প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার কোনোভাবেই কোনো চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না। আমরা সরকারি ও বিরোধী দল কোনো কোনো বিষয়ে দ্বিমত করলেও অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি। উগ্রবাদ ও চরমপন্থাকে প্রশ্রয় না দেওয়ার প্রশ্নে বিরোধী দলের সম্পূর্ণ সহযোগিতা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের (বাজেট অধিবেশন) সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদের রীতি অনুযায়ী বিরোধী দলের সঙ্গে আমাদের মধ্যে মতভিন্নতা থাকবে। তবে অবশ্যই শত্রুতা নয়। প্রতিহিংসা-প্রতিশোধের পরিবর্তে থাকবে ন্যায়পরায়ণতা। বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে একমত হয়ে বলবো- এই বাংলাদেশ আর যাতে কখনো কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদ স্বৈরাচার মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। আর যাতে এই প্রিয় মাতৃভূমি তাঁবেদার তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হতে না পারে- এই প্রশ্নে বিরোধী দল এবং সরকারি দলের মধ্যে রয়েছে জাতীয় ঐক্য। যেকোনো মূল্যে এই জাতীয় ঐক্য অটুট এবং বজায় থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
নতুন কর্মসংস্থান তৈরির আশা প্রকাশ করে সংসদ নেতা বলেন, ভবিষ্যতে আমরা যদি স্বৈরাচার-তাঁবেদার রুখতে চাই; তাহলে অবশ্যই রাষ্ট্র ও জনগণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে। বর্তমান সরকার কেবল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সহযোগিতার জন্য কার্ড প্রদান করবে তা নয়, আর্থিক সক্ষমতা আমরা অবশ্যই তৈরি করব। একই সঙ্গে আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সেজন্য আমরা বিভিন্ন সেক্টরে ভাগ করে পরিকল্পনা নিয়েছি, যার ফলে আশা করি আমরা কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবো।
বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করে তারেক রহমান বলেন, আমাদের শহীদরা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, সেখানে ন্যায়বিচার ও ন্যায়পরায়ণতা হবে শেষ কথা। যে বাংলাদেশে ধনী-গরিব কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না। সেই বাংলাদেশে চরমপন্থা বা উগ্রবাদের ঠাঁই হবে না। এই বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে কেউ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করবে না। শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে এই বিষয়গুলোর প্রতি আমাদের অবশ্যই নজর দিতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচিত এই সরকারের লক্ষ হচ্ছে জনগণ, জনগণ এবং বাংলাদেশের জনগণ। বর্তমান সরকার চায়, বাংলাদেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে। যেখানে সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ ন্যূনতম রাষ্ট্রীয় সেবা পাবেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ অন্যান্য কাজগুলো আমরা শুরু করেছি। আমরা সব কার্ড পর্যায়ক্রমিক সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ধীরে ধীরে কাজ শুরু করেছি। এই সবগুলো কার্ডকে এক সময় আমরা ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’ নামে একটি কার্ডের মধ্যে নিয়ে আসতে চাই এবং আমরা সেটা করবো।
বক্তব্যের শুরুর দিকে সংসদ নেতা মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের সিপাহী বিপ্লব, ২০১৩ শাপলা চত্বরে গণহত্যা, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারী আন্দোলন, ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ফ্যাসিবাদ সরকারের সময়ে শহীদ ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করেন।
বাজেট অধিবেশনের সমাপনীকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বাজেট নিয়ে যারা চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন তারাও বলেছেন এই বাজেটটি জনবান্ধব। এই বাজেটের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে আমি সরকারি প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা কামনা করি। তিনি বলেন, জনগণের কাঙ্ক্ষিত এই সংসদ প্রত্যেক সংসদ সদস্যের প্রচেষ্টায় জনগণের সংসদ হয়ে উঠেছে। আজও দেখেছি বিল উপস্থাপনকে কেন্দ্র করে সংসদের উভয়পাশ প্রাণবন্ত আলোচনা করেছে। আলোচনা করে যে যার চিন্তা উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য। সংসদে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬ । ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