খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারীদের নিরাপদ যাতায়াতে চালু হলো বিআরটিসি’র পিংক বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
নারীদের নিরাপদ যাতায়াতে চালু হলো বিআরটিসি’র পিংক বাস

নগরীর কর্মজীবী নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে পৃথক পিংক কালারের ‘মহিলা বাস’ সার্ভিস চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। গোলাপি রঙের এ বাসে চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নারীরা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে মহিলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মহিলা চালক ও মহিলা কন্ডাক্টর দ্বারা পরিচালিত এই পিংক বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণপরিবহনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুল লতিফ মোল্লা।

বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, কর্মজীবী নারী ও নারী যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াতের কথা বিবেচনায় নিয়ে পিংক বাস সার্ভিস পরিচালনা করা হবে। বাসগুলোর চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে নারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এআই নির্ভর অটো ফাইন সিস্টেম চালু হওয়ায় মহাসড়কে চাঁদাবাজি কমবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৩ অপরাহ্ণ
এআই নির্ভর অটো ফাইন সিস্টেম চালু হওয়ায় মহাসড়কে চাঁদাবাজি কমবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয়েছে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ ক্যামেরা। এর ফলে মহাসড়কে চাঁদাবাজি কমবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘এখন থেকে মহাসড়কে ট্রাফিক আইন ভাঙলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা তৈরি হবে।’

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ‘অটো ফাইন সিস্টেম (এআই)’ ক্যামেরার উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মহাসড়কের চাঁদাবাজি মালিক বা শ্রমিক যে পক্ষ থেকেই হোক না কেন, এআই ক্যামেরায় সবকিছু রেকর্ডেড থাকবে। এর ফলে চাঁদাবাজির প্রবণতা কমে আসবে। থ্রি-হুইলারগুলো শুধু বাজার, ফিলিং স্টেশন ও ফিডার রোডে চলাচল করবে এবং কোনো অবস্থাতেই মহাসড়কে উঠতে পারবে না। মহাসড়কে উঠলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পুলিশের হাইওয়ে বিভাগ জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হওয়া এই অটো ফাইন সিস্টেমের মাধ্যমে মহাসড়কে ওভার স্পিড, অবৈধ পার্কিং কিংবা উল্টোপথে গাড়ি চালানোর মতো আইন লঙ্ঘন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে এআই ক্যামেরা। আইন লঙ্ঘন শনাক্ত হলেই গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইলে মামলার তথ্য ও জরিমানার নোটিশ চলে যাবে এবং ঘরে বসেই নির্দিষ্ট মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস)-এর মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করা যাবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্থাপিত এই ক্যামেরার কার্যক্রমে কোনো ভুলত্রুটি ধরা পড়লে তা সংশোধন করে পরে দেশের অন্যান্য মহাসড়কগুলোতেও এটি স্থাপন করা হবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পদত্যাগ করছেন পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
পদত্যাগ করছেন পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম

সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করছেন অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম।

আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তিনি তার পদত্যাগপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠাবেন বলে পিএসসির দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি বিষয়টি একেবারে অস্বীকারও করেননি। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি কেবল বলেন, ‘হলে জানবেন।’ তার এমন মন্তব্য এবং পিএসসির অভ্যন্তরীণ সূত্রের তথ্য মিলিয়ে তার পদত্যাগের বিষয়টি এখন অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সে সময় রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক রদবদল ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় তুমুল বিক্ষোভ ও দাবির মুখে পিএসসির তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইনসহ কমিশনের ১২ জন সদস্য একযোগে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পিএসসির শীর্ষ পদে তৈরি হওয়া সেই শূন্যতা পূরণে এবং কমিশনে গতিশীলতা আনতে ২০২৪ সালের অক্টোবরে অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।

নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে প্রায় দুই বছর ধরে তিনি পিএসসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার এই দায়িত্ব পালনকালে বিসিএসসহ সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হারানো আস্থা ও স্বচ্ছতা ফেরাতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তবে হঠাৎ করে কেন তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো জানা যায়নি।

