নুরের ডায়নামিক নেতৃত্বেই ফিরবে গণঅধিকারের পলিটিক্যাল কারেন্সি

তোফাজ্জল হোসেন 
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৮:১৮ অপরাহ্ণ

ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার শেষ ৬ বছরে তরুণদের মধ্যে পলিটিক্যাল কারেন্সিতে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলো নুরুল হক নুর। ঐ ৬ টি বছর ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনীতিতে এই একটি নাম ছিলো সবার মুখে মুখে।

জুলাই অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের সূচনা যে কোটা পুনর্বহাল ইস্যু এর সাথেও নুরের ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মুখে হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে কোটা বাতিল না করলে ২৪ শে এসে কোটা পুনর্বহালের প্রসঙ্গটাই তো আসতো না।

১৮ না হলে ২৪ আসতো না, হয়তো ভিন্ন কোনো ইস্যুতে ভিন্ন কোনো সময়ে হাসিনার পতন হতো, হতে পারতো এখনো হাসিনাই ক্ষমতার মসনদে থাকতো, কারণ তার সরকারের মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত ছিলো।

২৪’র পূর্বে নুরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদের সারাদেশের অদম্য সাহসী নেতাকর্মীদের দেখে মানুষ বলতে শুরু করেছিলো নুরদের দ্বারাই হাসিনার বিদায় ঘণ্টা বাজবে, হয়েছেও তাই নুরের সেই সময়ের নেতৃবৃন্দ ও সাবেক সহযোদ্ধা সম্মিলিতভাবেই জুলাই অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব পর্যায়ে ছিলো।

২৪’র পূর্বে সাধারণ জনগণ মধ্যপন্থা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে লীগ ও বিএনপির পরে গণঅধিকার পরিষদকেই মনে করতে শুরু করে।

জুলাই অগাস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ১৯ জুলাই দিবাগত রাতে ভিপি নুরকে গ্রেপ্তার করা হয়, যেহেতু বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ নুরের বর্তমান ও সাবেক সহযোদ্ধারা সেহেতু গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য ছিলো এই আন্দোলনকে পেছন থেকে লিড দেওয়া ব্যক্তিটিই হলো ভিপি নুর।

আন্দোলন যখন অনেকটাই স্তিমিত, সেই সময় রিমান্ডে নির্যাতনের পর তাকে যখন কোর্টে আনা হয় সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিলো না, সেই সময় সে বলে উঠে হাসিনার ৯০% পতন হয়ে গেছে ১০% ধাক্কা দিতে হবে।

ঐ অবস্থায় তার এই ৯ শব্দের বাক্যটি গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও সারাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণকে উজ্জীবিত করে।

৫ আগস্টের পর গণঅধিকার পরিষদ নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন পায়, ভিপি নুর ও গণঅধিকার পরিষদের প্রতি মানুষের আকাঙ্খা ছিলো আকাশছোঁয়া।

জুলাই অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বের মাধ্যমে নাহিদ, আসিফ, হাসনাত, সার্জিসসহ বেশ কিছু অদম্য সাহসী তরুণ নেতৃত্বকে চিনেছে দেশের জনগণ।

দেশের জনগণ ও তরুণ নেতৃবৃন্দের একটা বিরাট অংশ চেয়েছিলো তারুণ্যের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার, ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে এই তারুণ্যই সম্মিলিতভাবে আজ হয় ক্ষমতায় থাকতো না হয় প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক ভূমিকায় থাকতো।

নির্বাচনী রাজনীতিতে গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বিএনপিতে যোগ দেওয়ায় এবং ভিপি নুর একটি আসনে বিএনপির সাথে সমঝোতা করায় জনগণ নুর ও গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে যে আকাশছোঁয়া স্বপ্ন দেখেছিলো তাতে ভাটা পড়ে, এতে নুর ও গণঅধিকার পরিষদের পলিটিক্যাল কারেন্সি হ্রাস পায়।

তবে আমি এখনো বিশ্বাস করতে চাই, নুর তার ডায়নামিক লিডারশীপের মাধ্যমে তার ও গণঅধিকার পরিষদের হ্রাস পাওয়া পলিটিক্যাল কারেন্সি অচিরেই ফিরিয়ে আনবে। গণধিকার পরিষদের back stepping অতীব জরুরী।

লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)

সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহফুজ ইকরাম

প্রিন্ট করুন