বিএনপি থেকে একাধিকবার বহিষ্কৃত সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে জামায়াতে ইসলামীতে অন্তর্ভুক্ত করাকে কেন্দ্র করে দলটির অভ্যন্তরে চরম মতভেদ ও নীতিগত বিভাজন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-ধর্মীয় সম্প্রীতি বিষয়ক সম্পাদক ইব্রাহীম মোল্লা।
এক রাজনৈতিক বিশ্লেষণে ইব্রাহীম মোল্লা বলেন, আখতারুজ্জামানকে ঘিরে জামায়াতের ভেতরে এখন চরম বিপরীতমুখী অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও হুমকির অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করার পর এই দ্বিমুখী সুর আরও জোরালো হয়। একদিকে ডক্টর শফিকুল ইসলাম মাসুদের মতো জামায়াত নেতারা রাজপথে সোচ্চার হয়ে বলছেন, আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা মানে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মান করা এবং স্বাধীনতার চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। অন্যদিকে, জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন যে, আখতারুজ্জামান দলের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নেতা নন, তিনি শুধুই এক ‘সিম্পল সদস্য’।
ইব্রাহীম মোল্লা আরও উল্লেখ করেন, আখতারুজ্জামানের পুরো রাজনৈতিক জীবনের বিতর্কিত ভূমিকা জামায়াতের আদর্শিক ও নৈতিক অবস্থানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন-
জামায়াতবিরোধী উগ্র বক্তব্য: অতীতের বিভিন্ন টকশোতে আখতারুজ্জামান জামায়াতে ইসলামীকে সরাসরি ‘রগ কাটার দল’ ও ‘সন্ত্রাসবাদী দল’ বলে তোপ দেগেছিলেন। এমনকি জামায়াত বিএনপি নেতা তারেক রহমানের ‘মাথা খাচ্ছে’ বলেও তিনি চরম কটূক্তি করেছিলেন।
শেখ হাসিনাকে তোষামোদ: আরেক টকশোতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘দেবী’ বানিয়ে অতি-তোষামোদ করে তিনি দাবি করেছিলেন, শেখ হাসিনা একাই নাকি সব সামলে রাখছেন।
ধর্মীয় মাহফিলে হট্টগোল ও দাম্ভিকতা:
ব্যক্তিগত দাম্ভিকতা ও অহংকারের বশে তিনি কিশোরগঞ্জে মুফতি আরিফ বিন হাবিবের একটি ওয়াজ মাহফিলে সরাসরি উঠে গিয়ে বক্তব্য ও মাহফিলের স্বাভাবিক পরিবেশে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন, যা নিয়ে সেখানে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও চাটুকারিতা:
২৪-এর একপেশে নির্বাচন বিএনপি বর্জন করলেও তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে তথাকথিত ‘ডামি’ নির্বাচনে অংশ নেন, পরবর্তীতে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন এবং জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার বিপক্ষে চরম কুরুচিপূর্ণ অবস্থান নেন।
ইব্রাহীম মোল্লার মতে, যে ব্যক্তি অতীতে ইসলামী মূল্যবোধ ও জামায়াতের আদর্শকে প্রকাশ্যে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন, তাকে দলে ভেড়ানো নিয়ে জামায়াতের শীর্ষ ও তৃণমূল পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। জামায়াত একদিকে তার পদমর্যাদা অস্বীকার করে সাধারণ কর্মী হিসেবে ব্যাখ্যা দিচ্ছে, অন্যদিকে রাজপথে তার মুক্তির দাবি তুলছে। এই দ্বিমুখী আচরণের মাধ্যমে জামায়াত নিজের ভেতরেই এক চরম রাজনৈতিক বিপাক ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টি করেছে।

বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ১০:১৫ অপরাহ্ণ