কুষ্টিয়ায় এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ । ১১:২২ পূর্বাহ্ণ

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে শহরের থানাপাড়া জামে মসজিদের সামনে ছয় রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের দায়ী করা হয়েছে। অন্যদিকে গণ অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর জামায়াতের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছেন। এ নিয়ে দুই পক্ষই পরস্পরকে দোষারোপ করেছে।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার এ কে এম আলী মহসীন বলেন, ‘গণ অধিকার পরিষদের লোকজন আক্রমণ করেছে। তাদের সঙ্গে বিএনপির ছাত্রদল যোগ দিয়েছে। এমপি সাহেব বাইরে থেকে আসছিলেন। তারা ইটপাটকেল মেরে গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙেছে। আমাদের লোকজন প্রতিহত করতে গেলে মারামারি হয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে মামলা করব।’

তিনি জানান, হামলায় আমির হামজা আহত হননি। তিনি বর্তমানে নিজ বাসায় রয়েছেন এবং দলীয় নেতা-কর্মীরা সেখানে অবস্থান করছেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি গণ অধিকার পরিষদকে নিয়ে আমির হামজা একটি বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্যের প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে গণ অধিকার পরিষদ। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে আমির হামজা গাড়িতে করে ওই এলাকা দিয়ে বাসার দিকে যাওয়ার সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আমির হামজার গাড়িবহর ছয় রাস্তার মোড় অতিক্রম করার সময় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও পাল্টাপাল্টি স্লোগান শুরু হয়। একপর্যায়ে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি শুরু হলে আমির হামজার গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায়। গাড়ির আরও কয়েক জায়গায় ইটের আঘাত লাগে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যরা এগিয়ে আসে। প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। এতে ছয় রাস্তার মোড় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পথচারীদের মধ্যে ছোটাছুটি শুরু হয়।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, ‘আমরা সাথেই ছিলাম। এরই মধ্যে হঠাৎ করে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এমপি সাহেব বাড়িতে আছেন। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে আছে।’

এদিকে আমির হামজার মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত তানভীর হোসাইন অভিযোগ করেন, গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা আমির হামজার গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে তিনি নিজেও পায়ে আঘাত পেয়েছেন বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন দাবি করেছেন, মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিলের সময় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। এতে ৪০ থেকে ৫০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

এ ঘটনায় পরে শহরের হাইস্কুল মার্কেট এলাকায় গণ অধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয় এবং হরিপুর সংযোগ সেতুর নিচে দলটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেকের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার বলেন, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা গিয়ে দুই পক্ষকেই সরিয়ে দিয়েছেন। বিএনপি কখনোই মারামারি চায়নি। আমির হামজা সম্প্রতি গণ অধিকার পরিষদ ও বিএনপিকে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহফুজ ইকরাম

প্রিন্ট করুন