আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মতিঝিল আদর্শ ল’ কলেজের অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জহিরুল হক শামীম।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বয়সের পরিবর্তে মেধা, পরীক্ষার মান, ইন্টার্নশিপ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে আইনজীবী হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত।
ওই ফেসবুক পোস্টে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর যৌথ ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্তের কথা জানান বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘোষণা অনুযায়ী, আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে ৩৫ বছর বয়সের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
আইনমন্ত্রী এ সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, প্রশাসনসহ অন্যান্য পেশার কর্মকর্তারা চাকরিজীবন শেষে অবসরে গিয়ে আইন পেশায় প্রবেশ করলে অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তাল মেলাতে হিমশিম খান। আইন পেশায় দীর্ঘমেয়াদি সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা, তরুণদের সুযোগ সৃষ্টি এবং পেশার মর্যাদা ও ভাবমূর্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে বয়সের ভিত্তিতে আইন পেশায় প্রবেশের সুযোগ সীমিত করার এ সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জহিরুল হক শামীম।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আইন পেশা কোনো চাকরি নয়, যেখানে মাস শেষে নির্দিষ্ট বেতন পাওয়া যায়; বরং এটি একটি সাধনা ও দায়বদ্ধতার ক্ষেত্র।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সংসারের দায়িত্ব সামলে যাঁরা ৩৫ বছর বয়সের পর আইন পড়তে আসেন, তাঁদের স্বপ্ন কি অপরাধ? একজন ৪০ বছর বয়সী ব্যক্তি যদি বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার যোগ্যতা রাখেন এবং মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সততা ও সক্ষমতা তাঁর থাকে, তাহলে কেবল বয়সের কারণে তাঁকে আইন পেশায় প্রবেশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা সংবিধানের সমতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আইন পেশার সংস্কারের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা এই আইনের বিরোধী নই, আমরা সংস্কার চাই। আমরা চাই আইন পেশায় শৃঙ্খলা আসুক, কিন্তু সেটা মেধার ভিত্তিতে হোক, বয়সের বেড়াজালে নয়।”
জহিরুল হক শামীমের মতে, আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সসীমা আরোপ না করে বার কাউন্সিলের পরীক্ষার মান আরও উন্নত করা, ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক ও কার্যকর করা এবং নৈতিকতার মানদণ্ড আরও কঠোর করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে আইন পেশার গুণগত মান ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য পেশায় প্রবেশের সুযোগও অবারিত রাখা সম্ভব।
তিনি মনে করেন, আইন পেশায় যোগ্যতা ও দক্ষতা যাচাইয়ের প্রধান মানদণ্ড হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জ্ঞান, পেশাগত সক্ষমতা, সততা ও নৈতিকতা। শুধু বয়সের ভিত্তিতে কাউকে অযোগ্য বিবেচনা না করে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিলে পেশার মান উন্নয়নের পাশাপাশি ন্যায়সংগত সুযোগও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
দেশজামানা/এম এম আর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:০৮ অপরাহ্ণ