পিএসসি সূত্রে জানা যায়, যেকোনো সময় তার পদত্যাগপত্র সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হতে পারে। পদত্যাগপত্র গৃহীত হলে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী নতুন কাউকে এই শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানে যেন কোনো স্থবিরতা তৈরি না হয়, সে জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নেবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন।

উলিপুরে উন্নয়ন বরাদ্দে ‘এমপির স্বজনপ্রীতি’: ৫ সড়কের ৩টিই নিজের ইউনিয়নে

বিশেষ প্রতিনিধি (উলিপুর) কুড়িগ্রাম:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
উলিপুরে উন্নয়ন বরাদ্দে ‘এমপির স্বজনপ্রীতি’: ৫ সড়কের ৩টিই নিজের ইউনিয়নে

কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের অবহেলিত যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে সম্প্রতি মোট ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়ন কাজ মঞ্জুর ও বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে মোট ৪ কোটি ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ২৪৫ টাকার এই মেগা প্রকল্পের সিংহভাগই স্থানীয় সংসদ সদস্যের নিজ ইউনিয়ন থেতরাইয়ে কেন্দ্র করে বরাদ্দ দেওয়ায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। সচেতন মহলের অভিযোগ, গোটা উপজেলার অন্য সব ইউনিয়নের বেহাল দশা উপেক্ষা করে এমপি নিজ এলাকায় সড়ক উন্নয়ন কেন্দ্রীভূত করার মাধ্যমে স্পষ্ট স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিক বৈষম্যের পরিচয় দিয়েছেন।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, মঞ্জুর হওয়া ৫টি সড়কের মধ্যে ৩টি প্রধান সড়কই সরাসরি থেতরাই ইউনিয়নের সংযোগ ও অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য নির্ধারিত। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অঙ্কের বরাদ্দ গেছে ‘উলিপুর জিসি–থেতরাই ইউপি অফিস’ সড়ক (দৈর্ঘ্য: ৭.১৫০ কিমি), যার প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৬ লাখ ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। এছাড়া ‘থেতরাই হাট–ইউপি নগরাকুড়া হাট’ সড়কের ০.৬৫০ কিলোমিটারের জন্য ৫১ লাখ ৮৫ হাজার ৪৩৮ টাকা এবং ‘উলিপুর থেতরাই–বাকোরের হাট’ সড়কের ০.৭৪০ কিলোমিটারের জন্য ৬৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪৬৭ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, মঞ্জুর হওয়া মোট বাজেটের তিন-চতুর্থাংশের বেশি টাকাই চলে যাচ্ছে কেবল এমপির নিজ ইউনিয়নে।

অন্যদিকে, উলিপুরের অন্যান্য ইউনিয়নের যোগাযোগের প্রাণকেন্দ্র যেমন ‘উলিপুর M.S.H/S–উলিপুর মন্ডলের হাট GC’ সড়কের জন্য মাত্র ৩৫ লাখ ৫৭ ৬৫৩ টাকা এবং ‘কেসি রোড –নতুন অনন্তপুর হাট’ সড়কের জন্য ৭৬ লাখ ৫৬ হাজার ৮৯ টাকা ছাঁটাই-কাটাই করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় অধিবাসীদের দাবি, উলিপুরের বহু ইউনিয়নের প্রধান প্রধান সড়ক দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা ও চলাচলের অযোগ্য হয়ে রয়েছে। অথচ সংসদ সদস্য মাহবুব সালেহী সুষম বণ্টন না করে তার ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে উন্নয়ন বরাদ্দের একটি বড় অংশ নিজ ইউনিয়নে নিয়ে গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় রাজনীতিতে এই স্বজনপ্রীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে। উপজেলাজুড়ে সমান ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত না করে রাজনৈতিক সুবিধা ও আঞ্চলিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ায় সাধারণ জনগণের মাঝে চরম হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।

ব্রেকিং নিউজ