জামায়াত-এনসিপিকে ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ বললেন এসএম নুরে এরশাদ সিদ্দিকী
জামায়াত ও এনসিপি জাতীয় পার্টির শূন্যতা পূরণ করে ‘গৃহপালিত বিরোধী দলের’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও রাজনীতিক এসএম নুরে এরশাদ সিদ্দিকী।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। তাঁর পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো—
“জনগণ মনে করে, জামায়াত-এনসিপি জাতীয় পার্টির শূন্যতা পূরণ করে গৃহপালিত বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে; আগে নিজ দলের ভূমিকা ঠিক করুন, এরপর অন্য দলের সমালোচনা করুন!
গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) ২০২২ সাল থেকে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎভাবে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করেছে; বিএনপির সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে নিজ দলীয় ট্রাক প্রতীকে ছাব্বিশের নির্বাচন করেছে, যেমনটি জামায়াত-এনসিপি আসন ভাগাভাগি করে ইলেকশন করেছে! কিছু আসনে বিএনপির প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ইলেকশন করেছে; যেমনটি এবি পার্টি ও জামায়াত করেছে, জোট থাকা সত্ত্বেও এনসিপির সারোয়ার তুষার ও জামায়াতের প্রার্থী নরসিংদীতে ইলেকশন করেছে!
আপনাগো বেলায় হালাল, আর আমগো বেলায় দালাল! রাজনীতিতে জোট করা যদি দালালি বা চাটাচাটি হয় তাহলে এই দালালি বা চাটাচাটি জামায়াত ২০০১ সালে বিএনপির সাথে সরকারে গিয়ে শুরু করেছে, ২০১৮ সালে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির সাথে নির্বাচনে গিয়ে করেছে; রাজনীতিতে জামায়াতের পুনর্বাসন মানেই বিএনপির সাথে দালালি বা চাটাচাটি করার ইতিহাস। শুধু তাই নয়, জামায়াত এই দালালি বা চাটাচাটি ৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সাথে ও ৮৬ সালে জাতীয় পার্টির সাথেও করেছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে সারাদিন মুখে ফেনা তোলা লোকগুলো যখন কোলাকুলি ও চুম্মাকে শেষ অনুঘটক হিসেবে বেছে নেয়, তখন সাধারণ জনগণ চাটাচাটির এই জাপা টেকনিকটা বুঝতে পারে এবং জামায়াত-এনসিপির মতো গৃহপালিত বিরোধী দলকে ধিক্কার জানায়!
একজন মুক্তিযোদ্ধা প্রার্থী দিয়ে অপজিট প্রার্থীকে রাজাকারপুত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবার বিষয়টি জনগণের নিকট ধরা খেয়েছে; জনগণ বুঝে গেছে, জামায়াতও আজকাল এক-দুইখানা মুক্তিযোদ্ধাকে ক্রয় করিয়া আওয়ামী লীগের মতো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করবার চেষ্টা করছে; বিষয়টি শেষপর্যন্ত যেন ‘ভূতের মুখে রাম নাম’ উপাখ্যান হিসেবে রাজনীতিতে মঞ্চায়িত হয়েছে; যা আদতে সুপার ডুপার ফ্লপ!”

আপনার মতামত লিখুন