বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও গাইবান্ধাকে নিয়ে নতুন বিভাগ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চার জেলার জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন রয়েছে এবং সরকার বিষয়টি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “পাঁচ জেলার সমন্বয়ে একটা মিটিংয়ে গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ এবং সিরাজগঞ্জের সমস্ত এমপি ও মন্ত্রীরা এসে অকুণ্ঠভাবে সমর্থন দিয়ে গেছেন যেন বগুড়া নতুন একটা বিভাগ হয়।”
বগুড়াকে বিভাগ করার উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
বগুড়াকে বিভাগ করার দীর্ঘদিনের দাবির মধ্যে পাঁচ জেলার সমন্বিত উন্নয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এই সভায় বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
শনিবার সন্ধ্যায় বগুড়া জেলা প্রশাসন অডিটোরিয়ামে ‘বষবগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, “চার জেলা নিয়ে যদি সিলেট, বরিশাল বা ফরিদপুরের (প্রস্তাবিত) মতো বিভাগ থাকতে পারে, তবে উত্তরাঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক হাব হিসেবে বগুড়া অবশ্যই একটা বিভাগ হতে পারে।”
সভায় বলা হয়, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণে বগুড়াকে ঘিরে একটি নতুন বিভাগ গঠনের দাবি দীর্ঘদিনের।
সভায় বগুড়ার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “গাবতলী-সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ হয়ে টাঙ্গাইলের সঙ্গে এই সেতু যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সেতু নির্মাণ হলে ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগে সময় ও অর্থনৈতিক দূরত্ব কমবে।”
বগুড়া শহরের যানজট নিরসনে রেললাইন ঘিরে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, শহরের ওপর দিয়ে সড়ক চলাচল এবং নিচ দিয়ে ট্রেন চলাচলের জন্য ওভারপাস ও রেলপথের নকশা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন মীর শাহে আলম।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বগুড়া জেলার থানাগুলোর জন্য অন্তত ২০টি নতুন পুলিশের গাড়ি সরবরাহের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গাবতলী ও আদমদীঘি থানার পাশাপাশি জেলার অন্য ১০টি থানাকেও মডেল থানায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডিএ) খসড়া আইন মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। বগুড়া সিটি করপোরেশনকে মেট্রোপলিটন পুলিশিং ব্যবস্থার আওতায় আনার কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
বগুড়ার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান তৈরি এবং এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও সভায় জানানো হয়।
মীর শাহে আলম জানান, উন্নয়নকাজে নতুন ঠিকাদারদের সুযোগ দিতে ২০০৮ সালের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর) সংশোধন করা হচ্ছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংশোধিত বিধিমালা জারি হতে পারে। নতুন বিধিমালা জারি না হওয়া পর্যন্ত উন্নয়নকাজের টেন্ডারে না যেতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বগুড়া-১ থেকে ৭ আসনের সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ.ন.ম. বজলুর রশীদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ উজ্জ্বল হোসাইনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬ । ২:৪৮ অপরাহ্ণ