খুঁজুন
রবিবার, ২রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করা হবে

দেশজামানা ডেস্ক:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করা হবে

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিচার এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার দাবিতে জাতীয় সংসদ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে দলগত বিচারের দাবি জানান সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই; বাংলাদেশের সীমানায় পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ বিধি অনুসারে আলোচনার এ নোটিশটি উত্থাপন করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই। তিনি দেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার করা হবে। এ সময় একই সুরে কথা বলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, যারা আত্মসমর্পণ করার হুংকার দিচ্ছেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে তাদের আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ থাকবে না। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বাংলাদেশের সীমানায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেপ্তার হবেন। এটি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত ১৬টি তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ১২টি তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে। এরই মধ্যে চারটি মামলার চার্জ গঠন এবং তিনটির রায় ঘোষণা করা হয়েছে। কুখ্যাত শাপলা চত্বরের নারকীয় হত্যাকাণ্ডেরও তদন্ত শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে সংসদে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুতগতিতে চলছে। বর্তমানে ৫৯০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং ১২টি মামলার তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনাল, প্রসিকিউটর ও তদন্ত কর্মকর্তার সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

আওয়ামী লীগের দলগত বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই এ দাবিতে সোচ্চার ছিল। পরবর্তী সময়ে আইন সংশোধনের মাধ্যমে দলগত বিচারের আইনি ভিত্তিও তৈরি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সংবিধান সংস্কার কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য এখনো পাঁচটি আসন খালি রাখা হয়েছে। তিনি বিরোধী দলকে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্র ও সীমান্ত নীতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে। সরকারের মূল নীতি হচ্ছে—সবার আগে বাংলাদেশ। মনে রাখতে হবে, আপনি চাইলে বউ বদল করতে পারবেন; কিন্তু প্রতিবেশী বদল করতে পারবেন না। এ ছাড়া আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করা হবে বলে তিনি জানান।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই ছিল সাড়ে ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত ফল। এ দীর্ঘ সময়ে যারা গুম, খুন ও পঙ্গু হয়েছেন, তাদের ভুলে যাওয়া নিজের আত্মার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো গড়িমসি জাতি সহ্য করবে না।

তিনি গণমাধ্যমের একাংশের সমালোচনা করে বলেন, বেশিরভাগ মিডিয়া স্বৈরাচারকে ভয়ংকর হতে সাহায্য করেছিল। তারা এখন আবার পানি ঘোলা করার জন্য মাঠে নেমেছে। সরকার তাদের ব্যাপারে কেন দুর্বলতা দেখাচ্ছে, তা আমরা জানতে চাই। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সীমান্তে সুড়সুড়ি দেওয়া হচ্ছে। আমরা পরিষ্কার বলতে চাই, এটি একটি স্বাধীন দেশ এবং এর প্রতিটি বালুকণা আমরা পাহারাদারি করব।

এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ এবং ভারতীয় মিডিয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করেছিল। দুঃখের বিষয়, সরকারি দলেরও দু-একজন সদস্য টকশোতে জুলাইয়ের শহীদদের সঙ্গে পুলিশের তুলনা করছেন, যা আওয়ামী লীগেরই বয়ান। তিনি ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমকে আরও দক্ষ করার দাবি জানান।

নোটিশ উত্থাপনকারী আখতার হোসেন বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে। অবিলম্বে শেখ হাসিনাসহ খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করতে হবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের বিতর্কিত সরকারের নীল নকশা ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের চক্রান্তে দেশে একটি ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম হয়েছিল। ভবিষ্যতে যেন কোনো শক্তি এমন গণহত্যা চালাতে না পারে, সেজন্য রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার অনিবার্য।

আলোচনায় অন্যদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম ও রোকেয়া বেগম অংশ নিয়ে অবিলম্বে জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।

শেখ জাহিদ হাসান

তৃণমূল থেকে উঠে আসা ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা বিএনপির দায়িত্ব ও কর্তব্য

শেখ জাহিদ হাসান
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ
তৃণমূল থেকে উঠে আসা ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা বিএনপির দায়িত্ব ও কর্তব্য

রাজনীতিতে নেতৃত্বের প্রকৃত ভিত্তি গড়ে ওঠে তৃণমূলের কর্মীদের ত্যাগ, সংগ্রাম ও নিষ্ঠার ওপর। একটি রাজনৈতিক দলের দুঃসময়ে যারা মামলা-হামলা, জেল-জুলুম, নির্যাতন ও নানামুখী প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের পাশে অবিচল থাকেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা শুধু রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখার অন্যতম পূর্বশর্ত।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আলমগীর কবিরকে এ ধরনের তৃণমূলমুখী নেতৃত্বের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় নেতাকর্মীদের সহায়তায় নানামুখী ভূমিকা পালন করেছেন। জেল-জুলুমের শিকার নেতাকর্মীদের নিয়মিত আর্থিক সহযোগিতা, দলের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ভ্যান, রিকশা ও অটোরিকশা প্রদান, রাস্তা মেরামত, সেতু ও বাঁশের সাঁকো নির্মাণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ তাঁর কর্মকাণ্ডের অংশ। পাশাপাশি স্কুল, মসজিদ, মাদরাসা, মন্দিরসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগও তিনি গ্রহণ করেছেন।

