খুঁজুন
রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক আজ

দেশজামানা ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ
সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক আজ

সংসদের বিরোধী জোটের অংশগ্রহণ ছাড়াই সংবিধান সংশোধনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করছে সরকার। এ লক্ষ্যে গঠিত ১২ সদস্যের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি আজ মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) প্রথম বৈঠকে বসছে। সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বেলা ১২টায় অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম বৈঠকে সদস্যদের পরিচিতি, কমিটির কর্মপরিধি, কর্মকৌশল এবং সংবিধান সংশোধনের রূপরেখা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হবে। দ্বিতীয় বৈঠক থেকে সংশোধনী সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়নের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে সংশোধন প্রক্রিয়ার রোডম্যাপ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গত ১৩ জুলাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে কমিটি গঠন করা হয়। এর দায়িত্ব হলো সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে সুপারিশ তৈরি করে সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা। তবে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। সরকারি দল বিরোধী জোটকে কমিটিতে পাঁচজন সদস্য মনোনয়নের আহ্বান জানালেও তারা কোনো নাম দেয়নি। কমিটি গঠনের দিনই বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে এবং জানায়, তারা সংবিধান সংশোধনের নয়, বরং সংবিধান সংস্কারের পক্ষে। সংশ্লিষ্টদের মতে জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংবিধান সংস্কার প্রশ্নটি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। নির্বাচনব্যবস্থা, রাষ্ট্রক্ষমতার ভারসাম্য, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কারের দাবি উঠেছে। বিশেষ কমিটি এসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলার চেষ্টা করবে। তবে বিরোধী দলের প্রতিনিধি না থাকলে আলোচনা কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে সংবিধানের মতো মৌলিক বিষয়ে সর্বদলীয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে সংশোধন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।

এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জানান, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের পক্ষে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। তাই বর্তমান বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করছেন।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে। তিনি জানান, বিশেষ কমিটি বিচার বিভাগ, আইন বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী, সম্পাদক, বিভিন্ন অংশীজন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করে সুপারিশ তৈরি করবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন করা হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের পর এ পর্যন্ত ১৭ বার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্র সংস্কারের জোরালো দাবি ওঠে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংবিধান, বিচার বিভাগ, পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), নির্বাচনব্যবস্থা, জনপ্রশাসনসহ ১১ খাত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব কমিশনের সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও সংলাপের পর ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ গৃহীত হয়।পরে নভেম্বরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করেন, যার ভিত্তিতে গণভোট অধ্যাদেশ জারি হয়। ওই আদেশ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার বিধান ছিল। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের ৭৭ জন সদস্য উভয় শপথ নিলেও সরকারি দল বিএনপি জোটের এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

সবাইকে কাঁদিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত অপ্রতিম

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
সবাইকে কাঁদিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত অপ্রতিম

দুই দফা জানাজা নামাজ শেষে কুমিল্লা কোটবাড়ির বাগমারা গোরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাগমারা কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এর আগে সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে (মসজিদের সামনে) অপ্রতিমের প্রথম জানাজা এবং বাগমারা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজা শেষে অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার আর নতুন করে কিছু বলার নেই, আমি কেবল আমার সন্তান হত্যার উপযুক্ত বিচার দেখতে চাই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এখনো পর্যন্ত আমার পূর্ণ আস্থা আছে। তবে সামান্য একটা আইফোনের জন্য আমার ছেলেকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে— এ কথা আমার মন কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছে না। আমার মাত্র ১৩ বছর বয়সী নিষ্পাপ ছেলেটা তো কোনো অপরাধ করেনি; তবে কেন তাকে এভাবে প্রাণ দিতে হলো? এই মুহূর্তে আমি শুধু ঘাতকদের কঠোর বিচার চাই।

তিনি আরো বলেন, আমার ছেলে যাদের সঙ্গে গিয়েছিল, তাদের সে নিজের বন্ধু ভেবে বিশ্বাস করেছিল। তাদের কাঁধে স্নেহের হাত রেখে আমার ছেলে হাসিমুখে হাঁটতে হাঁটতে ওই পাহাড়ের দিকে গিয়েছিল। সে মনে করেছিল ওগুলো বন্ধুর ভালোবাসার হাত, কিন্তু সেই বিশ্বাসের হাতগুলোই শেষ পর্যন্ত আমার মাসুম বাচ্চাটাকে হত্যা করল!

গাজীপুরে পথসভায় জামায়াতের আমির

বিএনপি পানি খাবে, কিন্ত ঘোলা করে খাবে

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
বিএনপি পানি খাবে, কিন্ত ঘোলা করে খাবে

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় এই বাংলার মাটিতে বাস্তবায়ন করা হবে, এই বিএনপি সরকারই বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হবে। বিএনপি পানি খাবে, কিন্ত ঘোলা করে খাবে।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে গাজীপুরের পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৮ কোটি মানুষের ন্যায্য দাবি নিয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি। আমাদের এই লংমার্চ দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। এই লংমার্চ আইনশৃঙ্খলার যে অবনতি হয়েছে সেটার উত্তরণের দাবিতে।

তিনি বলেন, গণভোটে হ্যাঁ বলেছিলেন ৭০ ভাগ মানুষ। সরকার আপনাদের দেওয়া গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করে আপনাদের অপমানিত করেছে। সেই অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমরা রাস্তায় মেনেছি।

ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসনসহ আট দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের রংপুর অভিমুখী লংমার্চ শুরু হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়।

এর আগে, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমীর মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি জনাব মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

উত্তরবঙ্গমুখী লংমার্চে আঞ্চলিক একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি—তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি যুক্ত করেছে বিরোধী এই জোট। এ ছাড়া গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চ।

এর আগে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী সভার পর পথে গাজীপুরের ভোগরাপাড়া, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জ চৌরাস্তা, বগুড়ার চারমাথা ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হবে। সর্বশেষ রংপুর জিলা স্কুলে হবে সমাপনী সমাবেশ।

ব্রেকিং নিউজ