খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের ভূখণ্ড দাবি নেপালের, নেপথ্যে ২০০ বছরের পুরোনো চুক্তি

দেশজামানা ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ভারতের ভূখণ্ড দাবি নেপালের, নেপথ্যে ২০০ বছরের পুরোনো চুক্তি

ভারত ও নেপালের মধ্যকার সবচেয়ে পুরোনো ও সংবেদনশীল সীমান্ত বিরোধের মূলে রয়েছে ২১০ বছরের প্রাচীন ‘সুগৌলি চুক্তি’। তবে এই ঐতিহাসিক ভিত্তিকে কেন্দ্র করেই এবার চরম অস্বস্তিতে পড়েছে কাঠমান্ডু। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত নির্ধারণকারী ১৮১৬ সালের মূল সুগৌলি চুক্তিটি নেপাল সরকারের কাছে আদৌ আছে কিনা, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না দেশটি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।

সীমান্তবর্তী কালাপানি, লিম্পিয়াধুরা ও লিপুলেখ এলাকাকে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের মানচিত্রভুক্ত করার দাবি তুলে আসছিল নেপাল। সেই দাবি ঘিরে নয়াদিল্লি ও কাঠমান্ডুর কূটনৈতিক সম্পর্কে একাধিকবার টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কাঠমান্ডুর এই আঞ্চলিক দাবির সপক্ষে ঐতিহাসিক প্রমাণ কোথায়? ভারতের এই প্রশ্নের মুখে পড়ে চূড়ান্ত অস্বস্তিতে নেপাল সরকার। আশ্চর্যজনকভাবে সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, সীমান্ত নির্ধারণকারী মূল চুক্তির নথিপত্রই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না! ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তিটির মূল নথি খুঁজে পেতে পার্লামেন্টের উদ্যোগে গঠিত অনুসন্ধানী দল নেপালের জাতীয় আর্কাইভ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও জাদুঘরে তল্লাশি চালিয়েও কোনো আসল কপি উদ্ধার করতে পারেনি।

নেপালের প্রতিনিধি সভার এক বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খিনাল জানান, সুগৌলি চুক্তির মূল কপি সরকারের হেফাজতে রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই। কাঠমান্ডু পোস্টের বরাতে জানা যায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্লামেন্টে বলেছেন, আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই যে অফিসিয়াল চুক্তিটি সরকারের কাছে আছে কিনা। জাতীয় আর্কাইভে কিছু চুক্তির রেকর্ড রয়েছে, কিন্তু সেগুলোই আসল চুক্তি কিনা, তা বলা যাচ্ছে না। তিনি জানান, ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তি এবং ১৯৫০ সালের ভারত-নেপাল শান্তি ও মৈত্রী চুক্তির অনুলিপি সরকারের কাছে রয়েছে, তবে মূল কপিটি নিখোঁজ।

বর্তমান ভারত ও নেপালের বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে এই চুক্তির ৫ নম্বর ধারা। চুক্তি অনুযায়ী, নেপাল ‘কালী’ বা ‘মহাকালী’ নদীর পশ্চিমের ভূমির ওপর থেকে সব দাবি ত্যাগ করে, যা নদীটিকে নেপালের পশ্চিম সীমান্ত হিসেবে নির্ধারণ করে। কিন্তু দুই শতাব্দী ধরে প্রশ্ন রয়ে গেছে– কালী নদীর উৎপত্তি ঠিক কোথায়? নেপালের দাবি, নদীটির উৎপত্তি লিম্পিয়াধুরায়। সেই হিসেবে লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি এবং লিপুলেখ নদীর পূর্বে অবস্থিত হওয়ায় এগুলো নেপালের অংশ। পক্ষান্তরে ভারতের অবস্থান হলো, কালী নদীর উৎপত্তি লিপুলেখ অঞ্চলের নিচের একটি ঝরনা থেকে। ভারত তাদের প্রশাসনিক ও রাজস্ব রেকর্ড দেখিয়ে দাবি করে আসছে, কালাপানি ঐতিহাসিকভাবে অবিভক্ত উত্তরপ্রদেশের পিথোরাগড় জেলার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়ে এসেছে।

দেশজামানা/এমএমআর

ঢাকার সড়কে আজ নারীদের জন্য নামছে ‘পিংক বাস’, চালক-কন্ডাক্টরও নারী

দেশজামানা ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ
ঢাকার সড়কে আজ নারীদের জন্য নামছে ‘পিংক বাস’, চালক-কন্ডাক্টরও নারী

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাজধানীর গণপরিবহনে আজ থেকে চালু হচ্ছে বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) উদ্যোগে গোলাপি রঙের এসব ‘পিংক বাস’ পরিচালনা করবেন নারী চালক ও কন্ডাক্টর।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সার্ভিসের উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনের পর বিকেলে যাত্রী পাওয়া সাপেক্ষে বাস চলাচল করবে। আগামীকাল বুধবার থেকে নির্ধারিত রুটে পূর্ণাঙ্গভাবে যাত্রীসেবা শুরু হবে।