অনেকে বলতে পারেন, তিনি সরাসরি ফ্যাসিবাদবিরোধী মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেননি। তবে এটিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন যে, রাজনীতিতে অবদান কেবল রাজপথে উপস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিতে না পারলেও, তাঁর সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে বহু নেতাকর্মী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন এটাও আপনার মানতে হবে।

আমার দেখা বিএনপি’র দূর্দিনে অন্তত ফরিদপুর কিংবা বৃহত্তর দক্ষিণবঙ্গ অঞ্চলে দল ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে এ ধরনের ধারাবাহিক সামাজিক ভূমিকা খুব কম নেতার মধ্যেই দেখা গেছে। তাই যারা দুঃসময়ে দলের জন্য অবদান রেখেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা বিএনপির সাংগঠনিক স্বার্থেও গুরুত্বপূর্ণ।

আলমগীর কবিরের মতো মানবিক ও জনমুখী নেতৃত্ব যদি যথাযথ মূল্যায়ন না পান, তাহলে ভবিষ্যতে সংকটকালে দলের জন্য এগিয়ে আসার আগ্রহ অন্যদের মধ্যেও কমে যেতে পারে। একটি রাজনৈতিক দলের জন্য এটি ইতিবাচক বার্তা বহন করবে না।

আমি রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমতের হলেও, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের একজন হিসেবে মনে করি, বিগত সরকার আমলে যারা শুধু বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণেই জেল-জুলুম, নির্যাতন ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তাদের অবদান ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা বিএনপির দায়িত্ব ও কর্তব্য।

একই সঙ্গে দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচনে বংশ, আত্মীয়তা কিংবা ব্যক্তিগত আনুগত্যের পরিবর্তে ত্যাগ, যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ততাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। কেবল নেতার সন্তান বা আত্মীয়স্বজনকে কেন্দ্র করে কমিটি গঠন করলে তৃণমূলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়।

সুসময়ে প্রশংসাকারীর অভাব হয় না। কিন্তু দুঃসময়ে দলের পক্ষে রাজপথে থাকা, সভা-সেমিনার আয়োজন করা, জনমত গঠন করা, সংবাদপত্রে লেখা, কিংবা গণমাধ্যমে দলের অবস্থান তুলে ধরার মতো মানুষের সংখ্যাই কমে যায়। তাই সংকটকালে যাদের ভূমিকা বাস্তব ও কার্যকর ছিল, তাদের মূল্যায়নের সংস্কৃতি গড়ে তোলাই একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক দলের লক্ষণ।

  • লেখক: সাবেক সহ-অর্থ সম্পাদক, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি), ফরিদপুর জেলা

ঢাকাসহ‌ সারাদেশে পুলিশের সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
ঢাকাসহ‌ সারাদেশে পুলিশের সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহনকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।

শনিবার (১ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন্স কন্ট্রোল থেকে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা দুষ্কৃতকারীরা পুলিশের জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের ওপর হামলা চালাতে পারে, গোয়েন্দা সংস্থার এমন তথ্যের ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটকে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পুলিশের যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের শিথিলতা বা অবহেলার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ডিউটির সময় এবং ডিউটি শেষে পার্কিং করা যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

এতে বলা হয়, ডিউটিরত কোনো যানবাহন সাময়িকভাবে থামানোর প্রয়োজন হলে সেটি অবশ্যই নিরাপদ স্থানে পার্ক করতে হবে এবং পুলিশের সদস্যদের সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই চালক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য ছাড়া যানবাহন ফেলে রাখা যাবে না। অর্থাৎ আনঅ্যাটেন্ডেড (Unattended) অবস্থায় কোনো পুলিশি যানবাহন রাখার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ডিউটি শেষে থানা, পুলিশ লাইন্স, অফিস কম্পাউন্ড কিংবা অন্যান্য নির্ধারিত স্থানে রাখা সব সরকারি যানবাহনের নিরাপত্তাও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এসব স্থানে নিয়মিত টহল, প্রয়োজনীয় নজরদারি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতর বার্তায় বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের সব মহানগর, রেঞ্জ, জেলা ও ইউনিটের কর্মকর্তাদের নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।

বর্তমান সংসদ ‘মজলুমের সংসদ’ : ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

দেশজামানা ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
বর্তমান সংসদ ‘মজলুমের সংসদ’ : ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বর্তমান সংসদকে ‘মজলুমের সংসদ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, অধিকাংশ সংসদ সদস্য অতীতে গুম, নির্যাতন, কারাবাস, নির্বাসন কিংবা অন্যান্য কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এসেছেন। তার দাবি, ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের প্রায় ৯৯ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে এসব ঘটনার শিকার হয়েছেন, যা বিশ্বের ইতিহাসেও বিরল।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু এখন জাতীয় সংসদ। জনগণ চান, সংসদে যুক্তিনির্ভর আলোচনা, গঠনমূলক সমালোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক, যা দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সংসদের প্রতিটি কার্যক্রম এখন সাধারণ মানুষও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তাই সংসদ সদস্যদের বক্তব্য, আচরণ ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।

সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা ও ন্যায়পরায়ণতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে কায়সার কামাল বলেন, দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত তিনি নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করবেন।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। তার মতে, জাতীয় সংসদই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল কেন্দ্র হওয়া উচিত, যেখানে সরকার ও বিরোধী দল উভয়েই স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত তুলে ধরবে এবং গঠনমূলক বিতর্কের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ করবে।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়েও নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার। তিনি স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক পরিবর্তন, সামরিক শাসন, সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ, বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানসহ নানা বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন।

ব্রেকিং নিউজ