বর্ষার পানি ধরে রাখতে তিস্তার ভাটিতে আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে: ত্রাণমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ । ৮:৩৩ অপরাহ্ণ

বর্ষার পানি ধরে রাখতে তিস্তার ভাটিতে আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু।

তিনি বলেছেন, তিস্তার সঙ্গে জড়িত ১৪টি শাখা নদীর গভীরতা বাড়িয়ে সেই পানি সংরক্ষণ করা হবে। আমরা চাই বর্ষার পর শুকনো মৌসুমে যেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা কার্যকর থাকে।

রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয়তলা বিশিষ্ট আইসোলেশন ওয়ার্ড উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, তিস্তার সঙ্গে যুক্ত ১৪টি শাখা নদীর গভীরতা বাড়িয়ে সেখানে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে বর্ষা শেষে শুকনো মৌসুমেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা কার্যকর রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার উজান থেকে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া না গেলে এবং প্রতিবেশী দেশ পানি না দিলে নিজেদের সংরক্ষিত পানিই কাজে লাগাতে হবে। সে লক্ষ্যেই ভাটিতে ব্যারেজ নির্মাণ ও শাখা নদীগুলোর নাব্যতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রসঙ্গে আসাদুল হাবীব দুলু বলেন, হাসপাতালটি রংপুর বিভাগের প্রায় দুই কোটি মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি নিয়মিত হাসপাতাল পরিদর্শন করে বিভিন্ন উন্নয়নকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন।

হাসপাতালের জনবল সংকটের বিষয়টি ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব আকারে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এবার স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ তুলনামূলক বেশি। ফলে দ্রুত জনবল সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পুরোনো ভবনগুলোতে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে জায়গার সংকট রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নতুন ভবনগুলোর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া জনবলও প্রয়োজনের তুলনায় কম। এ কারণে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

জনবল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত আউটসোর্সিংয়ের বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়েও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান আসাদুল হাবীব দুলু।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও রোগীদের সেবার মান বাড়াতে কাজ চলছে। হাসপাতালজুড়ে লাইট ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কাজেও অগ্রগতি হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহফুজ ইকরাম

প্রিন্ট করুন