প্রাথমিকভাবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রুটে ১০টি বাস দিয়ে ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ চালু করা হচ্ছে। এর বাইরে বগুড়ায় দুটি ও চট্টগ্রামে দুটি বাসসহ আরও চারটি বাস এ সেবায় যুক্ত হবে। যাত্রী চাহিদা ও প্রয়োজন বিবেচনায় ভবিষ্যতে বাসের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

ঢাকায় নতুনবাজার (কোকাকোলা)-মতিঝিল, তালতলা-মতিঝিল, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, মিরপুর-১০-মতিঝিল, মিরপুর-দো১২-মতিঝিল, আব্দুল্লাহপুর-কোয়ার্টার-জিপিও, মিরপুর-মতিঝিল ও মোহাম্মদপুর-মতিঝিলসহ গুরুত্বপূর্ণ রুটে এসব বাস চলাচল করবে। এছাড়া গাজীপুর-বিমানবন্দর রুটেও বিশেষ বাস থাকবে।

নতুনবাজার থেকে মতিঝিলগামী বাস কোকাকোলা, নতুনবাজার, বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, কাকরাইল, পল্টন ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে যাবে। অন্যদিকে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ডেমরা ও আব্দুল্লাহপুরের বাসগুলো রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা সংযুক্ত করবে।

ঢাকার বাইরে বগুড়ার শেরপুর-মাটিডালি রুটে দুটি এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাট-পতেঙ্গা রুটে দুটি বাস চলাচল করবে।

বিআরটিসির ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নারী চালক ও কন্ডাক্টর দিয়ে পরিচালিত এই বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবহন খাতে নারীদের কর্মসংস্থান ও অংশগ্রহণও বাড়বে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

সীমান্ত বেষ্টনী টপকে মাদকের থাবা: অতিষ্ঠ কুড়িগ্রামের জনজীবন

বিশেষ প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ
সীমান্ত বেষ্টনী টপকে মাদকের থাবা: অতিষ্ঠ কুড়িগ্রামের জনজীবন

ভারতের সীমান্তঘেঁষা উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে মাদক পাচার ও কারবার ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে রৌমারী, ভূরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ীসহ সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোকে রুট হিসেবে ব্যবহার করছে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মাদক সিন্ডিকেট। সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিদিন আসছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, এসকাফ এবং গাঁজার বড় বড় চালান।

অভিযানে উদ্ধার ও সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের ঘটনা বাড়লেও থামছে না মাদকের অবাধ প্রবেশ। জেলা পুলিশ, ডিবি ও র‍্যাবের পৃথক অভিযানে প্রতিনিয়তই ধরা পড়ছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও কারবারি। সম্প্রতি ফুলবাড়ী ও রৌমারী সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় র‍্যাব ও পুলিশের অভিযানে কেজিতে কেজি গাঁজা, হাজার হাজার পিস ইয়াবা ও ফেনসিডিলসহ একাধিক তালিকাভুক্ত কারবারিকে আটক করা হয়েছে। তবে মূল হোতারা প্রায়ই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে সরেজমিনে জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ীদের দাপটে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। মাদক বিক্রেতারা স্থানীয় বেকার যুবকদের প্রলোভন দেখিয়ে বাহক হিসেবে ব্যবহার করছে, ফলে মারাত্মক সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম ৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, “মাদকের ভয়াল থাবা থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্ম ও সমাজকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। মাদক চোরচালান বন্ধে সীমান্ত পাহারা আরো কঠোর করার পাশাপাশি জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধী বা গডফাদার যে দলেরই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে বদ্ধপরিকর।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এটি একটি সংবেদনশীল অঞ্চল। তবে জিরো টলারেন্স নীতিতে প্রতিনিয়ত বিশেষ কম্বিং অপারেশন ও ডিবি অভিযান চালানো হচ্ছে। চিহ্নিত স্পটগুলোতে নজরদারি আরো বাড়ানো হয়েছে।”

সুশীল সমাজের মতে, কেবল কয়েকটি চালান ধরা বা বাহকদের গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়। সীমান্ত পাহারায় কঠোর নজরদারি এবং মূল গডফাদারদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে সীমান্ত অঞ্চলের তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

লালমোহনে বিএনপি-যুবদলের দুই নেতার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল

শফিকুর রহমান সবুজ, লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
লালমোহনে বিএনপি-যুবদলের দুই নেতার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল

ভোলা জেলার লালমোহন পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব ছাদেক মিয়া জান্টু ও উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কাজী হাসানুজ্জামান শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে চীনের কুনমিং শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় লালমোহন উপজেলা যুবদলের উদ্যোগে দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) আয়োজিত এ দোয়া মাহফিলে উপজেলা যুবদলের সভাপতি কবির হাওলাদারের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বশির হাওলাদারের সঞ্চালনায় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন, শফিউল্লাহ হাওলাদার, সোহেল আজীজ শাহিনসহ বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

দোয়া ও মোনাজাতে অসুস্থ দুই নেতার দ্রুত আরোগ্য, সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। একই সঙ্গে তাদের দ্রুত দেশে ফিরে আসার জন্য মহান আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে প্রার্থনা করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।

ব্রেকিং নিউজ