সকাল থেকে সার নিতে ডিলার পয়েন্টে দুই শতাধিক কৃষক জড়ো হন।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ডিলার পয়েন্টের দরজা না খোলায় একপর্যায়ে কৃষকেরা গুদামের দরজা ভেঙে সার নিয়ে যেতে শুরু করেন। এ সময় তারা ২০২ বস্তা ইউরিয়া ও ২৩ বস্তা পটাশ সার নিয়ে যান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুদামে থাকা বাকি সার রক্ষা করে। পরে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সার ফেরত নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

এর মধ্যে ৫০ জন কৃষক ৫৮ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা চলছে।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, ওই ইউনিয়নে সারের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা। বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা। আবার বরাদ্দের পুরো সারও উত্তোলন করা হয়নি।

ফলে কৃষকেরা সার না পাওয়ার শঙ্কা থেকে গুদাম থেকে সার নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ৫৮ বস্তা সার ফেরত পাওয়া গেছে। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত কুমার দেবনাথ বলেন, জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক, উপজেলা কৃষি বিভাগ ও সার্কেল পুলিশ কর্মকর্তাসহ তারা কৃষকদের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া সার ফেরত নেওয়ার কাজ করছেন। কৃষকেরা শান্তিপূর্ণভাবে সারগুলো ফেরত দেবেন বলে আশা করছেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি ও এমপি-মন্ত্রীদের বেতন বাড়ানোর উদ্যোগ নিলে বাধা দেব: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতি ও এমপি-মন্ত্রীদের বেতন বাড়ানোর উদ্যোগ নিলে বাধা দেব: জামায়াত আমির

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে এর বিরোধিতা করার কথা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে কোনো কোনো মহলে আলোচনা হচ্ছে। তাঁর মতে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা অসঙ্গত হবে। বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী এর বিরোধিতা করবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা বেতন বা অর্থ উপার্জনের জন্য সংসদে যাননি; জনগণের প্রয়োজনেই তাঁরা সেখানে গেছেন। দেশের ১৮ কোটি মানুষের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হলে তখন সবার সঙ্গে তাঁরা অংশীদার হতে পারেন। তবে তার আগে জনপ্রতিনিধিদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর পক্ষে নন তিনি।

জামায়াতের আমির বলেন, দেশের মানুষ যখন নানা সংকটের মধ্যে রয়েছে, তখন সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রশ্নই আসে না। সরকার এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নিলে আমরা বাধা দেব।

সরকারকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে বিরোধী দল হিসেবে তাঁরা এর সুস্পষ্ট বিরোধিতা করবেন।

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হবে: রাশেদ খাঁন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হবে: রাশেদ খাঁন

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী আসলে কাগুজে বাঘ। তারা এ অবস্থায় নিজেদেরকে বিরোধী দল থেকে সরকারি দল ভাবা শুরু করেছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন তিনি।

রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সবসময় অভিযোগ করা হয়। দেখেন অভিযোগ কারা করে, যারা নিজেদেরকে দুর্বল মনে করে তারাই সবসময় অভিযোগ করে। জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দল কিন্তু তারা আসলে বিরোধী দল হিসাবে থাকতে চায় না। তাদের কথাবার্তা শুনে মনে হয় যে, তারা সরকারি দলের কাছ থেকে সমান সুযোগ সুবিধা প্রত্যাশা করে।

তিনি আরও বলেন, তারা প্রত্যাশা করুক বা না করুক সরকার সকল এমপিদের জন্য, হোক সে সরকারি দলের কিংবা বিরোধী দলের সবার জন্য সমান বরাদ্দ ধার্য করে রেখেছে। জামায়াতের জন্য যদি কলিজা কেটে ভুনা করে দেন তাও তাদের খুশী করা সম্ভব না।

খতিব-ইমামসহ ৩ জনের নামে ধর্ষণ মামলা, প্রমাণ না পাওয়ায় বাদী গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
খতিব-ইমামসহ ৩ জনের নামে ধর্ষণ মামলা, প্রমাণ না পাওয়ায় বাদী গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদের ইমামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাদী জাহানারা বেগমের (৬৩) বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মামলা খারিজের পর মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ আদেশ দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বাদী জাহানারাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন জাহানারা বেগম। এতে মডেল মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. তানভিরুল ইসলাম, খাদেম সাব্বির ও আহমাদুল্লাহর বিরুদ্ধে তার ১২ বছর বয়সী নাতনিকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে পিবিআই। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষীদের বক্তব্য ও চিকিৎসকের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। গত ২৯ জুন আদালতে দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে পিবিআই অভিযোগটিকে মিথ্যা, কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে। পরে ২৮ জুলাই মামলার শুনানি শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি খারিজ করেন। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়ের করে আদালতকে বিভ্রান্ত করা এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানির অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে বিবাদীপক্ষ বাদী জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করলে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে ২১ সেপ্টেম্বর সদর থানা পুলিশ জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে।

ব্রেকিং নিউজ